প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :অপহরণের ‘মিথ্যা তথ্য’ দেওয়ার অভিযোগে পুলিশের করা মামলায় ফরহাদ মজহার ও তাঁর স্ত্রী ফরিদা আখতারকে আট সপ্তাহের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল সোমবার ফরহাদ মজহার দম্পতির জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন। তাঁদের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম। পুলিশের মামলায় ফরহাদ মজহার দম্পতিকে ৩০ জানুয়ারি হাজির থাকতে গত বছর ৩১ ডিসেম্বর আদেশ দিয়েছিলেন ঢাকার হাকিম আদালত। ফরহাদ মজহার দম্পতির বিরুদ্ধে গত বছর ২৮ ডিসেম্বর পুলিশের করা মামলা আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন হাকিম আদালত।

গত বছর ৩ জুলাই সকালে রাজধানীর শ্যামলীর বাসা থেকে বের হন ফরহাদ মজহার। এরপর তাঁর নিখোঁজ হওয়ার খবর প্রচারিত হয়। ওই দিনই ফরিদা আখতার তাঁর স্বামীকে অপহরণের অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন, যা পরে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। ১৮ ঘণ্টা পর গভীর রাতে নাটকীয়ভাবে যশোরে একটি বাস থেকে ফরহাদ মজহারকে উদ্ধার করার কথা জানায় র‌্যাব ও পুলিশ। তাঁকে উদ্ধারের পর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলেছিলেন, ফরহাদ মজহার নিজেই অপহরণের ‘নাটক’ করেছিলেন বলে তাঁরা মনে করছেন। তবে ফরহাদ মজহার আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে অপহরণের দাবি করে বলেন, তাঁকে অপহরণ করে খুলনায় নেওয়া হয়েছিল।

এ বিষয়ে তদন্ত শুরুর পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ গত বছর ১০ জুলাই ঢাকার আদালতে অর্চনা রানি নামে এক নারীকে হাজির করে। এ নারী নিজেকে ফরহাদ মজহারের ‘শিষ্য’ দাবি করে জবানবন্দি দেন। তিনি বলেন, ফরহাদ মজহার তাঁর জন্য অর্থ জোগাড় করতেই বেরিয়েছিলেন এবং ১৫ হাজার টাকাও পাঠিয়েছিলেন।

ওই মামলায় পুলিশ গত বছর ১৪ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় আদালতে। পাশাপাশি মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে মজহার দম্পতির বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করার অনুমতি চায় পুলিশ। আদালতের অনুমতি পাওয়ার পর মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে ফরহাদ মজহার দম্পতির বিরুদ্ধে গত বছর ২৮ ডিসেম্বর ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মাহাবুবুল ইসলাম মামলা করেন।