প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :  ভারতের পক্ষ নিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, এমন ধারণা থেকেই ক্ষোভ পাকিস্তানের। আর সেই ক্ষোভের জেরে  প্রচ্ছন্নভাবে ‘পারমাণবিক যুদ্ধের’ হুমকি দিয়ে দিলেন পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা নাসের খান জানজুয়া।

 

 

গতকাল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আয়োজিত জাতীয় নিরাপত্তা নীতি বিষয়ক এক সেমিনারে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন নাসের খান।

 

 

তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক স্থিরতা নির্ভর করছে খুবই নড়বড়ে ভারসাম্যে। তাই পারমাণবিক যুদ্ধের পরিস্থিতিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

 

 

ভারতের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে পাকিস্তানের জাতীয় উপদেষ্টা অভিযোগ করেন, ভারত ভয়ঙ্কর কিছু অস্ত্র মজুত করে রেখেছে। যা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একটি যুদ্ধের হুমকি বলে মনে করছে ইসলামাবাদ। এছাড়াও তিনি বলেন, কোনও একটি দেশের একটি ছোট ভুলও দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি বিঘ্নিত করতে পারে।

 

 

 

এছাড়াও আফগানিস্তানে, পাকিস্তানের থেকে ভারতকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া নিয়েও প্রচ্ছন্ন হুমকির সুরে জানজুয়া জানান, এটা যুদ্ধ বিধ্বস্ত আফগানিস্তানের পক্ষে ভালো খবর নয়।

 

 

 

এমনকি চীন-পাকিস্তান ইকনমিক করিডরে বাধা দিতে আমেরিকা ভারতের সঙ্গে মিলে ষড়যন্ত্র করছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। চীনের সঙ্গে সখ্যতা বাড়ার কারণেই আমেরিকা ভারতের সঙ্গে মিলে ষড়যন্ত্র করছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

 

 

 

এদিকে, চীন-পাকিস্তান ইনকমিক করিডর বন্ধ করার জন্য টাকা দিচ্ছে ভারত তথা ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’। এমনটাই অভিযোগ পাকিস্তানের। সম্প্রতি এক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমন অভিযোগ করেছেন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর জয়েন্ট চিফ অফ স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান জেনারেল জুবের মহম্মদ হায়াত। বন্ধু দেশ চীনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তৈরি করা ওই প্রজেক্টে ভারতের বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

 

 

 

প্রসঙ্গত, জানা গিয়েছে, চীন-পাকিস্তান ইকনমিক করিডরের যে লাভের অঙ্কের হিসেব পাওয়া গিয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে আখেরে পাকিস্তানের ঘরে বিশেষ কিছুই আসছে না। লাভের সিংহভাগই নিয়ে যাচ্ছে চীন। আর বাদবাকি দেওয়া হচ্ছে পাকিস্তানকে।

 

 

 

পাকিস্তানের বন্দর ও জাহাজ সংক্রান্ত মন্ত্রী মীর হাসিল বিজেনজো জানিয়েছেন, গোয়াদার বন্দর থেকে যে লাভ হবে তার ৯০ শতাংশ নেবে চীন। গোয়াদার পোর্ট অথরিটিকে দেওয়া হবে ৯ শতাংশ। আগামী ৪০ বছর ধরে এমনটাই চলবে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ৪০ বছর ধরে চলবে এই নিয়ম।