প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :   বাঙালীর ১২ মাসে ১৩ পার্বণ। এদেরই অন্যতম পৌষ পিঠে। এমনিতে খাদ্য রসিক বাঙালীর প্রত্যেক পার্বণের সঙ্গেই খাওয়া দাওয়া জুড়ে থাকলেও পিঠে পাব্বনের কাছে তা নিতান্তই শিশু। পৌষ শেষের এই অনুষ্ঠানকে নিয়ে তাই বাঙালী ভোগে স্বাদে আহ্লাদে। এই স্বাদ আর আহ্লাদকে নিয়েই আরও একবার পিঠে পুলি উৎসব শুরু হয়ে গেল কলকাতায়।

আয়োজনে সেই রাজডাঙা ক্লাব। তাঁদের নিজেদের মাঠেই অনুষ্ঠিত হল এই উৎসব। উৎসবের প্রধান উদ্যক্তা সুশান্ত কুমার ঘোষ।

 

শুরু ২০১২ সালে। এরপর থেকে ৬ বছর একইরকম ভাবে হয়ে আসছে রাজডাঙার পিঠে পুলি উৎসব। এই বছরের আয়োজন আরও বেশী। বিশাল মাঠে পিঠের সম্ভার নিয়ে বসেছে ৭২টি স্টল।

১২ তারিখ থেকে শুরু হয়া এই উৎসব চলবে ১৬ জানুয়ারি অবধি। উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন কলকাতার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়, মমতা শঙ্কর , আবির চট্টোপাধ্যায়, হিরণ চট্টোপাধ্যায় এবং অনন্যার মতো অভিনেতা , অভিনেত্রীরা। তাঁদের হাতেই উদ্বোধন হল উৎসবের। পাশাপাশি প্রত্যেকে নিলেন পিঠের জিভে জল আনা স্বাদ।

এমন অনুষ্ঠানে আসতে পেরে স্বাভাবিক ভাবেই দারুণ আপ্লুত টলি অভিনেতারা। বলছেন কাজের চাপে এসব উঠে গিয়েছে। তাই এমন সুযোগ হাত ছাড়া করেননি তাঁরা। দিনটিকে শুধু পিঠের নামেই উৎসর্গ করে দিয়েছেন আবির, হিরণ। মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় আবার ফিরে গিয়েছিলেন নিজের ছেলেবেলার দিনে। বলছেন এখনকার মতো মিষ্টির দোকানে গিয়ে পিঠে পায়েস কিনে খেতে হত না তখন।

এই সময় প্রত্যেক বাড়িতেই মা , কাকিমারা বাড়ির জন্য লেগে পড়তেন পিঠে বানাতে। সে সব দিন আর নেই, তাই এইসব অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই বেচে রয়েছে বাঙালীর অন্যতম ঐতিহ্য। এমন অনুষ্ঠানকে মেয়রের তাই পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। উৎসবের উদ্যক্তা সুশান্ত বাবু জানালেন এই উদ্যোগ তাঁর চেয়েও বেশী এলাকার মানুষের। তাঁরা এগিয়ে এসছে বলেই বিষয়টি এত সফল ভাবে এগিয়ে চলেছে। তিনি এও জানালেন তাঁদের দেখাদেখি অনেকেই এখন এই উৎসব করতে এগিয়ে এসেছেন। আর এটাই তাঁদের আয়োজনের স্বার্থকতা।

 

এটা সত্যি যে এলাকার মানুষ যদি সুশান্ত বাবুর ডাকে সারা না দিতেন অনুষ্ঠান এতটা প্রচার পেত না। উৎসবের ৭২টি স্টলের প্রত্যেকটিতেই অংশগ্রহন করেছেন গৃহবধূরা। স্টলে ১০ থেকে শুরু করে ৫০ টাকা অবধি হরেক রকমের জিভে জল আনা পিঠে রয়েছে। স্টকে রয়েছে সেদ্ধ পিঠে, ভাজা পিঠে, আসকে পিঠে, পাটি সাপটা, মুগ পুলি, ভেজ পুলি, মোহন মালপোয়ার মতো পিঠে পুলির নতুন নতুন পদ। তবে এই বধুরা কিন্তু পরিবারকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আসেননি। প্রত্যেকের ব্যবস্থাটি সেরেই তবে এসেছেন উৎসবে যোগ দিতে।

 

রাজডাঙা এখন পিঠের স্বাদে সরগরম। কোনটা ছেড়ে কোনটা নেবেন বুঝে উঠতে পারছেন না। তাই বাড়িতে যদি পিঠের চল পুরোপুরি বাদের খাতায় গিয়ে থাকে তাহলে চট করে চলে আসুন এখানে। সময় নেই তাই অফিস ফেরতাও ঢুঁ মারতে পারলে আপনারই লাভ। পিঠে খেলে, তবে না পেটে সইবে ।