প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট : সময়টা ভালো যাচ্ছে না। পৃথিবী ও জীবনের বিপর্যয়; দুশ্চিন্তা ও কষ্ট থেকে সৃষ্ট বিষণ্নতায় ডুবে আছেন। বিষণ্ণতা দীর্ঘস্থায়ী হওয়া বা সঠিকভাবে বললে, বিষণ্নতা পুষে রাখা মানসিক, শারীরিক এবং আত্মিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

 

আমাদের কি আসলে নিজেদের ক্ষতি করার অধিকার আছে? বিষণ্ণ হয়ে অসুস্থ হতে থাকার সুযোগ কি আছে? বিষণ্ণতায় খাওয়া-দাওয়া ভুলে যাওয়া, পড়াশুনা, কর্তব্য পালনে অবহেলা, ত্যক্ত-বিরক্ত থাকা স্বাভাবিক কিছু বিষয়। কিন্তু, আল্লাহ কি আমাদের সেই অনুমতি দিয়েছেন?

 

নিজের ওপর আশা হারিয়ে ফেলা ঠিক নয়। বরং এই পৃথিবীতে আমাদের আসার মূল উদ্দেশ্যটা হৃদয়ে ভালো করে গেঁথে নেয়া উচিত। কেন এসেছি দুনিয়াতে, কতদিন থাকি এখানে, কী পাই, কেন পাই, কেন সবকিছু হারায়, কেন চলে যেতে হয় একদিন? এগুলোর উত্তর জানলে কোনো ঘটনা, কোনো অপ্রাপ্তি বা কাউকে হারিয়ে ফেলার ভয়-আশঙ্কা, দুঃখ কষ্ট আমাদের খুব বেশি তাড়িত করবে না। ইসলাম আমাদের এসব প্রশ্নের উত্তর জানিয়ে দেয়।

 

আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলা আমাদের সব ধরনের সম্ভাব্য অশান্তি, অস্থিরতার উত্তর বলে দিয়েছেন কোরআনে, তিনি আমাদের সমস্ত দু’আ শোনেন। এমনকি বুকের ভেতরে যে চাওয়া, যে আর্তি গুমরে কেঁদে ওঠে নিঃশব্দে, তিনি সেটাও স্পষ্ট শোনেন, জানেন। আল্লাহ সব সময়েই আমাদের সাথে আছেন। জীবনে আমাদের যা কিছু ঘটে, সবকিছুরই অর্থ রয়েছে। কিন্তু, আল্লাহ পৃথিবীটাকে ‘সিস্টেমেটিক’ করে বানিয়েছেন। কষ্ট-প্রশান্তি, শক্তি-দুর্বলতা, সুস্থ-অসুস্থতা সবকিছুই আমাদের জীবনেরই অংশ এবং তারা আল্লাহর নির্দেশেই এগুলো আসে। আল্লাহ খুব ভালো করে জানেন আমাদের অবস্থা। তাই কখনোই আশা না হারিয়ে বরং ধৈর্যধারণ করা উচিত। নিশ্চয়ই কষ্টের পরেই স্বস্তি থাকে।

 

মুমিন বান্দার জীবনে যতক্ষণ ঈমান আছে বুকের ভেতর, তার সবকিছুই কল্যাণকর। এমনকি শরীরে কাঁটা ফুটলেও, রোগ হলেও, সম্পদ হারিয়ে গেলেও, পৃথিবী চলে যাওয়া প্রিয়জনের শোকের মাঝেও কল্যাণ রয়েছে। আল্লাহ এসবের বিনিময়ে পুরস্কার দেবেন এবং তার পরিমাণও হবে অনেক বড়- যা আমাদের কল্পনার অতীত।

 

কোরআনুল কারীম যখন তিলাওয়াত করি, প্রতিটি আয়াত আমাকে প্রশান্তি দেয়। হৃদয়ে দারুণ আশা জাগিয়ে তোলে। আবার এমন ভীত-সন্ত্রস্তও করে দেয়, যা আমাকে কল্যাণের পথে দৃঢ় করে। আহ, আমার রবের কালাম!

 

কালামুল্লাহ থেকে কিছু আয়াত উল্লেখ করছি-

قُلْ يَا عِبَادِيّ الَّذِيْنَ اَسْرَفُوْا عَلٰى اَنْفُسِكُمْ لَا تَقْنَطُوْا مِنْ رٌحْمَةِ اللّٰهِ. إِنٌ اللّٰهَ يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ جَمِيْعاً. إِنَّهٌ هُوَ الْغَفُوْرُ الرَّحِيْمُ.

‘হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের উপর বাড়াবাড়ি করেছো তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না, নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেবেন। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও করুণাময়।’ [সুরা যুমারঃ৫৩]

 

قَالَ رَبُّكُمْ ادْعُوْنِيْ اَيْتَجِبْ لَكُمْ.

‘তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি সাড়া দেব।’ [সুরা মু’মিন – ৬০]

وَإِذَا سَأَلَكَ عِبِادِيْ عَنِّيْ فَإِنِّيْ قَرِيْبٌ. أُجِيْبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ اِذَا دَعَانِ. فَلْيَسْتَجِيْبُوْ لِيْ وَلْيُؤْمِنُوْا بِيْ لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُوْنَ.

 

‘বস্তুতঃ আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে আমার ব্যপারে, বস্তুতঃ আমি রয়েছি সন্নিকটে। যারা প্রার্থনা করে, তাদের প্রার্থনা কবুল করে নেই, যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে। কাজেই তারা যেনো আমার হুকুম মান্য করে এবং আমার প্রতি নিঃসংশয়ে বিশ্বাস স্থাপন করে। যাতে তারা সৎ পথে আসতে পারে।’ [সুরা বাকারা:১৮৬]

 

সর্বপ্রথম তাই আল্লাহর উপরে ভরসা করতে হবে। নিজেকে চিনতে ও জানতে হবে, নিজের পরিচয় ও জীবনের অর্থ বুঝতে হবে। নিশ্চিত থাকতে হবে দৃশ্য-অদৃশ্যের মালিকের পরিকল্পনার ব্যাপারে। আমরা খুব কমই জানি এই সৃষ্টিজগতের। আল্লাহ সবকিছু বানিয়েছেন এবং তিনিই সবকিছুর একচ্ছত্র অধিপতি এবং তাঁর সৃষ্টির মাঝে কোনো খুঁত নেই। তিনি পরম করুণাময়। আমাদের জন্য তিনি কখনোই অকল্যাণকর কিছু করেন না, আমাদের জ্ঞানের স্বল্পতার কারণে আমরা অনেক কিছুই বুঝি না।

 

দয়াময় প্রভু বলেছেন-

فَإِنَّ مَع‌ الْعُصْرِ يُسْراً إِنَّ مَعَ الْعُصْرِ يُسْراً.

‘নিশ্চয়ই কষ্টের পরেই স্বস্তি আছে। অবশ্যই কষ্টের পরে স্বস্তি আছে।’ [সুরা আলামনাশরাহ- ৬]

 

উক্ত আয়াতটিতে লক্ষ্য করুন- দয়াময় আল্লাহ কত দৃঢ়ভাবে তাকিদ দিয়ে একটিই কথা দুইবার বলেছেন! তাই শান্ত হোন, ধৈর্য্যধারণ করে সময়টাকে শুধু পেরিয়ে যেতে দিন।

 

রাব্বে কারীম আমাদের ক্ষমা করুন। আমাদের দুঃখ কষ্টগুলো দূর করে দিয়ে হৃদয়কে প্রশান্ত করে দিন। আর আমরা যেন হই তাঁর একনিষ্ঠ ও অনুগত বান্দা, দয়াময় প্রভু তাওফিক দান করুন।