প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :    পথশিশুর ফুল বিক্রির- একুশে বইমেলায় দায়িত্বরত এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুই পথশিশুর ফুল বিক্রির টাকা কেড়ে নিয়ে আইসক্রিম খাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ ও চাপের মুখে টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

 

 

 

১০ ফেব্রয়ারি শনিবার দুপুরে শাহবাগ থানাধীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দোয়েল চত্বরের কাছে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন জানান, টিটু নামের এক পুলিশ কর্মকর্তা ফুল বিক্রেতা দুই পথশিশুকে মারধর করে তাদের কাছে ৩২০ টাকা কেড়ে নেয়। পরে বাংলা একাডেমির ড. মুহম্মদ এনামুল হক ভবনের মূল গেটে মানুষের চাপের মুখে চারশ টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন তিনি।

 

 

 

ভুক্তভোগী দুই শিশু নাম তুলু ও জিহাদ। এ বিষয়ে তুলু প্রিয়.কমকে বলে, ‘আমরা ফুল বেচতাছিলাম। এক বেডি আইয়া ফুলের দাম জিগায়। আমি কইছি ৫০। বেডি কইছে ২০। ওইসুম বেডি খারাপ ব্যবহার করছে। আবার ওই বেডি জুতা দিয়া মাইরা দিছে। আমি কিছুই কই নাই। তারপরে বেডি বানাইয়া-ছুনাইয়া কয় কি লাত্থি দিছে।’

 

 

 

তুলু আরও বলে, ‘ওইসুম পুলিশও মারছে। এক পুলিশ থাপ্পর দিছে। ওরা কয় ৫০ বেচলে মারমু। পরে পুলিশ আমারে কয়, ‘তরথাই টাকা আছে?’ আমার ২২০ আর ওর (জিহাদ) কাছ থেইকা ১০০ টাকা লইয়া পুলিশ কয় কী ‘ওই দৌড় দে একটা’।

 

 

ওরে (জিহাদ) দৌড় দিয়া ঘুরাইল, আর আমি কানতে কানতে আইছি। দেখলাম কী, পুলিশ তিনটা আইসক্রিম কিইন্যা খাইয়া হালাইল! ওরা ওইসুম আমাগো গালিও দিছে। কয় কী ‘ওই ভুচকির ঘরের ভুচকি’, ‘এই ন…র পোলা’।’

 

 

 

প্রত্যক্ষদর্শী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী অঙ্কন বলেন, ‘বাংলা একাডেমির সামনে এই দুই ছেলেকে আমি কাঁদতে দেখি। পরে তারা জানায় পুলিশ তাদের কাছ থেকে টাকা কেড়ে নিয়েছে। ওই সময় আমি পুলিশ কর্মকর্তাদের টাকা ফিরিয়ে দিতে জোর করলে লোকজন জড়ো হয়ে যায়। তখন পুলিশ কর্মকর্তা টাকা ফিরিয়ে দেন।’

 

 

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্তব্যরত প্রত্যক্ষদর্শী এক সাংবাদিক বলেন, ‘আমরা প্রেস কনফারেন্স শেষ করে আসছিলাম। আমরা দেখি পুলিশ কর্মকর্তা টিটু তিনটা ছেলেকে মারধর করতেছে আর গালাগালি করতেছে। কেন মারতেছে সেটা আমরা জানতাম না। পরে ঘটনা শোনার পরে আমরা বিষয়টা বুঝতে পারি।’

 

 

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক মামুন তুষার বলেন, ‘আমরা ছিলাম শক্তি ইন্সটিটিউটের ভেতরে। তিনজন পুলিশ, টিটুর নেতৃত্বে আরও দুইজন। তারা ছেলে দুটিকে গালিগালাজ করছে, তাড়িয়ে দিচ্ছে।

 

 

 

পুলিশ বিভিন্ন ধরনের অশ্লীল ভাষায় কথা বলতেছে ছেলে দুটির সঙ্গে। কিন্তু ছেলে দুটির কাছ থেকে পুলিশ টাকা নিয়েছিল বোধ হয়, সেজন্য ওরা টাকা না নিয়ে যাচ্ছিল না। পরে ওইখানে আইক্রিমওয়ালা ছিল, পুলিশ আইসক্রিম কিনে খেতে খেতে চলে আসছে।’

 

 

বাংলা একাডেমির ড. মুহম্মদ এনামুল হক ভবনে প্রবেশের মূল গেটের সামনে জনতার চাপে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা টাকা ফেরত দেন। টাকা ফেরত দেওয়ার সময় প্রিয়.কমের প্রতিবেদক ওই তর্ক-বিতর্ক রেকর্ড করছিলেন। তখন প্রতিবেদকের ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন সেখানকার দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা।

 

 

 

এসময় টিটু অভিযোগ করেন, এই শিশু দুটি এক নারীকে লাথি মেরেছে। তখন উপস্থিত লোকজন শিশু দুজনকে জিজ্ঞাসা করেন লাথি দিয়েছিল কি না। দুজনই না করে পুলিশ কর্মকর্তার সামনেই।

 

 

 

তবে টিটুর বিস্তারিত পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।বাংলা একাডেমি বইমেলায় দায়িত্বে আছেন শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. দিদার হোসেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তিনি বলেন, ‘আমি শুনছি, ওরা ফুল বিক্রি করে একটা নারীকে লাথি মারছে।

 

 

 

 

এজন্য পুলিশ কর্মকর্তা ধাওয়া দিছে ওই দুই ছেলেকে।’দিদার হোসেন আরও বলেন, ‘পুলিশ কর্মকর্তা যদি এই ধরনের অনৈতিক কাজ করে থাকেন, তাহলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আছেন, তারা ব্যবস্থা নেবেন।’