প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :   ডন সাম্রাজ্যের বাঘা বাঘা নামের তালিকায় বেশিরভাগই পুরুষ৷ কলম্বিয়ার মাফিয়া ডন পাবলো এস্কোবার থেকে মুম্বই-করাচির দাউদ ইব্রাহিম এদের নামে বার বার আলোড়িত হয়েছে দুনিয়া৷  ক্রূর ঠাণ্ডা চোখ, খুনের লিপ্সা, চোরাকারবার মিশে রয়েছে তাদের রোমাঞ্চকর কাহিনীতে৷ ক্ষমতায় কে কার বাপ তা নিয়ে চলেছে বিস্তর আলোচনা৷ ফয়সালা হয়নি৷ এসবের মধ্যেই দিব্বি  মাফিয়া রাজত্বের শীর্ষে পৌঁছে গিয়েছে পাঁচ মহিলা, যাদের ভয়ঙ্কর কাণ্ড কারখানায় কেঁপেছে দশদিক৷

 

 

সান্ড্রা আভিলা বেলট্রান (Sandra Ávila Beltrán):  চোখে দুষ্টুমির ইঙ্গিত৷  মুচকি হাসি৷ যখন ফটোশ্যুট করাতেন তখনই এসব রূপ বেরিয়ে আসত৷ এছাড়া বাকিটা ভয়াল ইমেজ৷  মাদক জগতের কেন্দ্রে রয়েছে মেক্সিকো৷ আর সেই দেশের সবথেকে বড় ড্রাগ ডিলার গ্যাংস্টার সান্ড্রা আভিলা বেলট্রান৷ ৫৬ বছরের সান্ড্রা একসময় মেক্সিকো সহ পুরো আমেরিকা ভূখণ্ডের সবথেকে বড় ড্রাগ মাফিয়া ও ধনী মহিলা ছিলেন৷ এমন যাদু ছিল দু চোখে যে খোদ পুলিশ কর্তারা পর্যন্ত প্রেমের রসে হাবুডুবু খেতেন৷ গুলির লড়াই নয়, চোখের ইশারায় মেক্সিকোর দুই পুলিশ কর্তাকেই পকেটে পুরেছিলেনে সান্ড্রা৷ দুই স্বামীকেই পরে ড্রাগ চালানের কাজে নামিয়েছিলেন৷ পরে সুযোগ বুঝে দুজনকেই দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন৷ ২০০৭ সালে  সান্ড্রাকে গ্রেফতার করে পুলিশ৷ ২০১৫ সালে জামিনে মুক্তি পান সান্ড্রা৷

 
মেলিসা ক্যালডেরন (Melissa calderon):  দু হাতে মেশিনগান৷ খোলা চুলের তরুণী মেলিসা৷ অন্ধকার জগতে পরিচিত ‘La China’ নামে৷  যে কোনও জঙ্গি সংগঠন তাকে লুফে নিতে তৈরি ছিল৷ তবে ড্রাগ চালানের দুনিয়াতেই সে মত্ত৷ সান্ড্রা পরবর্তী মেক্সিকোর সবথেকে নৃশংস মহিলা গ্যাংস্টার মেলিসা৷ দুনিয়ার সবথেকে ভয়ানক নামগুলির তালিকায় তার নাম এসেছে৷ মেক্সিকো পুলিশের রিপোর্ট- মেলিসা ক্যালডেরন কম করে ১০৫ জনকে গুলি করে খুন করেছে৷ ৩২ বছরের মেলিসার অধীনে ৩০০ জন কুখ্যাত খুনি ও গুণ্ডা অপরাধমূলক কাজ করে৷  আপাতত বন্দি মেলিসা৷ মনে করা হয় জেল থেকেই সাম্রাজ্য চালায় ডন মেলিসা৷সামান্থা লিথওয়াইট (Samantha Lewthwaite): নির্বিচারে মানুষ খুনেই যেন আনন্দ সামান্থার৷ একের পর নাশকতায় জড়িত তার নাম৷ জন্মসূত্রে ব্রিটিশ নাগরিক সামান্থা ইউরোপ, আফ্রিকার ত্রাস৷ তার মদতে পরপর নাশকতা ঘটিয়েছে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন৷  সামান্থার বিরুদ্ধে সোমালিয়ায় অন্তত ৪০০ জনকে খুনের অভিযোগ রয়েছে৷ ২০০৫ সালের ৭ জুলাই৷  লন্ডনের ভূগর্ভস্থ রেলে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়৷ ২৬ জনের মৃত্যু হয়৷  আত্মঘাতী হামলাকারী Lindsay ছিল  সামান্থার স্বামী৷ গর্ভবতী অবস্থায় এই নাশকতায় প্রত্যক্ষ মদত দিয়েছিল সামান্থা৷ পরে সে ধর্ম পরিবর্তন করে সোমালিয়ার জঙ্গি সংগঠন আল শাহাবাবের হয়ে একের পর হামলা চালায়৷ পরে তার টার্গেট হয় কেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়৷ এখানে মৃত্যু হয় ১৪৮ জনের৷ আত্মঘাতী হামলাকারী হিসেবে কিশোরী ও তরুণীদের প্রশিক্ষণ দেয় সামান্থা৷ ২০১৪ সালে ইউক্রেনে এক রুশ গুপ্তচরের হাতে সামান্থার মৃত্যুর খবর আসে৷ সেই খবর ভুয়ো ছিল৷ ব্রিটিশ গোয়েন্দারা জানিয়েছেন,  সরাসরি আই-এসে যোগ দিয়ে ইরাক ও সিরিয়ায় নাশকতা চালাচ্ছে সামান্থা৷

 

এনিডিনা আরিলানো ফেলিক্স (Enedina Arellano Félix):  তিনি মারিও পুজোর লেখা ‘গডফাদার’ নন৷ তবে অপরাধ দুনিয়ায় পরিচিত ‘গডমাদার’ নামে৷  অনেকে আবার ‘দ্য বস’ নামেও ডাকে৷ মেক্সিকোর সব থেকে বড় ড্রাগ চক্র Tijuana Cartel-এর মালকিন   এনিডিনা৷ এই গ্রুপ আগে পাঁচ ভাইয়ের অধীনে ছিল৷ ২০০০ সাল থেকে তার কর্তৃত্ব নিয়েছে এনিডিনা৷ অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, এনিডিনা একমাত্র মহিলা ডন যার হাতে রয়েছে সবথেকে বড় ড্রাগ কারবারের কর্তৃত্ব৷

 

ক্লডিয়া চোয়া ফেলিক্স (Claudia Ochoa Felix):  ফেসবুকে ও ইনস্টাগ্রামে  অন্তত ৩০ হাজার ফলোয়ার তো আছেই৷ টুইটারে তার ফলোয়ার ছাড়িয়েছে ৮৮ হাজার৷ এমনই জনপ্রিয় এই গ্যাংস্টার৷ সিনেমায় নামলে দুনিয়া জুড়ে আলোড়ন ছড়াত তা মেনে নিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা৷ তবে অপরাধ জগতেও কম কিছু নয় ক্লডিয়া৷ সুঠাম শরীর আর সুন্দর চোখের আড়ালেই রয়েছে এক ভয়ঙ্কর রূপ৷ নৃশংসভাবে খুন করতে ভালবাসে ক্লডিয়া৷ মেক্সিকোতেই এর কাজ কারবার৷ দুনিয়ার প্রথম মহিলা মাফিয়া ডন হিসেবে ক্লডিয়া নিজেই একটা অপরাধী পরিবার শুরু করেছে৷ কাউকে খুন করার পর সুন্দর উত্তেজক ছবি দিয়ে টুইট করে ডন ক্লডিয়া৷