প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :    ভারতের শীর্ষ ধনী মুকেশ আম্বানি। সম্প্রতি হিন্দুস্তান টাইমস লিডারশিপ সামিটে বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের উত্থান ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

তাঁর আলোচনার বিষয় ছিল ‘কেন ভারত বিশ্বনেতা হবে’। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, ২০৩০ সাল নাগাদ ভারতের বর্তমান জিডিপির আকার ২.৫ ট্রিলিয়ন থেকে তিন গুণ বেড়ে হবে ৭ ট্রিলিয়ন ডলার। পাশাপাশি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও ভারতের ব্যবধান মিলিয়ে যাবে।’ এ ভবিষ্যদ্বাণী অনেকটাই নিশ্চিত মনে হচ্ছে। কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে ২০২৪ সালের মধ্যে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের কাছাকাছি চলে যাবে ভারত।

সম্মেলনে আম্বানি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আগামী তিন দশক হবে ভারতের। ২১ শতকের মাঝামাঝিতেই চীনকে ছাড়িয়ে যাবে ভারত। একই সঙ্গে বিশ্বের কাছে আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।’ তিনি বলেন, গত তিনটি শিল্প বিপ্লবের ধারাবাহিকতায় চতুর্থ শিল্প বিপ্লব হবে ভারত থেকেই। এর মধ্য দিয়েই ভারত নেতৃত্বের আসনে বসবে।

তাঁর মতে, পরবর্তী শিল্প বিপ্লবের ভিত হচ্ছে ডাটা কানেক্টিভিটি, কম্পিউটিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। মুকেশ আম্বানি বলেন, ‘তিনটি কারণে আমি মনে করি চতুর্থ শিল্প বিপ্লব হবে ভারতের নেতৃত্বে। প্রথমত, ভারত হচ্ছে তরুণদের একটি দেশ। এখানে জনসংখ্যার ৬৩ শতাংশই ৩৫ বছরের কম বয়সী। আমাদের তরুণরা খুব দ্রুতই প্রযুক্তি বুঝে নিতে পারে। তাদের মেধা, আইডিয়া এবং উদ্যোক্তা হওয়ার শক্তি আছে। তারা বড় স্বপ্ন দেখার সাহস রাখে এবং তা বাস্তবায়নেরও ক্ষমতা রাখে। আমার কোনো সন্দেহ নেই, এরাই ভারতকে বিশ্বের শীর্ষ স্টার্ট-আপ দেশে পরিণত করবে।

দ্বিতীয়ত, ঐতিহাসিকভাবে আমাদের প্রযুক্তিগত অবকঠামোর অভাব একধরনের আশীর্বাদ। উত্তরাধিকার সূত্রে আমাদের প্রযুক্তিগত ভিত না থাকার অর্থ হচ্ছে আমাদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজন নেই। আমরা চাইলেই একাধিক প্রজন্মের প্রযুক্তি এড়িয়ে সরাসরি পরবর্তী প্রজন্মের সঙ্গে যুক্ত হতে পারি।

তৃতীয়ত, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে আমাদের রাজনীতিতে স্বপ্ন আছে। আছে নেতৃত্ব, দৃঢ়তা এবং ভারতকে প্রযুক্তির নেতৃত্বে তুলে আনার সক্ষমতা। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল ভারতের ভিশন সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতৈক্য সৃষ্টি করেছে। সবাই ভারতকে পযুক্তির নেতৃত্বে দেখতে চায়। ’

ভারতের এই শীর্ষ ধনী বলেন, ‘বিশ্বে ক্রমান্বয়ে নেতৃত্বের পরিবর্তন ঘটছে। এখন সময় ভারত ও চীনের। বর্তমানে পুরো বিশ্বই চীন ও ভারতের উত্থান নিয়ে কথা বলছে। এটা হচ্ছে এ দুই দেশের জন্য সভ্যতার পুনর্জন্ম। ফলে এ নিয়ে আমি বিস্মত নই। মানবজাতির দীর্ঘ ইতিহাসে দেখা যায়, ১৭ শতকের পূর্বে ভারত ও চীন ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধ জাতি। পশ্চিমা শাসনের ৩০০ বছর পার করে এ দুই দেশ আবারও অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।’ তিনি বলেন, ভারত হবে একটি ভিন্ন ও শ্রেষ্ঠ উন্নয়ন মডেল। যেখানে প্রযুক্তিকে ভিত্তি করে তৈরি হবে সম ও সুসংহত প্রবৃদ্ধি। থাকবে গণতন্ত্র, সুশাসন এবং বৈচিত্র্যময় ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সংস্কৃতি।

মুকেশ আম্বানি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও এমডি। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৪২ বিলিয়ন ডলার। ফোর্বস ম্যাগাজিনের হিসাবে, তিনি ভারতের শীর্ষ ধনী। বিজনেস টুডে।