প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট : বাইসাইকেল, ভেষজ পণ্য উৎপাদনকারী (হারবাল) খাতকে নতুনভাবে দ্রুত বর্ধনশীল সম্ভাবনাময় শিল্প খাত হিসেবে চিহ্নিত করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়। ভবিষ্যতে প্রণীত শিল্পনীতিতে অগ্রাধিকার খাতের তালিকায় ‘অপ্রচলিত’ এসব খাতকে অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়ে এসব খাত থেকে রপ্তানি আয় বাড়াতে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে রাজস্ব সুবিধাসহ বিভিন্ন সহায়তা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দ্রুত বর্ধনশীল খাত হিসেবে বাইসাইকেল, ভেষজ পণ্য উৎপাদনকারী (হারবাল) খাতকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব খাতে বিশেষ নজরদারি ও দেখভাল করা হবে। আশা করছি এসব উদীয়মান খাত থেকে আরো রপ্তানি আয় বাড়বে, নতুন নতুন কারখানা সৃষ্টি হবে। ফলে নতুন কর্মসংস্থান বাড়বে। ’ তিনি আরো বলেন, অনেক অপ্রচলিত খাতে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। এসব খাতে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

শিল্পমন্ত্রী আরো বলেন, গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে শিল্পনীতি প্রণয়ন করা হয়।

চলতি মেয়াদে অনেক নতুন খাত অন্তর্ভুক্ত করে শিল্পনীতি প্রণীত হয়। আগামী মেয়াদে সরকার গঠনের পর শিল্প খাতের গতিশীলতায় হালনাগাদ তথ্য নিয়ে প্রণীত শিল্পনীতিতে এসব সম্ভবনাময় খাত অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
বাংলাদেশে তৈরি সাইকেল যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, ডেনমার্ক, বেলজিয়ামসহ বিশ্বের ৩০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশি বাইসাইকেলের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ২০১৫-১৬ অর্থবছরে শুধু ইউরোপের দেশগুলোতেই ৯ কোটি ৯১ লাখ ডলারের বাইসাইকেল রপ্তানি করেছে। সাইকেল খাতকে অন্যতম উদীয়মান শিল্প খাত হিসেবে উল্লেখ করে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, ইউরোপের দেশগুলোতে বাইসাইকেল রপ্তানিতে বাংলাদেশ বর্তমানে তৃতীয় স্থান অধিকার করে আছে। এ খাতের প্রসারে সব ধরনের নীতি সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় শিল্পনীতিতে ভেষজ ওষুধ শিল্পকে অগ্রাধিকার শিল্প খাতের ২৪টি খাতের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে; কিন্তু ভেষজ পণ্য (হারবাল) উৎপাদনকারী শিল্প খাত হিসেবে এককভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ভবিষ্যতে এসব খাত প্রণীত শিল্পনীতিতে অগ্রাধিকার খাতের আওতায় রাখা হবে। এসব শিল্পের কাঁচামাল সহজে পাওয়া যাওয়ায় বাংলাদেশে ভেষজ পণ্য (হারবাল খাত) উৎপাদনকারী কারখানা ক্রমেই বিকশিত হচ্ছে। এ ছাড়া নেতিবাচক প্রভাব না থাকায় জনগণের মধ্যে প্রাকৃতিক উপাদান থেকে তৈরি পণ্য ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে।

বর্তমানে বিশ্ববাজারে ৭১ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ভেষজ (হারবাল) পণ্যের চাহিদা রয়েছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও এ চাহিদা কমেনি। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সাল নাগাদ এর পরিমাণ দাঁড়াবে পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলারে। এ খাতে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, জাপান ও চীনের বিনিয়োগ অনেক বেশি। এশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীন ও ভারত হারবাল পণ্যের বাজারে নেতৃত্ব দিচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, আধুনিক ওষুধের প্রায় ২৫ শতাংশ বিভিন্ন উদ্ভিদ থেকে তৈরি হয়, যা বিভিন্ন দেশে ঐতিহ্যগতভাবে ব্যবহার হয়ে আসছে।

শিল্প মন্ত্রণালয় বলেছে, বাংলাদেশের প্রায় ৫০০ প্রজাতির ঔষধি উদ্ভিদ রয়েছে। ভেষজ ওষুধ ও পণ্য উৎপাদনের জন্য দেশে এখন ৪০০ ভেষজ পণ্য উৎপাদনকারী (হারবাল) কারখানা আছে। বাংলাদেশে প্রতিবছর আনুমানিক ৩৩০ কোটি টাকার ভেষজ পণ্য তৈরি হচ্ছে। এসব ভেষজ পণ্য  সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান ও যুক্তরাজ্যের বাজারে রপ্তানি হচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি বিশ্ববাজারে ভেষজ পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশে এ শিল্প প্রসারের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। নতুন শিল্প উদ্যোক্তাদের এসব খাতে বিনিয়োগমুখী করতে রাজস্বসহ বিভিন্ন সহায়তার তাগিদ দিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়।