প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :    গসিপের জন্য টালিগঞ্জ বেস্ট। এটা কলকাতার চিত্রজগতের অনেকেই মনে করেন। সেটা মিমি-শুভশ্রী’র দ্বন্দ্বও হতে পারে। রাজ চক্রবর্তী’কে নিয়ে বিবাদের সূত্রপাত কলকাতার বাংলা ছবির এই দুই নায়িকা। এই দ্বন্দ্বের জেরে একটা লম্বা সময় ধরে একসঙ্গে দেখা যায়নি মিমি-শুভশ্রী’কে।

 

ভেতরে ভেতরেই তৈরি হচ্ছিলো ঠাণ্ডা লড়াইয়ের কিছু পরিকল্পনা। একসঙ্গে কাজ করা তো দূরের কথা এক তালিকায় দুজনের নাম জড়াতেও তারা রাজি ছিলেন না।

 

এই শীতল লড়াই হয়তো আরও কঠিনতর হতে পারতো যদি জল্পনার অবসানে নেমে না আসতো একটি ছোট্ট টুইট। কিছুদিন আগে মুক্তি পায় যশ এবং মিমি অভিনীত ছবি ‘টোটাল দাদাগিরি’। আর এই ছবিকে উদ্দেশ্য করেই মিমি সহ পুরো ‘টোটাল দাদাগিরি’ টিমকে শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি টুইট করেন শুভশ্রী।

 

মিমিও শুভশ্রী’কে ধন্যবাদ জানিয়ে উত্তর দেন টুইট’টির। এই টুইট স্পষ্ট করে দেয় যে শুভশ্রীর মনে যে পাথর ছিল তা গলে পানি হয়ে গিয়েছিল তখনই। আর সেই তাপমাত্রা বাড়ানো-কমানোর নিয়ামক ছিল রাজের হাতে। অর্থাৎ মনে করা হচ্ছে বদ মেজাজি শুভশ্রীকে তখনই ঠাণ্ডা করেছিলেন রাজ।

 

এর অর্থ রাজ এবং শুভশ্রীর সম্পর্কের জোড়াটা লাগে তখনই। যার কারণে শুভশ্রী এতোটা উদার হতে পেরেছিলেন।

 

গতকাল সেটা স্পষ্ট হলো। কোনও সাসপেন্স নয় ৷ ঘটা করে না জানিয়ে করলেও এনগেজমেন্ট পর্বটা সেরেই ফেলেন টলি পাড়ার অত্যন্ত জনপ্রিয় ‘কাপল’ রাজ চক্রবর্তী এবং শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় ৷ চিত্র পরিচালক ও অভিনেত্রীর প্রেম কাহিনীতে আর কোনও টুইস্ট নয় ৷  একসঙ্গে পথ চলার অঙ্গীকার ঘোষণা করে ফেলেন রাজ ও শুভশ্রী।

 

নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে একটি ছবি পোস্ট করে রাজ নিজেই জানান তাঁর এনগেজমেন্ট পর্ব সেরে ফেলার কাহিনী ৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজের সঙ্গে তাঁর বাগদান পর্বের কথা পোস্ট করেন অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ও ৷ এনগেজমেন্ট ও রেজিস্ট্রি সেরে ফেললেও পরিবার সূত্রে খবর, আগামী ১১ মে কলকাতায় বিয়ে ও ১৮ মে বর্ধমানে রিসেপশন হবে টলিউডের বহু আলোচিত এ যুগলের।

 

মঙ্গলবার রাজ চক্রবর্তীর নিজের অ্যাপার্টমেন্টে একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এনগেজমেন্ট-রেজিস্ট্রি পর্ব সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন  কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং আত্মীয়-স্বজনরা।

 

অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়ে ঠিক মিলে গেলেন দুই প্রেমী। তাঁদের প্রেম-পর্বেও এসেছে অনেক টুইস্ট ৷ এক সময় টলিপাড়ায় রাজের সঙ্গে অভিনেত্রীর মিমি চক্রবর্তীর সম্পর্কের জোর গসিপও ছড়িয়ে পড়ে ৷ কিন্তু এবার আর কোনও গসিপ বা টুইস্ট নয় ৷ হাতে গোনা কয়েকজন বন্ধু-বান্ধব এবং আত্মীয়স্বজনের সামনে বাগদান পর্ব সারার কাজ সম্পূ্র্ণ রাজ-শুভশ্রীর ৷ এখন শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে হওয়ার অপেক্ষা ৷