সকাল থেকে মেঘ জমে আছে। মনে হচ্ছে এখনো রাত ফুরায়নি!আকাশ ঘুমিয়ে যাচ্ছে নিশ্চিন্তে। ডিস্টার্ব করার মতো পাশে কেউ নাই। একমাত্র ওর বাবা ছিল বাসার মধ্যে ডিস্টার্ব করার মতো, সেও গত রাত্রে অফিসিয়াল কি কাজের জন্য শহরে চলে গেছে। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে রেখেছে যাতে অন্য কারোর অনুপ্রবেশ না ঘটে। সারা রাত “অনু” নামের মেয়েটির সঙ্গে ফেসবুকে চ্যাটিং করেছে! ওদিকে আজ আবার সকাল এগারটার দিকে আদ্রিতার সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে আকাশের। মেয়েটার বাসা থেকে সব কিছুই জানে ওদের রিলেশনের ব্যাপারে! তবু আকাশের উপর কারোরই কোন আস্থা নাই!

এই ছেলেটা কখন কি করে কোন ঠিক ঠিকানা নাই। বিশ্বাস্ততা দিন দিন হাল্কা হচ্ছে! হাল্কা হবেই না বা কেন? গত তিন সপ্তাহে আকাশকে, আদ্রিতার বাসা থেকে দাওয়াত দিয়েছে অথচ ছেলেটা একবারের জন্যেও ও বাসাতে যাইনি!

প্রতিবারই টেবিলে খাবার সামনে নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষায় করে গিয়েছে আদ্রিতা এবং তাঁর বাবা-মা! এমন কান্ডজ্ঞানহীন ছেলের উপর কোন. বাবা, মায়েরই বা আস্থা থাকবে? হতাশ হয়ে মেয়ের জন্য নতুন ছেলের সন্ধান চালাচ্ছেন আদ্রিতার বাবা-মা। তবে আদ্রিতা ছাপ জানিয়ে দিয়েছে, আকাশকে ছাড়া সে দ্বিতীয় কাউকেই বিয়ে করছেনা! এটাই তাঁর শেষ কথা। আশ্চর্য, এই ছেলেটার ভেতর পেয়েছে কি? এসব নিয়ে চিন্তিত আদ্রিতার মা, বাবা।

ফোন বেজেই চলেছে, কোন সারাশব্দ নাই আকাশের! দিব্যি ব্যাঙের মতো নাক ডেকে ডেকে ঘুমিয়ে যাচ্ছে। আজকাল “আদ্রিতাকে”
বড্ড এভয়েড করছে আকাশ। ফেসবুকেও ম্যাসেজ সিন করে রাখে। ইচ্ছে হলে জবাব দিলো নাহলে নাই!

বোঝা যাচ্ছে অনুর প্রেম বন্দনায় বেশ মজেছে আকাশ। বিকট ধুম ধারাক্কা শব্দে ঘুম ভাংলো আকাশের! আড়মোড়া দিতে দিতে উঠছে আর ভাবছে মেঘের গর্জনটা বেশ ভয়াবহ ছিলো!

ভাবতে না ভাবতে আবারো বিকট শব্দ! শব্দটা মনে হলো খুব নিকটে। আকাশ বুঝতে পারলো এটা মেঘের গর্জন নয়, এটা ওর রুমের দরজায় ধাক্কা ধাক্কি করার শব্দ! আলসেমি ভাব নিয়ে ধীরে ধীরে বিছান ছেড়ে চোখ দুটি ডলতে ডলতে গিয়ে দরজা খুলে দিলো আকাশ! মুখ তুলে হায় ছাড়তে গিয়ে দেখতে পেলো ওর সামনে রক্ত চক্ষু নিয়ে দাড়িয়ে আছে আদ্রিতা!

মুহুর্তের মধ্যে চোখের ঘুম হাওয়া হয়ে গেল আকাশের! নিচের দিকে তাকিয়ে খেয়াল করলো ঘুমাতে যাওয়ার সময় যে হাফ প্যান্ট পরে বিছানায় গিয়েছিল সেটাই এখনো পরিধেয় আছে! কি লজ্জার বিষয়! হাত দুটি দিয়ে নিজের ইজ্জত ঢাকার চেষ্টা করলো আকাশ!

-কি মিষ্টার, কয়টা বাজে?
আকাশ মাথার উপরে তাকিয়ে দেয়াল ঘড়ির দিকে লক্ষ্যে করার চেষ্টা করলো।
মাথায় বাজ পড়ার উপক্রম হলো, এখন বিকেল পাচঁটা বাজে!
আদ্রিতা রুমের ভেতরে ঢুকে দরজা লাগাতে যাবে সে মুহূর্তে
আকাশ আমতা আমতা করে বলতে লাগলো কি ব্যাপার, এখন আমার ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে নাকি? খবরদার রুমের দরজা আটকাবেনা বলে দিলাম!

ছিটকানি লাগিয়ে আদ্রিতা আকাশের দিকে চোখ পাকিয়ে বলল,
দাড়া তোর ইজ্জতের বারটা আজ বাজাবো আমি…

চলতে থাকবে, প্রতি শুক্রবার। সাথে থাকার জন্যে অনেক ধন্যবাদ।