প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট : বড় ধরনের আমদানির পরও গত কয়েক মাসে চালের দাম বাড়ার ফলে দেশের পাঁচ লাখ ২০ হাজার মানুষ দরিদ্র হয়েছে। আর দরিদ্র সীমার আশপাশে যারা ঘুরাফেরা করে এমন মানুষরাই এ সীমায় এসেছে। সাধারণত তারা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারে না। এছাড়া আগামী বছর বিশ্ব বাজারে কমদামি চালের দাম আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে দেশে সামনে চাল নিয়ে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। তাই এ সংকট মোকাবেলায় এখনই চালের জন্যে প্রয়োজনীয় নীতিমালা এবং বন্দর থেকে দ্রুত চালের জাহাজ খালাস করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার রাজধানীর মহাখালির ব্র্যাক ইনে অনুষ্ঠিত সাঊথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং(সানেমের) ‘বাংলাদেশের অর্থনীতির ত্রৈমাসিক পর্যালোচনা’ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন এ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সানেমের নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক মাস গুলোতে চালের আমদানি বেড়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জুলাই-সেপ্টেম্বরে চালের আমদানি ছিল ৩৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের একই সময়ে বেড়ে দাড়ায় ২ হাজার ৯১২ কোটি টাকা। শুধুমাত্র ২০১৭-১৮ সালে প্রথম তিন মাস যে পরিমাণ চাল আমদানি করা হয়েছে তা গত অর্থবছরের প্রায় ৫ গুণ।

বড় ধরনের আমদানির পরও চালের দাম বেড়েছে এবং এখনও বাড়ছে উল্লেখ করে সানেমের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, অর্থনেতিক মডেল ব্যবহার করে দেখা গেছে, এ বছর চালের মূল্যে বৃদ্ধির কারণে দারিদ্রের হার শূণ্য দশমিক ৩২ শতাংশ পয়েন্ট বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার মানে এ বছর চালের মূল্য বাড়ার কারণে ৫ লাখ ২০ হাজার মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়েছে।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধির হার কমেছে উল্লেখ করে বলা হয়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জুলাই নভেম্বর পর্যন্ত রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ। তৈরি পোশাক খাতে ৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিবন্ধিত হয়েছে। এছাড়া চামড়া শিল্পকে বছরের পন্য হিসেবে ঘোষণা করা হলেও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে রপ্তানি ২ দশমিক ৯৫ শতাংশ  কম হয়েছে।

২০১৬-১৭ সালসহ গত কয়েক বছর ধরে দেশের রেমিটেন্স অধঃগতি লক্ষ্য করা যায়, তবে ২০১৭-১৮ সালে এর জুলাই -নভেম্বর সময়ে ২০১৬-১৭ সালের একই সময়ের তুলনায় রেমিটেন্স প্রায় ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তার পরও ২০১৫-১৬ এর সমসাময়িক সময়ের তুলনায় ৬.৬ শতাংশ কম। তবে ২০১৮ সালে রেমিটেনস বাড়ার একটি উজ্জল সম্ভাবনা রয়েছে।

আর্থিক খাতের ভঙ্গুর অবস্থার কথা তুলে ধরে সানেমের প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্থনীতিকে টেকসই করতে হলে ভঙ্গুর ব্যাকিং অবস্থা নিয়ে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এজন্যে রাজনৈতিক সদিচিছা ও বাংলাদেশ ব্যাংককে আরো শক্তিশালী করা এবং এ খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

অর্থনীতির ৫টি চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালে বাংলাদেশে অর্থনীতির জন্য ৫টি চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। সেগুলো হলো জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক অনিশ্চিয়তার কারণে বেসরকারী খাতে বিনিয়োগ আরো কমবে। চলমান খাদ্যে মূল্যে স্ফিতি, টেকসই লক্ষ্যমাত্রা উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাওয়া, রপ্তানি ও রেমিটেন্স বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ এবং সর্বশেষ ব্যাংকিং খাত পরিচালনায় অনিয়মের প্রতিকার করা।