প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :  তেলবাহী ট্রেনকে দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করা সেই সাহসী দুই শিশুকে সংবর্ধনা দিয়েছে রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় কর্মকর্তারা। আজ বুধবার দুপুরে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী রেলওয়ে ম্যানেজারের দপ্তরের সামনে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

 

আজ দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী মহানন্দা একপ্রেস ট্রেনে চড়ে বাবা-মার সাথে ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনে আসেন এই দুই শিশু। এরপরে তারা পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় দপ্তরের আসলে সিহাবুর রহমান (৬) ও লিটন আলী (৭)কে ফুলের তোরা দিয়ে অভিনন্দন জানান রেল কর্মকর্তারা। পরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রেলওয়ের বিভাগীয় ম্যানেজার অসীম কুমার তালুকদার তাদের প্রত্যেককে ১৩ হাজার টাকা ও ক্রেস্ট প্রদান করেন।

এ সময় বক্তব্য রাখেন রেলওয়ের বিভাগীয় ম্যানেজার অসীম কুমার তালুকদার, আড়ানী রেলওয়ে স্টেশনের  সহকারী স্টেশন মাষ্টার মোস্তাফিজুর রহমান নয়ন, বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা শওকত জামিল মোহসী, বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ আসাদুল হক, বিভাগীয় সেতু প্রকৌশলী আরিফুর রহমান, বৈদ্যুতিক কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম, বিভাগীয় সংকেত প্রকৌশলী আবু হেনা মোস্তফা আলম, পাকশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুল ইসলাম হব্বুল, রেলওয়ে ঠিকাদার ব্যবসায়ী আনোয়ারুল ইসলাম বাবু, রেল শ্রমিক লীগের সভাপতি ইকবাল হায়দার প্রমুখ।

উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত আওয়ামী লীগ নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুল ইসলাম হব্বুল এবং রেলওয়ে ঠিকাদার আনোয়ারুল ইসলামও তাদের দুজনকে ১ হাজার টাকা করে নগদ পুরস্কার দেন। এ ছাড়াও মীর আকতার হোসেন লিমিটেডের পক্ষ থেকে দুই শিশুকে নগদ ৫ হাজার টাকা দেন।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার এই দুই শিশুকে পুরস্কৃত করেন বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন রেজা।

সাহসী শিহাবের মা রিতা বেগম জানান, তাদের থাকার বাসস্থান নাই, মাথা গোজার ঠাই নাই। তারা এই শিশুদের মানুষ করতে চান।

এজন্য সরকারী সহযোগিতা চেয়েছেন।

লিটনের নানী শুক্কুরজান বেওয়া বলেন, রেললাইনের ধারে রেলওয়ের জায়গাতে আমরা বসবাস করি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লেখাপড়ার না হয় খরচ দিবে, থাকার ব্যবস্থা করবে কিড্যা!

প্রসঙ্গত, গত ১৮ ডিসেম্বর রেললাইন দিয়ে হাঁটার সময় ভাঙ্গা দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিক দৌড়ে বাড়ি থেকে লাল রঙের মাফলার আনে শিহাব ও লিটন। এ সময় তারা মাফলারের দুইদিকে ধরে ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থাকলে ৩২টি বগির তেলবাহী ট্রেনটি মারাত্মক দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায়।