শরীরের নড়াচাড়ার কিছু স্বাভাবিক ছন্দ আছে। কোনোভাবে সেই ছন্দ নষ্ট হলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। আর তখনই ফিরতে হয় পুরনো যুগে। হাঁটু মুড়ে বসা (স্কোয়াট), লাফানো (লানজ), শরীর বাঁকানো বা নিচু হয়ে মাঠি থেকে কিছু তোলা, ওজন নিয়ে হাঁটা, ঠেলা টানা ও খুব দ্রুত কিছু করা—বিশেষজ্ঞদের মতে সুস্থ শরীরকে এই সাত ধরনের নড়াচড়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়। স্বাভাবিক জীবনযাত্রার জন্য জরুরি ব্যায়াম সম্পর্কে আমরা গত সংখ্যায় জেনেছি, এবার জেনে নেব অন্যগুলো।

লাফানো : কোনো বাক্স বা চেয়ারের ওপর লাফিয়ে উঠুন। একসঙ্গে ১৫ বার লাফিয়ে ওঠার পর ১৫ সেকেন্ড বিশ্রাম নিয়ে আবার ১৫ বার লাফিয়ে উঠুন। এভাবে তিনবার করতে হবে। এ ব্যায়ামে এক্সপ্লোসিভ লেগ স্ট্রেংথ বাড়ে।

পুশ আপ ও পুল আপ : আনুভূমিকভাবে ঝোলানো কোনো রড ধরে পুল আপ করুন। কোনো বিরতি ছাড়া মাটিতে মেনে পুশ আপ করুন। আবার পুল আপ করুন। এতে দুই দিকের কাঁধের ক্যাপসুলের বিকাশ হয় এবং স্ক্যাপুলার পেশির ভারসাম্য বজায় থাকে। আরো বেশি কিছু করতে চাইলে পুশ আপের সময় কোনো দেয়ালে ১২ ইঞ্চি ওপরে পা রাখুন।

ওয়াল স্কোয়াট : এটি ১৫ বার করতে হবে। পিঠ, নিতম্ব ও পায়ের পেশির জোর বাড়াতে সাহায্য করে।

সিঁড়িতে হামাগুড়ি : স্পাইডারম্যান স্টাইলে হামাগুড়ির মাধ্যমে সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠতে হবে। ১৫ থেকে ২০ সেকেন্ড ওঠার পর ৩০ সেকেন্ড বিশ্রাম নিলে ভালো হয়। এভাবে তিন থেকে চারবার করতে হবে। এতে তলপেটের পেশির ব্যায়াম হবে। ফুসফুস ও হৃদপিণ্ড জোরে চলবে।

গাছে ওঠা : আদিম যুগে হিংস্র জানোয়ারদের হাত থেকে রেহাই পেতে মানুষকে গাছে চড়তে হতো। এখন আর এর দরকার পড়ে না। শরীর সুস্থ রাখার জন্য গাছে ওঠাও দরকার। শুরুতে সরাসরি গাছে উঠতে গেলে বিপদ হতে পারে। এ কারণে দড়িতে ঝুলে অভ্যাস করা যেতে পারে। তারপর ধীরে ধীরে গাছে চড়ার অভ্যাস করতে হবে।

জগিংয়ের বদলে দৌড়ান : অনেক সময় জগিং বা ধীরে ধীরে হাঁটায় কোনো ফল পাওয়া যায় না। জিমে লম্বা সময় ধরে ট্রেডমিল করলেও লাভ হয় না। তার থেকে অল্প সময় দৌড়ানো বা তাড়াতাড়ি হাঁটায় অনেক উপকার পাওয়া যায়। কয়েক সেকেন্ড বিশ্রাম নিয়ে আবার দৌড়ান। এভাবে চার থেকে পাঁচবার করলে ভালো।