প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :       দেশের উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগের আট জেলায় বোরো মৌশুমে এবার ভয়াবহ জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। জেলাগুলোতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) পার্বতীপুরস্থ রেলহেড ওয়েল ডিপো থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

জানা গেছে, জ্বালানি তেলের সংকটে রংপুর বিভাগের রংপুর, কুড়িগ্রাম, নিলফামারী, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁ ও দিনাজপুর এ আট জেলার ৬৬২ পাম্প মালিক ও এজেন্টরা বিপাকে পড়েছেন। জ্বালানি তেলের অভাবে ইতোমধ্যে বেশি কিছু পাম্প বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বোরো আবাদ সংকটের মধ্যে পড়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

পার্বতীপুর রেল হেড ওয়েল ডিপো সূত্রে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ রেলওয়ে বরাবর ৪টি রেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ করে পার্বতীপুর ডিপোতে। কিন্তু ৩টি রেক কমিয়ে মাত্র একটি রেকে তেল সরবরাহ করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

বিপিসি’র পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ওয়েল কোম্পানির পার্বতীপুর রেল হেড ডিপো ইনচার্জ মো. হেমায়েত উদ্দীন আহমেদ জানান, ৮ জেলায় ৬৬২ এজেন্ট ও ডিলার আছে। দৈনিক চাহিদা ১৮ লাখ লিটার জ্বালানি তেলের। কিন্তু চলতি মাসের ১ থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত সরবরাহ পাওয়া গেছে ২ কোটি ১০ লাখ লিটার।

ডিপো ইনচার্জ বলেন, পার্বতীপুর রেল হেড ওয়েল ডিপোতে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয় দৌলতপুর থেকে। সেখানে পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্বেও হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের রেক কমিয়ে দেওয়ায় এ সংকট তৈরী হয়েছে।

এদিকে, বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিম জোনের সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে বলা হয়েছে, পার্বতীপুর রেল হেড ওয়েল ডিপোতে ৪টি রেকের পরিবর্তে ২টি রেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। অপর ২টি রেকে সিরাজগঞ্জের নর্থ ওয়েষ্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানিতে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে। সূত্রটি আরো জানায়, বিদ্যুৎ উৎপাদনকে অগ্রধিকার দেওয়ায় সরকারি সিদ্ধান্তে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এ ব্যপারে দিনাজপুর জেলা পাম্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রওশন আলী বলেন, চাহিদামত তেল সরবরাহ না পাওয়ায় গ্রাহকদের প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি পাম্প বন্ধ হওয়ার কথাও তিনি স্বীকার করে। এ অবস্থা অব্যহত থাকলে বোরে আবাদে বিরুপ প্রভাব পড়বে বলে এ জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী আশঙ্কা প্রকাশ করেন।