প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :      প্রিপেইড মিটার গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পের অধীনে এক-পে সিস্টেমে (বিল পরিশোধের সফটওয়্যার) যুক্ত হতে যাচ্ছে বিদ্যুতের মিটার। এতে মিটারের বিল পরিশোধ সহজ হবে।

 

এ ব্যাপারে ডিপিডিসির ডিজিএম কামরুল এহসান বলেন, এটি এ-টু-ওয়াইয়ে একটি প্রকল্প। এজন্য বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানিসহ মোট ১৬টি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ টু ওয়াইয়ের সমঝোতা চুক্তি হয়েছে। যেন একটি পয়েন্ট থেকে বিল দেওয়া যায়। এটি একটি সফটওয়ার।

বিদ্যুতের বিল দিতে গিয়ে অনেক সময় গ্রাহকদের লাইনে দাঁড়াতে হয়, এতে ভোগান্তির শিকার হন গ্রাহক সাধারণ। এই গ্রাহক ভোগান্তি কমাতে এক জায়গা থেকে সব কিছু ম্যানেজ করার পরিকল্পনা করা হয়।

সেবাসংস্থাগুলো এক-পে নামের সফটওয়ারটি ব্যবহার করবে, আবার গ্রাহকও একটি সফটওয়ার ব্যবহার করবেন। গ্রাহক অ্যাপসের মাধ্যমেই এই এক-পে সিস্টেম ব্যবহার করতে পারবেন। এতে কোম্পানিগুলোরও হিসাব রাখা সহজ হবে, গ্রাহক ভোগান্তিও কমে আসবে।

এখন বিল দেওয়ার ক্ষেত্রে বিড়ম্বনার স্বীকার হচ্ছেন গ্রাহক। কোনও কোনও ক্ষেত্রে গ্রাহকের লম্বা সময় লাইনে দাঁড়িয়ে বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। শুরুতে এ ধরনের বিড়ম্বনায় গ্রাহক অভিযোগ করেও কোনও সহায়তা পাচ্ছেন না।

গ্রাহক হয়রানির বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নজরে আসায় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে গত ৪ মার্চ একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে দ্রুত প্রি-পেমেন্ট মিটারের সমস্যা দূর করার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিদ্যুৎ বিভাগ এ বিষয়ে গত ৭ মার্চ আরও একটি বৈঠক করেন।

বিদ্যুৎ বিভাগের এক বৈঠকে সম্প্রতি জানানো হয়, এ টু আই প্রকল্পর মাধ্যমে সব প্রকার বিল পরিশোধের লক্ষ্যে এক-পে পদ্ধতি ইতোমধ্যে পাইলট আকারে শুরু হবে।এক-পে সিস্টেমে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা সম্ভব হলে বিদ্যুৎ বিভাগের কোনও আর্থিক ব্যয়ের প্রয়োজন হবে না।

এ বিষয়ে কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, বিল প্রদানে সমস্যাগুলো আমাদের নজরে এসেছে।আশা করছি, শিগিরই এই সমস্যার সমাধান হবে। আমরা এমন পদ্ধতির সঙ্গে যুক্ত হতে যাচ্ছি যেখানে গ্রাহক মোবাইলে রিচার্জের মতো প্রি-পেমেন্ট মিটারে রিচার্জ করতে পারবেন।এতে আর বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে কোনও বিড়ম্বনা থাকবে না।

তিনি জানান, এক-পে সিস্টেমের মাধ্যমে শুধু বিদ্যুতের বিল না গ্রাহক চাইলে অন্য ধরনের সব বিলও দিতে পারবে।এটি একটি পেমেন্ট গেটওয়ে সিস্টেম। এই সিস্টেমের মাধ্যমে সব ধরনের বিল দেওয়া যাবে।এটি একটি ইউনিফায়েড সিস্টেম হবে।

জানা গেছে, ওই কমিটিতে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর দু’জন করে সদস্য রয়েছেন। গত ৮ মার্চ বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব রহমত উল্লাহ মো. দস্তগীর (এনডিসি) স্বাক্ষরিত এক আদেশে ওই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে প্রি- পেমেন্ট মিটারের সমস্যা সমাধানে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকার দ্রুত দেশের বিদ্যুৎখাত তথ্য প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানোর চেষ্টা করছেন। এক-পে সিস্টেমকে এর একটি বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন সীমিত আকারে দেশে প্রি-পেমেন্ট মিটারে বিদ্যুৎ বিতরণ শুরু হয়েছে।

বলা হচ্ছে, ভবিষ্যতে সারাদেশের সব গ্রাহককে প্রি-পেমেন্ট মিটার দেওয়া হবে। সরকার ২০২১ সালের মধ্যে অন্তত ২ কোটি গ্রাহকের আঙিনায় প্রি-পেমেন্ট মিটার স্থাপন করতে চায়।

ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান বলেন, প্রি-পেমেন্ট মিটারে গ্রাহক আগে থেকে বিল পরিশোধ করায় কোনও বকেয়া থাকে না। এই পদ্ধতিতে মিটার রিডিং বিল প্রস্তুত এবং বিতরণের কোনও প্রয়োজন না হওয়ায় অতিরিক্ত খরচ হয় না। বিদ্যুৎ বিলের বকেয়া এতে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব। একইসঙ্গে সিস্টেম লস কমে আসবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এক-পে পদ্ধতি ছাড়াও ইউনিফাইড সফটওয়্যার আবগ্রেডেশন (একক প্রযুক্তি ব্যবহার), স্মার্ট র স্ট্যান্ডার্ড এসপেসিফিকেশন (মিটারের মানদণ্ড নির্ধারণ), খোলা বাজার থেকে মিটার ক্রয়ে নীমিমালা তৈরি করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

ডিপিডিসি জানায়, গত ফেব্রুয়ারি মাসে টেলিটকের প্রতিনিধিরা ডিপিডিসির সঙ্গে বৈঠক করেছে। বিতরণ কোম্পানিগুলোকে এক-পে সিস্টেমে নেওয়ার জন্য কানেকক্টিভিটি স্থাপনে কিভাবে কাজ করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করা হয় বৈঠকে। বর্তমানে কানেক্টিভিটি স্থাপনের কাজ চলছে। ডিপিডিসির সার্ভারের সঙ্গে টেলিটকের এই কানেক্টিভিটি স্থাপন করা হচ্ছে। ডিপিডিসি ছাড়াও অন্য বিতরণ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।