প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :    বিয়ের রাতে জানতে পারি- স্ত্রী আমরা ৮ ভাই, ৩ বোন। আমি সবার ছোট। খুব ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়েছি। তখন আমার বয়স ৩ বছর। বাবার স্মৃতি খুব কমই আছে আমার মনে। আমরা খুব সম্ভ্রান্ত পরিবার হওয়ায় আর্থিক কষ্ট বুঝিনি।

 

আমার বড় ভাইয়েরা আমাদের মোটামুটি আগলিয়ে রেখেছিল। ভাইয়েরা বাবার ব্যবসাই করেছে। আমি আর ইমিডিয়েট বড় ভাই, আমাদের বয়সের ব্যবধান ১ বছর।

আমরা যখন ক্লাস এইটে পড়ি তখন বড় ভাইয়েরা সব বিষয়-সম্পদ ভাগ বাটোয়ারা করে দেয়। আমাদের ব্যবসা আলাদা করে দেয়। তখন থেকেই আমার স্ট্রাগলিং শুরু। আমি ব্যবসা আর পড়াশোনা দুটোই পাশাপাশি চালিয়ে যেতে থাকি।

অনেক কস্ট করেছি তখন। এক সময় আমার ব্যবসা দাঁড়িয়ে যায়। আমিও মাস্টার্স কমপ্লিট করি। এর মাঝে অনেকের সাথেই আমার পরিচয় হয়, কারও সাথে ভালো লাগা বা ভালবাসার সম্পর্কও গড়ে ওঠে। কিন্তু তা বেশি দূর গড়ায়নি।

আমি মোটামুটি এস্টাবলিশড্ হয়ে যখন পাত্রী দেখা শুরু করি, তখন অনেক বেশিই পাত্রী দেখে ফেলি। বেশি বাছবিচার করতে গিয়ে আমার ফ্যামিলির ভাই-বোনদের একটু বেশিই বিরক্ত করে ফেলি হয়তো।

শেষে আমার বোন ঘটকের মাধ্যমে এক মেয়ের ছবি দেখায়। আমারও ভাল লাগে। আমরা ওই মেয়েকে সামনাসামনি ওদের বাড়িতে দেখতে যাই। গিয়ে আমি হতাশ হই, এ মেয়ে সে মেয়ে নয়। আর একে আমার পছন্দও হয়নি একটুও।

আমি আমার বোনকে জানিয়ে দেই। আমার ভাই-বোন তার আগেই তাদের সাথে পজিটিভ আচরণ করতে থাকায় আমি জোড়ালোভাবে না বলতে পারি না। তখন আমি বলি এর ছোট বোনটিকে আমার পছন্দ হয়েছে, যদি ওরা রাজি হয়, তবে ছোটটিকে আমি বিয়ে করতে চাই।

আমার বোন আমাকে আশ্বাস দেয়, ছোটটির ব্যাপারে সে কথা বলবে। তারপর আমরা ওদের বাড়ি আবার যাই কথা ফাইনাল করতে। কিন্তু গিয়ে জানতে পারি, ওরা বড়কে রেখে ছোটকে বিয়ে দিতে রাজি নয়।

তারপর আমার ফুপাত ভাই আমাকে বুদ্ধি দেয়, বিয়ে কর। বউ এর সাথে শালি তো ফ্রি। আমিও বোকার মত চুপ করে থাকি এবং এখানেই বিয়ে করি। বিয়ে নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন ছিল। কিন্তু বিয়ের রাতেই আমি ব্যর্থ হই। আমাদের মধ্যে কোনো স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক হয় না

আমার স্ত্রীর যোনিতে সমস্যার কারণে। সেদিন আমি খুব ভেঙে পড়ি। অনেকের মুখেই অনেক কথা শুনেছি এতদিন, তাহলে আমি কি শেষ পর্যন্ত একটা হিজড়াকে বিয়ে করেছি? মানসিকভাবে আমি শেষ হয়ে যাই।

তার পরদিন সকালে আমার বোনকে সব জানাই। আমার বোন তখনি ডিভোর্স দিতে বলে। কিন্তু আমি পারি না। আমার কেবলই মনে হতে থাকে আমি মেয়েটির জীবনে একটা দাগ ফেলে দিলাম।

তারপর আমার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সাথে কথা বলে ওকে চিকিৎসা করাই এবং ধীরে ধীরে আমাদের জীবন স্বাভাবিক হয়। সবকিছু ভালই চলছিল। এলাকায় আমার ক্ষমতা আর টাকার কারণে আমার স্ত্রী ধরা কে সরা জ্ঞান করতে শুরু করে।

সংসারের কিছুই করে না সে। সারাদিন ফোন, টিভি, ফেসবুক এসব নিয়ে পড়ে থাকে। আমি বন্ধুদের সাথে খেলি, ঘুরি, আড্ডা দেই।আর ও সংসার ফেলে ছেলেদের সাথে ফোনালাপে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

তখন আমার একটা বাচ্চাও হয় এবং তা হঠাৎ করেই। কোনরকম প্ল্যান ছাড়াই। কিন্তু এতেও আমার স্ত্রীর কোনোরুপ কিছুই পরিবর্তন হয় না।

সে তার মতোই চলতে থাকে। আমার বাচ্চাকেও সে দেখে না। আমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমাকে বোঝায় যে ওর মানসিক সমস্যা আছে। তাদের কথামত আমি ওর মানসিক চিকিৎসাও করাই। তবুও কিছুই হয় না।

আমার মেয়েকে আমি, আমার শাশুড়ি এবং শ্যালিকারা মিলে দেখাশোনা করি। এর মাঝেই আমার স্ত্রী আমার এক বন্ধুর সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে যায় এবং তা আমার অগোচরে।

পরে আমি যখন সব জানতে পারি, তখন ওকে আমি আর মেনে নিতে পারি না। কিন্তু আমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন আর আমার স্ত্রী কখনো আমার পা ধরে কান্নাকাটি করেছে, কখনো আমাকে ভয় ভীতি দেখিয়ে ডিভোর্স দিতে বাধা দেয়। এমতাবস্থায় আমার করনীয় কী?