প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :       ক্ষিপ্রগতি অশ্বের হ্রেষাধ্বণি যেমন শত্রুর বক্ষে কম্পন তোলে ঠিক তেমনি জাতীয়তাবাদী শক্তির তরুণরা দুর্ধর্ষ ক্রোধে জ্বলে উঠছে, অভিশপ্ত এই দু:শাসনকে শেঁকড়সহ উপড়ে ফেলার জন্য বলে সরকারকে সতর্ক করেছেন বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। কারা হেফাজেত মারা যাওয়া ছাত্রদল নেতা জাকির হোসেন মিলনকে হত্যার অভিযোগ এনে রবিবার দেশব্যাপী কালো ব্যাচ পরে বিক্ষোভের ডাক দিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব সরকারকে এই সতর্ক করেন। রাজধানীতেও থানায় থানায় এই বিক্ষোভ হবে।

 

রিজভী বলেন, বিচার বিভাগ, রাজনীতি, গণমাধ্যম ও মানুষের বাক স্বাধীনতাকে হরণ করে সকল নাগরিক অধিকার কেড়ে নিয়ে বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার রাষ্ট্রের সকল স্তম্ভ ভেঙ্গে চুরমার করে ফেলেছে। এখন পরিকল্পিত নৈরাজ্য তৈরির জন্য ওবায়দুল কাদের সাহেবরা উস্কানি দিচ্ছেন। সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, গতকাল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন-বিএনপি এখন দিশেহারা নয়, বেপরোয়াও। জনগণ তাদের আন্দোলনে সাড়া দেয়নি। আমি ওবায়দুল কাদের সাহেবকে বলতে চাই-যাদের পায়ের নিচের মাটি থাকে না কেবল তারাই এমন কথা বলতে পারে।

 

বিএনপি নেতা বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষই পুলিশি নজরদারির মধ্যে রয়েছে, যেন কেউ সরকারবিরোধী আওয়াজ তুলতে না পারে। এটিই হচ্ছে অভিশপ্ত দু:শাসনের নাৎসীবাদী দৃষ্টান্ত। হত্যা আর ঘাতকের মাঝখানে এখন বিএনপিসহ বিরোধী দল, মত ও বিশ্বাসের মানুষদের জীবনযাপন করতে হচ্ছে। অত্যাচার-নিপীড়ন-লুন্ঠনের প্রতিনিয়ত সম্প্রসারণ হচ্ছে। নির্বিচার নিপীড়নে নারীরা লাঞ্ছিত হচ্ছে। শিশুরা পিতৃমাতৃহীন হয়ে পড়ছে।

 

গত ৬ মার্চ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে গ্রেপ্তার হন ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদল এর সহ-সভাপতি ও তেজগাঁও থানা ছাত্রদল এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হেসেন মিলন। গত ১২ মার্চ ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে পাঠায় কারা কর্তৃপক্ষ। তবে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।