প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :     দেশে প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ টেলিভিশন উৎপাদন করবে বাটারফ্লাই ইন্ডাস্ট্রিজ। দক্ষিণ কোরিয়ার ইলেকট্রনিকস পণ্য উৎপাদনকারী এলজির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে দেশেই টেলিভিশন তৈরি হবে।

 

আগে বিদেশ থেকে আমদানি করা একাধিক পার্টস একত্র (অ্যাসেম্বলিং) করে পূর্ণাঙ্গ পণ্য তৈরি করলেও এখন তা দেশেই তৈরি হবে। এ জন্য ময়মনসিংহের ভালুকায় টেলিভিশন তৈরিতে কারখানার উদ্বোধন করা হয়েছে। এতে বর্তমান দামের চেয়ে ১০-২০ শতাংশ কম দামে জনগণ টেলিভিশন কিনতে পারবে।

 

বাটারফ্লাইয়ের ফ্যাক্টরি পরিচালনার প্রধান তানভির আলম বলেন, ‘বাংলাদেশে এলজি বাটারফ্লাইয়ের ইলেকট্রনিকস পণ্যের বাজার ২৫ শতাংশ। আমরা এই অবস্থার আরো উন্নতি করতে চাই। আগে অ্যাসেম্বলিংয়ের মাধ্যমে পণ্য তৈরি করা হলেও প্রথমবারের মতো টেলিভিশন উৎপাদন করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এয়ারকন্ডিশন ও ফ্রিজ অ্যাসেম্বলিংয়ের মাধ্যমেই তৈরি করছি। আগামী বছরের মধ্যেই দেশে এয়ারকন্ডিশন ও ফ্রিজ তৈরি করা হবে।’

 

গতকাল বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহের ভালুকায় বাটারফ্লাই কারখানা প্রাঙ্গণে টেলিভিশন তৈরিতে নতুন একটি কারখানার উদ্বোধন করা হয়। টেলিভিশন উৎপাদন কার্যক্রমে বাটারফ্লাই বিনিয়োগ করবে আর প্রাযুক্তিক সহায়তা করবে এলজি। এক লাখ ২০ হাজার বর্গফুটের এই কারখানায় ইউএইচপি টিভিসহ ২৪ থেকে ৫৫ ইঞ্চির ১০টি মডেলের টেলিভিশন তৈরি করবে। প্রতি ঘণ্টায় ১০০ ইউনিট টেলিভিশন তৈরি করতে পারবে। বর্তমান সক্ষমতায় প্রতিবছর টেলিভিশন উৎপাদিত হবে চার লাখ। দেশের চাহিদা মিটিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশেও রপ্তানি করবে প্রতিষ্ঠানটি।

 

জানা যায়, টেলিভিশনের জটিল বিষয় হচ্ছে প্যানেল তৈরি। সঙ্গে মাদার বোর্ডও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিদেশ থেকে সব কিছু আমদানি করে অ্যাসেম্বলিং করা হতো। অনেক বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানও এখন ইলেকট্রনিক সরঞ্জামাদি আমদানি করে টেলিভিশন তৈরি করছে। এখন থেকে এলজির প্রাযুক্তিক সহযোগিতায় টেলিভিশনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ প্যানেল তৈরি করা হবে। মাদার বোর্ড উৎপাদন এখন না করলেও আগামী বছর থেকে মাদার বোর্ড উৎপাদন করা হবে।

 

বাটারফ্লাইয়ের চেয়ারম্যান এম এ মান্নান বলেন, ‘স্বল্পমূল্যেই গ্রাহকরা এখন থেকে টেলিভিশন পাবে। ক্রেতার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকলে অনেকে উপকৃত হবে। আর আমাদের পণ্যের বাজার পরিসরও দ্রুতই বাড়বে। এতে দেশের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্বও হ্রাস পাবে।’

 

বৃহস্পতিবার সকালে কারখানা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের কোরিয়ান দূতাবাসের ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ জং ওন কিম, এলটিভির এশিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড চুন, এলজি বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এডওয়ার্ড কিম, বাটারফ্লাই ইন্ডাস্ট্রিজের ডিরেক্টর সেলস অ্যান্ড প্রডাক্ট মাহবুবুল হক সুফিয়ানী ও হেড অব ফ্যাক্টরি অপারেশন্স তানভীর আলম প্রমুখ।

 

কোরিয়ান দূতাবাসের জং ওন কিম বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্রমেই উন্নতি পথে। ধারাবাহিকভাবে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে, যা উন্নতির চিহ্ন বহন করে। আগামী দিনেও দেশের অর্থনীতি ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় কোরিয়ার মতোই উন্নতি ও প্রবৃদ্ধি করবে বাংলাদেশ। আর এলজি ও বাটারফ্লাইয়ের কারখানা স্থাপন সহায়ক হবে। এই সময়ে বাংলাদেশ জনগণের কাছে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড হচ্ছে এলজি।’

 

এডওয়ার্ড কিম বলেন, বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার এলজির প্রথম টেলিভিশন কারখানা। যথাযথ গুণ-মান নিশ্চিতের মাধ্যমেই জনগণের কাছে পণ্য সরবরাহ করা হবে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতি নতুন গতির সঞ্চার করবে।