প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :   মানালি-লেহ হাইওয়ে পৃথিবীর অন্যতম আকর্ষণীয় একটা রাইড একথা আমরা সবাই কম-বেশী জানি। যখন মানালি থেকে লেহ যাচ্ছিলাম, কয়েক হাজার ফুট উঁচু, ভীষণ ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা আর ভয়াবহ হাজার বাঁক পেরিয়ে যাচ্ছিলাম, আর মুগ্ধ চোখে দেখছিলাম, চারপাশের পাহাড়, পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে নানা রকম ঝর্ণা, বয়ে চলা নদী, কোথাও সবুজ, কোথাও রুক্ষ আর কোথাও সাদা পাহাড়ের সারি, সবচেয়ে ভালো লাগছিল এতো হাজার ফুট উপর দিয়ে চলে যাওয়া রাস্তার মসৃণতা দেখে।

 

 

দারুণ ঝকঝকে আর খাদহীন রাস্তা দেখে। সবাই মিলে এমন দুর্গম জায়গায় এমন মিহি রাস্তার প্রশংসা করছিলাম। কি অদ্ভুত উপায়ে আর কতটা শ্রম দিয়ে করতে হয়েছে এই দুর্ধর্ষ রাস্তা আর করতে হচ্ছে তার রক্ষণাবেক্ষণ। এভাব আমরা প্রায় ১৫০ কিলোমিটার চলে গেলাম মানালি থেকে কেলং পেরিয়ে জিসপার দিকে।

 

 

 

জিসপা থেকে আরও সামনে যাবার রাস্তায় হঠাৎ চোখে পড়লো, বেশ কিছু শ্রমিক পাহাড়ের খাঁজে, রাস্তার পাশে শুয়ে বসে বিশ্রাম নিচ্ছে। কেউ কেউ রাস্তা নানা রকম কাজ করছে। আর একটু সামনে গিয়ে দেখলাম অনেক শ্রমিক মিলে পাহাড়ের পাথর কেটে কেটে রাস্তা সংস্কার করছে। কেউ পিচ ঢালছে, কেউ পাথর সাইজ করছে, কেউ মাটি ঠিক করে পাথর বসিয়ে দিচ্ছে।

 

 

 

তখন মনে মনে ভাবলাম আমরা যে রাস্তায় এতো আরামে, হৈ চৈ করতে করতে বিনোদন করতে যাচ্ছি, সেই রাস্তাতেই কেউ কেউ শুয়ে বসে বিশ্রাম নিচ্ছে, কেউ কেউ রাস্তার সংস্কার করছে, কেউ রাস্তার কাজে তদারকি করছে। দিনরাত কত কষ্ট করে চলেছে আমাদের মত বিলাসী ভ্রমণকারীদের ভ্রমণকে আনন্দঘন, নিরাপদ আর নিশ্চিত করার জন্য।

 

 

 

 

যদি এটাই ওদের কাজ, যার যেমন যোগ্যতা, সে তেমন কাজ করে জীবন ধারণ করে চলেছে। কেউ রাস্তার কাজ করে তাদের জীবিকা নির্ধারণ করে চলেছে, কি জীর্ণ তাদের পরনের প্যান্ট, টিশার্ট, জ্যাকেট বা এই জাতীয় গরম কাপড়, ছেড়া-ফাটা ভাঙা বুট জুতা, যাতে তেমন একটা শীত যায়না, সেটাও এই রুক্ষ শীতের ভয়াবহ ঠাণ্ডা আবহাওয়ায়।

 

 

 

 

শীতে কুঁকড়ে থেকে। আর কেউ সেই রাস্তা দিয়ে আনন্দ ভ্রমণ করে জীবনকে দারুণভাবে উপভোগ করছে। দামী গাড়িতে, ব্র্যান্ডের গরম কাপড়ে আর তারচেয়েও বিলাসী জুতা পরে। এটাই জীবন আর এটাই বাস্তবতা। এই ভেবেই সামনের দিকে চলছিলাম আমাদের আরামের গাড়িতে করে হেলে দুলে আর হাসি আনন্দে।