প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে যেখানে-সেখানে সাজা দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়ে হাইকোর্ট বলেছেন, এটি কোন ধরনের খেলা চলছে? গতকাল রবিবার বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় পুলিশ হেফাজতে থাকা ফৌজদারি মামলার এক আসামিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সাজা দেওয়ার ঘটনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, থানার ওসিসহ চারজনের বিষয়ে শুনানির সময় আদালত এ মন্তব্য করেন। গতকাল রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। অন্যদিকে আদালতে তলব করা ব্যক্তিদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ফারজানা শারমিন ও মোকবুল আহমেদ। শুনানি শেষে আজ সোমবার আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট।

আদালত বলেন, ‘পুলিশ হেফাজতে থাকা ব্যক্তিকে সাজা দেওয়ার ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট কিভাবে অন্ধ থাকেন? পুলিশ থাকতে পারে, তা না হয় বুঝলাম। কিন্তু ১৩ অক্টোবর আটক করে তারপর জেলখানায় নিয়ে পরদিন ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয় কী করে?’

এরপর তলব করা লোহাগাড়ার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, থানার ওসি ও দুই এসআইয়ের পক্ষের আইনজীবী ফারজানা শারমিন ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সাজার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। সেই শুনানির পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বলেন, ‘অন্য মামলায় গ্রপ্তোর করলে নিয়ে যাবেন আদালতে। তা না নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সাজা দিলেন?’

এ সময় আইনজীবী মনজিল মোরসেদ লোহাগাড়ার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ইঙ্গিত করে আদালতকে বলেন, ‘ওনাদের মতো ব্যক্তিদের কারণে সাধারণ মানুষ ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর আস্থা হারিয়েছে। এ কারণেই বিষয়টি আদালত পর্যন্ত এসেছে। তাই ওই কর্মকর্তাকে ম্যাজিস্ট্রেসি না দেওয়ার আবেদন করছি এবং ওসি দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হয়েও এমন ঘটনা ঘটানোয় তাঁকে প্রত্যাহারের আবেদন করছি।’

দুই পুরিয়া গাঁজাসহ হাতেনাতে ধরার অভিযোগে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া আধুনগরের বাসিন্দা মো. বেলাল হোসেনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত গত ১৪ অক্টোবর আট মাসের সাজা দেন। সেই সাজার বৈধতা চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ দাবি করে মনজিল মোরসেদ হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।