মানুষের চাহিদার শেষ নেই। তবে সেগুলোর মধ্যে যে মৌলিক চাহিদাগুলো রয়েছে, তা হচ্ছে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা। মানুষের বেঁচে থাকার জন্য এই মৌলিক চাহিদাগুলোর গুরুত্ব রয়েছে। শুধু বেঁচে থাকাটাই মুখ্য বিষয় নয়, সে বাঁচাটা যেন সুস্থভাবে বেঁচে থাকা হয়, এটাই সবার কাম্য। আমরা যখন স্বপ্ন দেখি একটি সুখি-সমৃদ্ধশালী সোনার বাংলা বিনির্মাণের, তখন সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে কোনটার অধিক প্রয়োজন, সেটার প্রতিও আমাদের লক্ষ্য রাখা উচিত। প্রবাদ আছে ‘স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল’। তাহলে আমরা স্বাস্থ্যের প্রতি কতটুকু গুরুত্ব দিচ্ছি, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

 

মানুষের জীবন নানা রোগে-শোকে আক্রান্ত। এই রোগ থেকে মুক্তির জন্যও প্রয়োজন সুচিকিৎসা। এখন আমরা কতটুকু সুচিকিৎসা পাচ্ছি বা আমাদের কতটুকু চিকিৎসা সেবা দেওয়া ক্ষমতা রয়েছে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। বাংলাদেশে বর্তমান জনসংখ্য ১৬ কোটিরও উপরে। সেক্ষেত্রে আমাদের কতজন চিকিৎসক রয়েছেন?

হেলথ ওয়াচের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ‘বাংলাদেশে একজন চিকিৎসক একজন রোগীর পেছনে সময় দেন ৫৪ সেকেন্ড।’ বাংলাদেশে রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসকের সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার। তাহলে দেখা যায় গড়ে একজন চিকিৎসক ৩ হাজার জন রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেন।

 

এটা হচ্ছে এভারেজ কথা। সেটা শহর অঞ্চলের জন্য হতে পারে। কিন্তু উপজেলা বা ইউনিয়ন পর্যায়ের হিসাবটা আলাদা। এখানে দেখা যাবে গড়ে ১ থেকে ২ লাখ মানুষের জন্য একজন ভাল চিকিৎসক নেই। তাহলে ব্যাপারটা কেমন একটু চিন্তা করে দেখতে পারেন। গ্রামের মানুষগুলো কত অসহায়! যাদের টাকা আছে তাড়া শহরে এসে বা বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করিয়ে আনেন। কিন্তু যাদের টাকা নেই তাদের কী অবস্থা? কতজন টাকার অভাবে চিকিৎসা নিতে পারছেন না, শরীরে নানা রকম রোগ নিয়েই বয়ে চলছেন। কোথাও ভুল চিকিৎসার শিকার হচ্ছেন। সরকারি কোনো চিকিৎসক নেই। হাতুড়ে চিকিৎসকরা সুযোগের অপব্যবহার করছেন। একটি দেশের জনগণের বিরাট একটি অংশ যদি এমন অবহেলায় থাকেন, তাহলে দেশ সমৃদ্ধ হবে কিভাবে। আমি মনে করি সুখে থাকতে সুস্থ থাকা সবচেয়ে বেশি জরুরি।

 

এখন আসি বিসিএস চিকিৎসকদের ব্যাপারে। ডাক্তারি পেশা একটি মহান পেশা। মানুষের সেবা করার সবচেয়ে বড় সুযোগ হয় ডাক্তারদের। আমরা যখন প্রাইমারি স্কুলে পড়েছি তখন ‘জীবনের লক্ষ্য’ রচনা লিখতে অনেকে ডাক্তার হওয়ার কথা লিখেছিলাম। কিন্তু হতে পেরেছে কয়জন? তাই এই লেখাগুলোর মধ্যে থেকে যারা ডাক্তার হয়েছেন তাদের উদ্দেশ্যেই বলছি- সেদিন আপনারাও রচনায় লিখেছিলেন আমি ডাক্তার হবো। ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করবো। বিশেষ করে আমার নিজ এলাকার সাধারণ মানুষের সেবা করবো। গরিব-দুঃখী মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেবো। আমার এলাকায় একটি আধুনিক হাসপাতাল তৈরি করবো। সেখানে সবাইকে চিকিৎসা দেবো। ইত্যাদি ইত্যাদি।

 

দেখেন, আমার বিশ্বাস  এ কথাগুলো সকল বিসিএস চিকিৎসকই লিখেছেন। তাহলে প্রশ্ন এখন ডাক্তার হওয়ার পর কেন আপনার নিজ এলাকায় চিকিৎসা সেবা দেবেন না? কেন আপনার এলাকার গরিব-দুঃখী মানুষকে সেবা দেবেন না? সবাই কেন শহরে থাকতে চান? টাকাই কি জীবনের সব? টাকার প্রয়োজন অবশ্যই আছে। সেটা আপনারা গ্রামে থেকেও আয় করতে পারবেন। তাহলে যান, গ্রামে ফিরে যান। অন্তত চাকরি জীবনের প্রথম তিন-চারটা বছর আপনার এলাকার মানুষের পাশে থাকুন। তা না হলে দরকার নেই, চাকরি ছেড়ে দিন।

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা সরকারি চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে যথার্থই বলেছেন।

 

তিনি বলেছেন, আমরা যখন উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসকদের নিয়োগ দিই, তখন অনেকেই আছেন, যারা কর্মক্ষেত্রে থাকতে চান না। যে কোনো উপায়েই তারা ঢাকায় থাকেন। যদি চিকিৎসকদের ঢাকায়ই থাকার ইচ্ছা হয়, তাহলে তাদের সরকারি চাকরি করার প্রয়োজন নেই। রাজধানীতে বসে প্রাইভেট রোগী দেখে তারা অনেক টাকা উপার্জন করতে পারেন। তাই তাদের চাকরি ছেড়ে বাড়িতে চলে যাওয়াই ভালো। আমরা তাদের স্থানে নতুন নিয়োগ দেবো।

 

আমার মনে হয় এ দেশের ১৬ কোটি মানুষের কেউ তার এই কথাকে ফেলে দিতে পারবে না এবং একমত হবেই। অন্য বিসিএস ক্যাডাররা উপজেলা পর্যায়ে চাকরি করতে পারলে বিসিএস চিকিৎসক ক্যাডারদের সমস্যা কোথায়?

 

লেখক: মো: দেলোয়ার হোসেন শাহজাদা

দপ্তর সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ