প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :      শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) আর বেশিদিন নেই প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন। আগামি ১৪ মে হতে যাচ্ছে তার শেষ কর্মদিবস। এ হিসেবে তিনি বিএসইসিতে আর ২ মাস আছেন। তবে শেয়ারবাজারে চলমান অব্যাহত পতনে ব্যর্থতার দায়ে খায়রুল হোসেনের দ্রুত পদত্যাগ দাবি করছেন বিনিয়োগকারীরা

 

২০১০ সালের শেয়ারবাজারে ধসে বিএসইসিকে নতুন করে ঢেলে সাজানো হয়। এই সুযোগে ২০১১ সালের ১৫ মে বিএসইসিতে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান খায়রুল হোসেন। ২০১০ সালে শেয়ারবাজারে ধসের কারন অনুসন্ধানে খন্দকার ইব্রাহিম খালেদের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির বিএসইসিকে ঢেলে সাজানোর পরামর্শের আলোকে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

প্রথমবার ৩ বছরের জন্য খায়রুল হোসেনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। যা শেষ হওয়ার আগেই পূণ:নিয়োগ পান তিনি। তবে এক্ষেত্রে তিনি ৪ বছরের জন্য নিয়োগ পান। কারণ এরইমধ্যে কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মেয়াদ ৩ বছর থেকে বৃদ্ধি করে ৪ বছর করা হয়। আর তার ২ দফায় নিয়োগের ৭ বছর পূর্ণ হবে আগামি ১৪ মে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ সালের ৫ এর ৬ উপধারা অনুযায়ি, বিএসইসির চেয়ারম্যান ও কমিশনারগণ শুধুমাত্র ১টি মাত্র মেয়াদের জন্য পূণ:নিয়োগের যোগ্য হইবেন। সে হিসেবে খায়রুল হোসেনের আর পূণ:নিয়োগের সুযোগ নেই।

খায়রুল হোসেনের মেয়াদ শেষ হয়ে এলেও তিনি আরও ১ বছর থাকার জন্য লবিং করছেন বলে জানা গেছে। এক্ষেত্রে আইন সংশোধন করতে হবে।

এদিকে শেয়ারবাজারের অব্যাহত পতনে বিনিয়োগকারীরা খায়রুল হোসেনের দ্রুত পদত্যাগ দাবি করেছেন। এমনকি বাংলাদেশ পুজিঁবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে মানববন্ধনে তার পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খায়রুল হোসেনের পদত্যাগ নিয়ে আলোচনা উঠেছে।

২০১১ সালের ১৫ মে প্রজ্ঞাপন হাতে পেয়েই খায়রুল হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছুটি এবং আইসিবির চেয়ারম্যানের পদ থেকে অব্যাহতি নেন। এরপর একইদিনে বিকেল সোয়া চারটার দিকে তিনি এসইসিতে যোগদান করেন।

বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগে খায়রুল হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগে অধ্যাপনা করতেন। একই সঙ্গে তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। খায়রুল হোসেন ১৯৮৫ সালে প্রভাষক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। তিনি মস্কো থেকে অর্থনীতি বিষয়ে সম্মানসহ স্নাতকোত্তর ও পরিসংখ্যানে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।