প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :      ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের মাদক সেবন এবং ব্যবসা নিত্য নৈমাত্তিক ঘটনা। এ বিষয়ে তথ্য প্রমাণ থাকা স্বত্তেও কখনো কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হটাৎ করে লালন শাহ হলে ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রিত রুমে অভিযান চালিয়ে মাদক ও রামদাসহ এক বহিরাগতকে আটক করে প্রক্টরিয়াল বডি।

 

 

 

এদিকে প্রক্টরিয়াল বডির এই অভিযানকে সাজানো নাটক ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহিন। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ কোনো সন্ত্রাসী সংগঠন না। সুতারং আমাকে না জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ছাত্রলীগ কর্মী বা আমার হলে থাকা কোনো সাধারণ শিক্ষার্থীকে হেনস্তা করতে পারে না। প্রক্টরিয়াল বডি আমাদের না জানিয়ে হলে প্রবেশ করে আমার কর্মীসহ তার গেস্টকে লাঞ্ছিত করেছে। এটা কখনো কাম্য নয়। আমাদের কোনো রুমে এমন কোনো দ্রব্যাদি ছিল না। তারা নিজেরাই এই নাটকটি সাজিয়ে ছাত্রলীগের সম্মান নষ্ট করার চেষ্টা করছে। তারা এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর মূর‌্যালে ইটপাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগ করেছে। যেটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।’

 

 

 

তবে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, “মঙ্গলবারের ঘটনাটি আয়নার মত পরিষ্কার। নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিত্বে ওই রুমে যাওয়া হয়েছে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ও বহিরাগত দুই মাদক ব্যবসায়ীকে মাদকসহ এবং মাতাল অবস্থায় ধরা হয়েছে। এখন এ ঘটনাকে বিভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।”

 

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও হল সূত্রে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৬টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালেয়ের লালন শাহ হলে দক্ষিণ ব্লকের টিচার্স রুম (গনরুম নামে পরিচিত) থেকে ৩টি চাপাতি,
৯টি ইনটেক ও কিছু খোলা ফেনসিডিলের বোতলসহ ছাত্রলীগ কর্মী আকাশ (লোক প্রশাসন ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ) এবং বহিরাগত দানিয়েল ও রফিকুলকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি। আটককৃতদের হল গেটে নিয়ে আসলে সেখানে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহিন গ্রুপের কর্মীরা আটককৃতদের ও উদ্ধারকৃত সরঞ্জামাদি কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করে। পরে আটককৃত বহিরাগত রফিকুল প্রক্টরিয়াল বডির হাত থেকে পালিয়ে যায়। পরে উদ্ধারকৃত অস্ত্রসহ আটককৃতদের ইবি থানায় সোপর্দ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টারয়াল বডি। ছাত্রলীগের সভাপতি গ্রুপের নেতাকর্মীরা থানায় গিয়ে আকাশকে ছাড়িয়ে নেয়।

 

 

 

এ ব্যাপারে ছাত্রলীগের দাবি, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমানের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না। তাই ছাত্রলীগের সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহিনকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে তার ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য তিনি এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। শিক্ষার্থীরা ঘুমানো অবস্থায় প্রক্টর নিজেই ওই রুমের পেছনের খোলা দরজা দিয়ে ওই ব্যাগে মাদক ও অস্ত্র ঢুকিয়ে নিজেই  ছাত্রলীগের নামে বদনাম দিচ্ছে। প্রক্টরিয়াল বডি হল কর্তৃপক্ষর অনুমতি ছাড়াই হলে তল্লাশি চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ছাত্রলীগ।

 

 

 

তবে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন,‘বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন শৃঙ্খলার দায়িত্ব পালন করেন প্রক্টরিয়াল বডি। শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে ক্যাম্পাসের ১৭৫ একরে যে কোনো জায়গায় যেতে কারো অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। হলে প্রবেশ করতে হলে সৌজন্যতার খাতিরে হল কর্তৃপক্ষকে জানাতে হয়। আমরাও হল কতৃপক্ষকে জানিয়েছিলাম।’

 

 

এ প্রসঙ্গে লালন শাহ হলের ভারপ্রাপ্ত প্রভোস্ট ড. তপন কুমার রায় বলেন,‘ হলে প্রবেশের আগে প্রক্টর আমাকে জানিয়েছে। তবে তল্লাশির ব্যাপারে আমি কিছ্ইু জানতাম না।’

 

 

 

এদিকে প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার রাতে ককটেল বোমা বিষ্ফোরণ, সিসি টিভি ক্যামেরা, টিএসসিসি, ক্যাফেটরিয়ার জানালা, ওয়াই ফাই রাউডার ও মেইন গেট ভাঙ্গচুর এবং ব্যানার ফেস্টুন ভাঙ্গচুর করে অগুন দেয় ছাত্রলীগ কর্মীরা। এ সময় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমানের পদত্যাগ দাবিতে শ্লোগান দেয়।