অপরাজিতাবাংলাদেশ। ২০০৩ সালে এই বাংলাদেশের মেয়েরা সকল প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে ফুটবলে তাদের পদচারনা শুরু করেছিল। সেই উপেক্ষিত মেয়েরা ফুটবলের স্বর্ণালী স্বাক্ষর। ক্রীয়া ঙ্গনে নারী এক সাফল্যে সুনাম। ২৪ ডিসেম্বর ২০১৭ ঢাকার মাঠে অনূর্ধ্ব-১৫ সাফে বাংলাদেশের মেয়েরা ভারত হারিয়ে চ্যাম্পিয়ান হয়েছে। নান্দাইলের ঘাস ফুলের সাত কিশোরীকে গত ১০ নভেম্বর ২০১৭ইং হোটেল সোনারগাঁও সংবর্ধন দেয়া হয়েছিল বাল্য বিবাহ প্রতিরোদের জন্য। গত ২৮ অক্টোবর ২০১৭ প্রথম আলোর শীর্ষ সংবাদ শিরোনাম ছিল ২৪ ঘন্টায় আটবাল্য বিবাহবন্ধ। সেদিনের পত্রিকাটির শিরোনাম নজরে এনেহাইকোর্ট ডিভিশন স্বত: প্রনোদিত হয়েরুল দেন।

এতে রুলে স্থানীয় প্রশাসনের বাল্য বিবাহ রোধেব্যবস্থা গ্রহন সম্পর্কিত নীতি জারিহয়। এলেন নতুন সাফল্য ও অর্জনের আভাস।কবি গুরুর সেই বিখ্যাত গানের লাইন মনেক বিয়ে দেয আলোর তুলেছে হাজার প্রজাপতি। সব অর্জন ইমলিন হয়ে যায় সেই আলোর পথের অভি যাত্রীদের। বছর জুড়ে চলছেনারীর প্রতিসহিংসতা। নারীর প্রতিসহিংসতা শুধু কোন বছরে সীমিত ছিলনা। সৃষ্টিরআদি লগ্ন থেকে এখন পর্যন্ত চলমান প্রবাহ। যেন এর গতি উর্ধ্বমুখী। সহিংসতার কারনে সামগ্রিকনারী উন্নয়ন ও হুমকিরমুখে। নারী সমাজ অবহেলিত, উপেক্ষিত ও লাঞ্চিত। পীড়নেরশিকার এই নারী সব বঞ্চনাসহ্য করছিল, করেছে এক স্বাভাবিক পরিনতিরমত।

সরকারীবা বেসরকারী কোন উদ্দ্যোগই নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সামগ্রিক সফলতা অর্জন করতে পারেনি। নারী নির্যাতনের ঘটনায় সুশীল সমাজ স্তম্ভিত, আতংকিত। তারপরে ও নির্যাতনের ঘটনার দোষী ব্যক্তি চিহ্নিত ও শাস্তি অনেক অংশই প্রশ্নবিদ্ধ, ব্যর্থ। প্রসঙ্গ আমার জন্মভূমি বাংলাদেশ। প্রিয় স্বদেশ। প্রতিনিয়ত স্বামী হচ্ছে হাজারো অপরাধীর দুবৃত্তায়নে। ২০১৭, বাংলাদেশে রিপোর্ট টনারী নির্যাতনধষর্ণ–৫৮৮, পারিবারিক নিযার্তন-৩৪৬, অ্যাসিডসন্ত্রাসের শিকার-২৭, সালিসও ফতোয়ারমাধ্যমে নির্যাতন-৮। নারীর জীবন চক্রে দুবৃত্তের অবাধ বিচরন ও বিচারহীনতা বেড়েই চলছে। ফলশ্রুতিতে নারীর জীবনের বিপন্নতা আরো বাড়ছে। অসীমসাহস, ধের্য্য, অধ্যবাসয়, নিয়ে এগিয়ে চলানারী জীবনের প্রতি পদে সম্মুখীন হচ্ছে সীমাহীন বাধা, ঝড়, ঝঞা। এই পাহাড় সমান দুযোর্গকে অতিক্রম করে আমাদের নারীদের পথচলা। এই গুর্দম গতি অতিক্রম করে প্রতিদিনের হাজাররো বাঙ্গালী নারী। দুবৃত্তায়নযখন-সুস্পষ্ট। আগষ্ট ২০১৭, টাঙ্গাইলের মধুপুর এলাকায় চলন্ত বাসে গণধষণের শিকার হনরুপাখাতুন। পাঁচ পরিবহনকর্মী ধর্ষণের পর হ্যাকরে রুপাকে। আইনজীবি হওয়ার সাধপূরণ হলো না রুপার। এভাবে প্রতিদিন হাজারো রুপা ঝড়ে যায়।

২৮ মার্চ ২০১৭, বনানীর রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণের শিকারহন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী। এই ঘটনায় মামলা দাখিল নিয়েছিল বহু প্রতিবন্ধকতা। এই দুই শিক্ষার্থীকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছিল নানা অপমান জনককারদায়। কেরানীগঞ্জে, জমির বিরোধের জের চাচার হাতেখুন হন সাত বছরের ফারজানা। অপমৃত্যুর মিছিল বেড়েইচলছে। যেন গতিরোধক ব্যবস্থা নেই। সম্ভাবনাময় নারী হারিয়ে যাচ্ছে সন্ত্রাসীদের নিষ্ঠুর আচরনে। ক্রমাগত বেড়েই চলছে নারীর প্রতিসহিংসতা। নারীর প্রতি পাশবিক নির্যাতন উর্ধ্বমুখী। নারীর সামগ্রিক সুরক্ষা আজতাই প্রশ্ববিদ্ধ। অসহায়, আজো আমাদের নারীরা। তাইদিব্য কন্ঠে আজো উচ্চারিত হয় তবু ও বদরুলদের শাস্তি হোক।

ফারজানাকাশেমী

আইনজীবি ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিকা