প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :জালিয়াতির মাধ্যমে ১৬৫ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে এবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এম ওয়াহিদুল হকসহ ব্যাংকটির শীর্ষ তিন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার দুদকের সহকারি পরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রাধান অভিযান চালিয়ে আসামীদের গ্রেপ্তার করেন। এর আগে দুদকের এই সহকারি পরিচালক বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় ব্যাংকটি সাবেক চেয়ারম্যান ও দুই ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

সিঙ্গাপুর ও দুবাইভিত্তিক কম্পানি পিনাকল গ্লোবাল ফান্ডের (পিজিএফ) সঙ্গে মিলে বিনিয়োগের নামে এবি ব্যাংকের ১৬৫ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে রাজধানীর মৎস্য ভবন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে দুদক। গ্রেপ্তারকৃত অপর দুই কর্মকর্তা হচ্ছেন হেড অব কর্পোরেট ট্রেজারী আবু হেনা মোস্তফা কামাল ও বিএনপির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোর্শেদ খানের মেয়ের জামাতা মো. সাইফুল হক।

দুদকের অভিযানে গ্রেপ্তারকৃত তিনজন ছাড়াও মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন, এবি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম আহমেদ চৌধুরী, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুর রহমান, হেড অব অবিইউ মো. লোকমান, ভিপি হেড অব কর্পোরেট মোহাম্মদ মাহফুজ উল ইসলাম সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. নুরুল আজিম। আসামিরা পরস্পর যোগসাজশ করে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রত ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচারের অভিযোগের তথ্য প্রমাণ পাওয়ার পরপরই দুদক মামলা করে।

দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য কালের কণ্ঠকে বলেন, দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে দুই সদস্য বিশিষ্ট অনুসন্ধানটি অনুসন্ধান করেন। অনুসন্ধান শেষে অর্থ পাচারের প্রমাণাদি পেয়ে সম্প্রতি কমিশনে অনুসন্ধান প্রতিবেদনটি জমা দেয়া হয়। কমিশন প্রতিবেদনটি যাচাই-বাছাই শেষে মামলার অনুমোদন দেয়। পরে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধান থানায় মামলা করে এবং মামলার পর অভিযান চালিয়ে ঢাকার রমনা মৎস্যভবন এলাকা থেকে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, এ বি ব্যাংকের দুই কোটি ডলার ও পিনাকলের আট কোটি ডলার মিলিয়ে ১০ কোটি ডলারের একটি তহবিল গঠন করে তা দুবাইয়ে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ২০১৩ সালে। এরপর ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি না নিয়েই এবি ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট থেকে দুই কোটি ডলার পাঠিয়ে দেওয়া হয় আবুধাবির একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। ওই বিনিয়োগ এবং অর্থ আত্মসাতের পেছনে ব্যাংকের গ্রাহক আটলান্টিক এন্টারপ্রাইজের সাইফুল হক এবং তার বন্ধু দুবাইয়ের নাগরিক খুররম আবদুল্লাহর ভূমিকা ছিল। অর্থ পাচারের সময় নেপথ্যে কাজ করেছিলেন ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান ওয়াহিদুল হক। বিএনপি নেতা এম মোর্শেদ খানের মেয়ের জামাতা সাইফুল হক স্কাই এভিয়েশন সার্ভিসেস লিমিটেড নামের আকেটি কম্পানির পরিচালক, তার ওই কম্পানি বাংলাদেশে ফ্লাই দুবাইয়ের এজেন্ট।