প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :  বৃষ্টির দিনে গরম থেকে খানিকটা স্বস্তি মিললেও রাস্তায় জমে থাকে পানি আর কাদা। এমন পরিবেশ বাইরে গিয়ে ব্যায়াম করার অনুপযোগী। আবার ব্যায়ামাগারে গিয়ে ব্যায়ামের সুযোগও সবার নেই। তাই ঘরেই চলুক স্বাস্থ্যরক্ষার আয়োজন।

 

বারান্দা, করিডর বা ছাউনি দেওয়া ছাদে ব্যায়াম করতে পারেন। হাঁটাহাঁটি, দৌড়ানো, দড়িলাফ, বুক ডন—ঘরে সবই সম্ভব। তবে এভাবে নানা ধরনের ব্যায়ামে কতটা ক্যালরি পোড়ানো সম্ভব, সেটিও খেয়াল রাখা প্রয়োজন। কেবল বাড়িতে ব্যায়াম করে পর্যাপ্ত ক্যালরি পোড়ানো সম্ভব না হলে খাদ্যাভ্যাসেও কিছুটা পরিবর্তন আনতে হবে।
হাঁটাহাঁটি বা দৌড়ানোর সময় কতটা ক্যালরি পোড়ানো সম্ভব, তা নির্ভর করে তিনটি বিষয়ের ওপর। কতটা দূরত্ব পেরোচ্ছেন, আপনার শরীরের ওজন কত এবং আপনি কেমন গতিতে হাঁটছেন বা দৌড়াচ্ছেন। এসব বিষয় খেয়াল রাখলে আপনি কতটা ক্যালরি পোড়াচ্ছেন, তা অনুমান করা সম্ভব।
গড়ে ২০ বার পা ফেলে চলাচল করলে এক ক্যালরি শক্তি পোড়ে। তবে যাঁর ওজন বেশি, তাঁর ক্যালরি পোড়ানোর মাত্রাটাও বেশি। যত বেশি দূরত্ব পেরোনো যাবে, ক্যালরিও তত বেশি পুড়বে। দ্রুতগতিতে হাঁটলে বেশি ক্যালরি পোড়ানো সম্ভব, আবার ধীরে ধীরে হাঁটলে কম ক্যালরি পুড়বে। এভাবে হিসাব করে আপনি সারা দিনে কতটা ক্যালরি খরচ করছেন, তা অনুমান করতে পারেন। বাড়িতে ট্রেডমিল ও স্থির সাইকেলসহ অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর যন্ত্রের সাহায্যেও ব্যায়াম করা যায়। কোনো কোনো ট্রেডমিলে ক্যালরি খরচের তথ্যও পাওয়া যায়।
প্রতিদিনই খুব ভারী ব্যায়াম করতে হবে, এমন নয়। নিয়মিত শরীরচর্চা করাটা জরুরি। ব্যায়াম ছেড়ে দেওয়া যাবে না। ক্যালরি খরচের হিসাব রাখলে মনে তৃপ্তি আসবে। অযথা পরিশ্রম হচ্ছে, এমনটা ভেবে হতাশ লাগবে না। শরীরচর্চায় নিয়মিত সময় দিতে আগ্রহ পাবেন।

অধ্যাপক সোহেলী রহমান
বিভাগীয় প্রধান, ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগ,
ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল