ভুঁইফোঁড় নিউজ পোর্টাল, মিথ্যা খবর আর গুজব খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে বড় ধরণের প্রভাব রেখেছে। গবেষণা বলছে ভিত্তিহীন সংবাদ আর গুজবের উপর ভর করেই অধিকতর জনপ্রিয় হিলারি ক্লিনটনকে টেক্কা দিয়ে নির্বাচনের বৈতরণি পার হয়েছিলেন  প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

 

 

উন্নত-অনুন্নত, সারাবিশ্বেই নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনীতিতে এটা খুব চর্চিত হচ্ছে এখন। কারণ যেকোনো দেশের- কি শিক্ষিত, কি অশিক্ষিত বেশিরভাগ নাগরিকেরই ক্রিটিক্যাল থিংকিংয়ের যোগ্যতা নেই।

 

রাজনীতি সম্পর্কে সুক্ষ্ম বোঝাবুঝি নেই। তরুণদের তো রাজনীতির ব্যাপারে আগ্রহই নেই। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আছে বিপুল অংশগ্রহন। ফলে এখানে মিথ্যা খবর, গুজব ইত্যাদি ভাইরাল করতে পারলে খুব কাজে দেয়।

 

 

বাংলাদেশেও যেহেতু নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে সেহেতু প্রধান দুই রাজনৈতিক শিবিরেই পক্ষে-বিপক্ষে মিথ্যা নিউজ ছড়ানো ও ভুঁইফোঁড় পোর্টাল চালু করার পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অধিক মানুষের কাছে যেন এসব মিথ্যা খবর পৌঁছাতে পারে ডলার খরচ করে সে ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

 

 

 

বাংলাদেশে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা প্রায় নেই বলে এবং সংবাদ মাধ্যমগুলোর চাঞ্চল্যকর খবর ব্রেক করার সাহস না থাকায় ভুঁইফোঁড় পোর্টাল ও গুজব অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্যতা পাচ্ছে।

 

 

এগুলোর অধিকাংশই কোন তথ্যসূত্র ব্যবহার না করে বা কাল্পনিক তথ্যসূত্র ব্যবহার করে এসব মিথ্যা সংবাদ বানায় এবং সাধারণ ঘটনাকে রঙ মিশিয়ে রহস্যময় করে তোলে।

 

 

তবে বিদেশি পত্রিকা ও অস্তিত্ব নেই এমন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সূত্র উদ্ধৃত করে মিথ্যা সংবাদ তৈরির মহড়াও শুরু হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। শব্দচয়ন, বাক্যগঠন, সংবাদ উপস্থাপনার ঢং সম্পূর্ণ পেশাদার। কিন্তু তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। সাধারন পাঠকের বোঝার উপায় নেই। তবে এসবের পেছনে যে বেশ বড় আয়োজন এবং দক্ষ হাতের পরিচালনা রয়েছে তা বুঝতে কষ্ট হয় না।

 

 

গত কয়েক মাসে অন্তত তিনটি এমন মিথ্যা সংবাদ বা গুজব বড় আকারে ছড়িয়েছে যাতে দু’একটি মূলধারার সংবাদমাধ্যমও নির্লজ্জভাবে অংশ নিয়েছে।

 

 

যে বিদেশি  গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে উদ্ধৃত করা হচ্ছে এমন কোন প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব আসলেই আছে কিনা বা বিদেশি কোন সংবাদমাধ্যমে এমন কোন খবর আসলেই বের হয়েছে কিনা- ইন্টারনেট খুঁজে তা জানার চেষ্টাও করেনি এই সংবাদমাধ্যমগুলো।

 

 

অবশ্য বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের ইতিহাসে এই ঐতিহ্য তো বহুদিনের। মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে দাঙ্গা লাগানো, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার নজির তো এদেশে বহু রয়েছে। দলান্ধতা, উগ্র গোষ্ঠীবাদ, রাজনীতিতে অসুস্থ সংস্কৃতি আমদানির পেছনেও রয়েছে কিছু কিছু সংবাদমাধ্যমের অবদান।

 

 

এসব নিয়ন্ত্রণে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে ক্ষমতাবান কোন প্রতিষ্ঠান যেহেতু বাংলাদেশে নেই তাই এগুলো বন্ধ হবে বলে মনে করিনা। সরকার হয়ত তার বিরুদ্ধে যায় এমন মিথ্যা সংবাদ ও সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে সচেষ্ট হবে। পক্ষে যায় এমনগুলোকে স্বভাবতই পৃষ্ঠপোষকতা দিবে।

 

 

তবে পেশাদার সংবাদমাধ্যমগুলো চাইলে এসবের বিরুদ্ধে অনেক কিছু করতে পারে। গুজব বিশ্লেষণ ও মিথ্যা সংবাদের অসারতা প্রমাণ করে দেখাতে পারে। কিন্তু সংবাদমাধ্যমগুলো কি তা করবে? যেখানে দু’একটি নিজেই  অংশ নিচ্ছে।

 

 

লেখকঃ সাংবাদিক, [email protected]