প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট : ফেসবুক যে নানাভাবে ব্যবহারকারীদের ওপর গবেষণা চালায় তা সবাই জানেন। আপনার চলাফেরাআ, আচার-আচরণ, পছন্দ-অপছন্দ ইত্যাদি সবচেয়ে ভালো জানে তারা। কিন্তু এবার একইভাবে গবেষণা চালাতে পারেন ফেসবুকের ওপর। সেই কথাই জানাচ্ছেন ওয়াশিংটন পোস্টের কন্ট্রিবিউটর অ্যাবি ওলহেইজার। এখানে সেই পদ্ধতির কাথা তার নিজের ভাষায় তুলে ধরা হলো।

 

আমি আমার পোষা বিড়ালের ছবি দিয়েছিলাম ফেসবুকে। আদুরে বিড়ালের ছবিটা অনেকগুলো লাইক দাবি করে। কিন্তু আমি যদি আগে থেকেই ‘ডিমেট্রিয়াকেটর’  নামের একটা এক্সটেনশন ইনস্টল করতাম, হবে আরো ভালো হতো।

 

এটা চালু থাকলে যে নোটিফিকেশনগুলো অ্যাকাউন্টে দেখাচ্ছে না তা দেখা যাবে। সেখানে নোটিফিকেশনের সংখ্যাগুলোই আমাদের অশান্তির কারণ হয়ে ওঠে। ওই সংখ্যা যত বেশি হবে মনটাও যেন তত ভালো হবে। আর ওই সংখ্যা দিয়ে ফেসবুক আমাদের প্রতিদিন প্রভাবিত করছে। পোস্ট করা বিষয়গুলো কত সময় ধরে রয়েছে তা বোঝাতে মিনিট বা ঘণ্টার পাশাপাশি ‘রিসেন্টলি’ শব্দেও বুঝিয়ে দেয়। আবার একটা পোস্টে যতগুলো লাইক এবং ইমোশনাল রিঅ্যাকশন এসেছে, তার সবগুলোই জানতে হবে এমন কোনো কথা নেই। পোস্ট বা ছবিতে লাইক-কমেন্টের সংখ্যা বৃদ্ধির যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা, সেখানে যোগ দেওয়ার কথা মনেও হবে না। এ সবকিছুতে আপনার সহায়ক হবে প্রগ্রামটি।

 

এই এক্সটেনশনটি বানিয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়েসের প্রফেসর এবং শিল্পী বেন গ্রসার। এর পেছনের তত্ত্বটা সাধারণ। যদি ফেসবুক নানা উপায়ে আমাদের ওপর গবেষণা চালিয়ে বিভিন্ন তথ্য নিতে থাকে, তো আমাদেরও উচিত ফেসবুকের ওপর কিছু গবেষণা চালানো। আসলে ফেসবুককে কেবল গ্রহণ ও প্রদানের স্থান না মনে করে একে গবেষণা চালানোর অন্যতম উৎস হিসেবেও গড়ে তোলা উচিত। কেবলমাত্র সংখ্যা প্রদর্শন করে ফেসবুক যেমন আমাদের মন ও মস্তিষ্কে ব্যাপক প্রভাব সৃষ্টি করেছে, তেমনইভাবে আপনিও ফেসবুকের এসব মুছে দিয়ে শান্তিতে সময় কাটাবেন।

 

তার এই চিন্তা থেকেই বানানো হয়েছে এক্সটেনশনটি। কয়েক বছর ধরে রয়েছে এটি। সম্প্রতি গ্রসার প্রায় একই ধরনের একটি প্রগ্রাম বানিয়েছেন যা টুইটের অনেক কিছুই লুকিয়ে ফেলতে পারে।

 

গ্রসারের এমন বেশ কয়েকটি প্রগ্রাম সফল উদ্ভাবন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তবে ডিমেট্রিকেটর সম্ভবত সবচেয়ে নাম কামিয়েছে। এটা প্রথম ছাড়া হয় ২০১২ সালে। পরে হাজার হাজার মানুষ এটা ব্যবহার করতে শুরু করেন।

 

গ্রসার জানান, ওপরের দিকে ডানে নোটিফিকেশনের লাল এবং সাদা সংখ্যটা সত্যিই জরুরি। সেখানে গেলেই বুঝতে পারবেন কারা আপনার ওপর নজরদারি করছে।

 

আসলে ফেসবুক না দেখা, লাল এবং সাদা নোটিফিকেশনের অর্থ ইত্যাদি না জানলে আমরা অনেক কিছুই মিস করি। সত্যিকার অর্থেই জরুরি বিষয়ও মিস হতে পারে। কিন্তু এর মাধ্যমে খুব বেশি মিস করতে হবে না।