প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গুলি ভর্তি পিস্তলসহ ফারমার্স ব্যাংকের পরিচালক আজমত রহমান ধরা পড়ার ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ায় হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার(এসপি) বিধান ত্রিপুরাকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি তাকে আদালতে হাজির হয়ে ওই ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। অস্ত্র আটকের সময় পুলিশের উত্তরা জোনের উপ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন বিধান ত্রিপুরা।

এর আগে গত ২৪ জানুয়ারি হাইকোর্ট এই ঘটনায় বিমানবন্দর থানার ওসি নূর-ই-আজম মিয়া ও সংশ্লিষ্ট এসআই সুকান্ত সাহাকে ভৎর্সনা করেন আদালত। এই দুই পুলিশ কর্মকর্তার পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনকে উদ্দেশ্য করে আজ মঙ্গলবার আদালত বলেন, অস্ত্র আইনটা দেখুন। আদালতের নির্দেশনা ছাড়া পুলিশ আসামিকে ছাড়ে কেমন করে? আইন অনুসারে না হয়ে যদি টেলিফোনেই সব হয়ে যায়, তাহলে চলবে কিভাবে? পত্রিকায় এসেছে যে এই বিধান ত্রিপুরার মৌখিক নির্দেশেই সেদিন আজমত রহমানকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।

হাইকোর্ট গত বছরের ১২ ডিসেম্বর স্বতঃপ্রনোদিত হয়ে এক আদেশে পুলিশ কর্মকর্তাদের তলব করেন। তাদের চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি হাজির হতে বলা হয়। কিন্তু এদিন ছুটি থাকায় ২৪ জানুয়ারি বিমানবন্দর থানার ওসি ও সংশ্লিষ্ট এসআই হাজির হয়ে আইনজীবির মাধ্যমে নিঃশর্ত ক্ষমার আবেদন করেন। এ সময় আদালত তাদের ভৎর্সনা করেন। পাশাপাশি তাদের ৩০ জানুয়ারি আদালতে হাজির থাকতে বলা হয়। কিন্তু আজ ওসি ও সংশ্লিষ্ট এসআই হাজির হলে আদালত বিধান ত্রিপুরাকে তলব করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, বিদেশ যাবার প্রাক্কালে গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে গুলি ভর্তি পিস্তলসহ ফারমার্স ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান ড. আতাহার উদ্দিনের ছেলে ব্যাংকটির পরিচালক আজমত রহমান ধরা পড়েন। কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই তিনি পিস্তল নিয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন পর ১০ ডিসেম্বর সংবাদপত্রে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর দুইদিন পর ১২ ডিসেম্বর বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হলে আদালত রুল জারি করেন ও দুই পুলিশকে তলব করেন।

তিনি আরো জানান, রুলে নিষিদ্ধ এলাকায় গুলি ভর্তি পিস্তলসহ ধরা পড়ার পর তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আদালতে সোপর্দ না করায় কেন ব্যাখ্যা দিতে ওসি এবং এসআইকে স্বশরীরে আদালতে হাজির হবার নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়।