প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুর হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়নি। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) কোনো প্রতিবেদন দাখিল না করায় আগামি  ২২ এপ্রিল পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে। আজ রবিবার পুরানো ঢাকায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় কারাগারের (বর্তমানে পরিত্যাক্ত) পাশে অস্থায়ী এজলাসে প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রদীপ কুমার রায় এই দিন ধার্য করেন।

এই মামলাটি রায়ের পর্যায়ে থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপক্ষ অধিকতর তদন্তে পাঠানোর আবেদন করে। আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আসাদুজ্জামান খান রচি আবেদনে বলেন, ‘সঠিক তদন্ত করা হয়নি। সাক্ষী হিসেবে অনেককেই বাদ দিয়ে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা প্রমাণের লক্ষ্যে  মামলাটি অধিকতর তদন্তে পাঠানো প্রয়োজন।’

২০১৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি বিচারিক আদালত রাষ্ট্রপক্ষের এ আবেদন মঞ্জুর করেন। মামলাটি অধিকতর তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।

এ মামলাটি দায়েরের পর দীর্ঘ ১৯ বছর মামলাটির বিচার বিভিন্ন কারণে ঝুলেছিল। পর্যায়ক্রমে ২২ জন বিচারক বিভিন্ন কারণে বদলি হন।

২৩তম বিচারক হিসেবে ২০১৪ সালের ২২ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের মধ্যে দিয়ে এ মামলার কার্যক্রম শেষ হয়। বর্তমান এজলাসে বসেই ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হোসনে আরা আক্তার ওই বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি মামলায় রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। ওই সময় মামলার প্রধান আসামি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদসহ অপর দুই আসামি মেজর (অব.) কাজী এমদাদুল হক ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোস্তফা কামাল উদ্দিন ভূইঞা উপস্থিত ছিলেন।

মামলায় বিচার চলাকালে চার্জশিটভুক্ত ৪৯ সাক্ষীর মধ্যে ২৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এরপর ২০১২ সালের ২ অক্টোবর আত্মপক্ষ সমর্থন করে নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেন প্রধান আসামি সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এর সমর্থনে আদালতে লিখিত বক্তব্যও দাখিল করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক সেনা অভ্যুত্থানে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন। তখন চট্টগ্রামে অবস্থিত সেনাবাহিনীর ২৪তম পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার স্টাফ (জিওসি) ছিলেন আবুল মঞ্জুর। জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর আত্মগোপনে যাওয়ার সময় মঞ্জুরকে আটক করে পুলিশ। এরপর ওই বছরের ২ জুন মেজর জেনারেল মঞ্জুরকে পুলিশ হেফাজত থেকে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে তার মরদেহ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং মৃত্যুর সনদপত্র পেতে দেরি হওয়ায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৪ বছর পর ১৯৯৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মঞ্জুরের ভাই আইনজীবী আবুল মনসুর আহমেদ চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা করেন। ১৯৯৫ সালের ২৭ জুন এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাহার আকন্দ সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদসহ পাঁচজনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দেয়।

এরপর চার্জশিটভুক্ত দুই আসামি মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল লতিফ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) শামসুর রহমান শমসেরের বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিত থাকে।