প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :  

প্রশ্ন : আমার জানার বিষয় হলো, ব্যাংকে টাকা রাখলে যে মুনাফা পাওয়া যায়, সেই টাকা কী করণীয়? আর আমি যদি মুনাফার টাকাটা ব্যাংকওয়ালাদের কাছে রেখে না দিয়ে কোনো দরিদ্র অথবা গরিব তালিবে ইলমকে দিয়ে দিই, তাহলে কি আমি গুনাহগার হবো? আর তাদের দেওয়া কি শরিয়তসম্মতভাবে বৈধ?

জবাব :

এক. সুদি ব্যাংকে সঞ্চয়ী হিসাব খোলা মানে সুদি চুক্তির অন্তর্ভুক্ত হওয়া। আর ‘সুদ গ্রহণ’ যেমনিভাবে হারাম, তেমনিভাবে সুদী ব্যাংকে সঞ্চয়ী হিসাব খোলাও সম্পূর্ণ হারাম। হাদিসে এসেছে, ‌আল্লাহর রাসুল ﷺ সুদখোর, সুদদাতা, সুদের লেখক এবং তার উপর সাক্ষীদ্বয়কে অভিশাপ করেছেন, আর বলেছেন, ওরা সকলেই সমান।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৩৮০৯)

সুতরাং কর্তব্য হলো, অনতিবিলম্বে ওই সদি হিসাব বন্ধ করে মূল টাকা উঠিয়ে নেওয়া।

দুই. তবে যদি এ জাতীয় হিসাব খোলার বিষয়টি কোনা কারণে বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে, তাহলে সেক্ষেত্রে সুদের টাকাটা কী করা হবে–এব্যাপারে ওলামায়ে কেরামের দুটি মতামত পাওয়া যায়–

ক. ব্যাংক থেকে কেবল মূল টাকা উত্তোলন করবে। সুদ তুলবে না। ব্যাংকওয়ালাদের কাছেই রেখে দিবে। এ মতের যুক্তি হলো, সুদ তুলে নিলে তো সুদ হস্তগত করা হবে। সুদ হস্তগত করা গুনাহ। সুতরাং গুনাহ করে সুদ দান করার তুলনায় গুনাহে না জড়ানোই ভালো।

খ. সুদের অংশটা সাওয়াবের নিয়ত ছাড়া গরিবদের মধ্যে অথবা জনকল্যাণমূলক কাজে দান করে দিবে। ব্যাংকে রেখে দেবে না। এ মতের যুক্তি হলো, অ্যাকাউন্টে সুদ জমা হওয়ার অর্থই হলো সুদ হস্তগত হওয়া। কারণওই টাকা ব্যাংকের মালিকানা থেকে বের হয়ে গেছে। অ্যাকাউন্ট হোল্ডার যা খুশি তা করতে পারে। বাস্তবে হাতে হস্তগত করা আর অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। উভয় ক্ষেত্রেই মালিকানা স্থানান্তর হয়ে যায়। হস্তগত যেহেতু প্রমাণিত হলো, এখন মাসআলা হলো, মূল মালিককে তা ফিরিয়ে দিবে। কিন্তু এখানে মূল মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ মালিক তো অগণিত লোনগ্রহীতা।

অতএব এটি হারানো বস্তু (মালে লুকতা)-র পর্যায়ভুক্ত। সুতরাং এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উক্ত টাকা সওয়াবের নিয়ত ছাড়া গরিবকে দান করে দিতে হবে।। কেননা রেখে দিলে এক সময় তা সেন্ট্রাল ব্যাংকে জমা হবে। এরপর এ টাকা কোথায় ব্যয় হবে, তা অনিশ্চিত। হতে পারে খোদ ব্যাংকই তা খেয়ে ফেলবে।

অগ্রগণ্য মতামত : শেষোক্ত মতটিই অগ্রগণ্য। এটিই বেশির ভাগ মুফতির মতামত।  (সুরা বাকারা ২৭৫ তাফসিরে কুরতুরি ৩/২২৫, ২৩৭ বজলুল মাজহূদ ১/৩৭ মাআরিফুস সুনান ১/৩৪ ফাতওয়ায়ে উসমানি-৩/২৬৯, কিফায়াতুল মুফতি-৭/১০৫)

বাকি রইল, মাদরাসার তালিবুল ইলমকে দান করা যাবে কিনা? এর জবাব হলো, যদি তিনি গরিব ও মুখাপেক্ষী হন, তাহলে তাকে দেওয়া যাবে। তবে তালিবুল ইলম আল্লাহর দরবারে অনেক সম্মানিত, তাই সুদের মত ঘৃণিত মালের মাধ্যমে তার সহযোগিতার চিন্তা না করে হালাল মালের মাধ্যমে তার সহযোগিতা করা উচিত।

উত্তর দিয়েছেন : মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী নকশবন্দী