প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :  বিয়ের রাতে মেয়েটি তার স্বামীর কাছে অবলীলায় সব স্বীকার করলো, “আমার একটা রিলেশন ছিলো … তবে সে রিলেশনের প্রভাব আমাদের সাংসারিক জীবনে পড়বে নাহ … আজ থেকে আপনি আমার স্বামী … স্ত্রী হিসেবে আমার স্বামীর যাতে কোনো অমর্যাদা না হয়, আমি সেই চেষ্টা করবো..”

 

২ বছর পরের ঘটনা, শ্রাবণের বর্ষণের রাত;
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তুমুল ঝগড়া চলছে..

 

হঠাৎ অপ্রাসঙ্গিকভাবে স্বামী মেয়েটির প্রথম প্রেমকে নিয়ে আজেবাজে কথা বলা শুরু করলো, “জানি তো কার সাথে প্রেম করসিলা..!! থার্ড ক্লাস একটা ছেলে .. ছ্যাঁচড়ার ছ্যাঁচড়া..!! তোমার রুচি কেমন সেটা তো বোঝাই যাচ্ছে…”

 

.. মেয়েটি দৌড়ে এসে তার স্বামীর পা জড়িয়ে ধরলো, “দোহাই লাগে, ওকে নিয়ে খারাপ কিছু বলবেন নাহ … আমি ভুল করেছি, যতো খুশি আমাকে গালি দেন … আমি তো আমার কথা রেখেছি, আমাদের সাংসারিক জীবনে ওর কোনো অস্তিত্ব রাখি নি … ওর সাথে কখনো কন্ট্যাক্ট করি নি”

স্বামীর মাথায় রক্ত উঠে গেলো … সে মেয়েটির দিকে ঝুঁকে এসে বললো, “বল ও থার্ড ক্লাস ছিলো, ছ্যাঁচড়া ছিলো..!!”.. মেয়েটি ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে বললো, “নাহ ও ওরকম কখনোই ছিলো নাহ … আমি ওকে কখনোই অসম্মান করতে পারবো নাহ”

 

পরের ঘটনাগুলো ঘটলো খুব দ্রুত; মেয়েটির ডান গালে সজোড়ে চড়ের শব্দ হলো … মেয়েটির স্বামী হ্যাঁচকা টানে মেয়েটিকে বাসা থেকে বের করে দিলো, “যেদিন ওকে ছ্যাঁচড়া বলতে পারবি, সেদিন আসিস আমার কাছে..!!”
শ্রাবণের সেই প্রবল বর্ষণের রাতে সিলেটের “কাজীর বাজার” নামক একটি ব্রীজের উপর রক্তলাল চোখে দুলতে দুলতে একটি ছেলে চিৎকার করে বলছিলো—

“পরের জন্মে বয়স যখন ষোলোই সঠিক
আমরা তখন প্রেমে পড়বো,
মনে থাকবে?.
এই জন্মের দূরত্বটা পরের জন্মে চুকিয়ে দেবো
এই জন্মের চুলের গন্ধ পরের জন্মে থাকে যেনো..
এই জন্মের মাতাল চাওয়া পরের জন্মে থাকে যেনো..
মনে থাকবে?”
যেই মেয়ে তার ভালোবাসার সম্মান রক্ষা করার জন্য তার স্বামীর শক্ত হাতের থাপ্পড় হজম করেও বলতে পারে , “নাহ ও থার্ড ক্লাস কখনোই ছিলো নাহ … ছ্যাঁচড়া কখনোই ছিলো নাহ … আমি ওকে কখনোই অসম্মান করতে পারবো নাহ” … স্বামীর পা জড়িয়ে ধরে আকুল হয়ে বলতে পারে, “দোহাই লাগে, ওকে নিয়ে খারাপ কিছু বলবেন নাহ … আমি ভুল করেছি, যতো খুশি আমাকে গালি দেন” … পরকালে ৭০ জন হুরপরীর বিনিময়ে হলেও বউ হিসেবে পৃথিবীর এই পরীটিকে চাওয়া যায় … খুউউব যায়..!!
রাত ৯:০৫, চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন
নিশীথ ট্রেন “উদয়ন এক্সপ্রেস” ছেড়ে দিয়েছে, উদয়ন এক্সপ্রেসের পেছন পেছন টলোমলো চোখে শ্রাবণধারায় সিক্ত একটি মেয়ে দৌড়ুচ্ছে, পরের জন্মে বিশ্বাস না করা এই মায়াবতীকে যে করেই হোক এই ট্রেনে সিলেট পৌঁছুতে হবে..!!

“এসো নীপবনে ছায়াবীথি তলে,
এসো করো স্নান নবধারা জলে”