প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :  হৃদরোগীদের হার্টের ভাল্ব ও পেসমেকার সংযোজনের খরচ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ছিল অনৈতিক বাণিজ্যের অভিযোগ। একই ডিভাইসের দাম একেক হাসপাতালে একেক রকম আদায় করা হয়।

যা নিয়ে চলে বিশৃংখলা অবস্থা। রোগীরা শিকার হয় আর্থিক ক্ষতির। আবার বেশি দাম রেখে কমদামের কিংবা নিম্নমানের ডিভাইস দেওয়ার অভিযোগও ওঠে রোগীদের ভেতর থেকে। অবশেষে সরকার হার্টের বাল্ব বা পেসমেকারের দাম নির্ধারন করে দিয়েছে। এখন থেকে একই ডিভাইসের দাম প্রতিটি হাসপাতালে একই থাকবে।

আজ মঙ্গলবার ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন এই মূল্য নির্ধারণের একটি তালিকা প্রকাশ করে। যার মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রচলিত হার্টের বাল্বের মূল্য প্রকারভেদে ৪ হাজার ৮শ টাকা থেকে ২৬ হাজার টাকা পযর্ন্ত কমে যাবে বলেও জানানো হয়। অন্যদিকে পেসমেকারের ক্ষেত্রে ৫ হাজার থেকে শুরু করে প্রকারভেদে ৪ লাখ ৭ হাজার টাকা পযর্ন্ত কমবে বলে দাবী করে ঔষদ প্রশাসন অধিদপ্তর।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ওই অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. জাহাঙ্গীর হোসেন, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আফজালুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে ৮টি ব্র্যান্ডের ভাল্ব ও ৯ প্রকার পেসমেকারের দাম ঘোষণা করে জানানো হয়, সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালেই এখন থেকে সরকার নির্ধারিত মূল্য প্রযোজ্য হবে।

ভাল্ব : এসজেএম মেকানিক্যাল হার্ট বাল্ব -আরএ ক্যাটগরির ৫৮-৭৪ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও এখন তার বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৮ হাজার টাকা, একই কোম্পানির আরএম ক্যাটাগরির ভাল্বের দামও নির্ধারন করা হয়েছে ৫৮ হাজার টাকা। এছাড়া রিজেন্ট মেকানিক্যাল ভাল্বের আরএ ক্যাটাগরির দাম ৭৫ হাজার টাকা, এসজেএম মেকানিক্যাল হার্ট ভাল্বের সিভি ক্যাটাগরির দাম ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, মেট্রোনিক ওপেন হার্ট ভাল্বের মিট্রাল ক্যাটাগরির  ৫৮ হাজার’ অর্টিক ক্যাটাগরির ৫৮ হাজার টাকা’ অন এক্স প্রস্থেটিক হার্ট ভাল্বের দাম ৫৫ হাজার টাকা, টিস্যু হার্ট ভাল্ব ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারন হয়েছে।

পেসমেকার : পেসমেকারের ক্ষেত্রে ভিভিআই (সিঙ্গেল চেম্বার) ৬৫ হাজার টাকা, ভিভিআই (সিঙ্গেল চেম্বার) আরআর ক্যাটাগরির ৯৫ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা, এমআরআইসহ ভিভিআই (সিঙ্গেল চেম্বার) আরআর ক্যাটাগরির ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, ডিডিডিআর ১ লাখ ৫২ হাজার টাকা, এমআরআইসহ ডিডিডিআর ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা, সিআরটিপি ৪ লাখ থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা, আইসিডি-ভিআর ৪ লাখ ২০ থেকে ৫ লাখ টাকা, আইসিডি-ডিআর ৬ লাখ ৫০ থেকে ৯ লাখ টাকা এবং সিআর-টিডি ৮ লাখ ৫০ হাজার থেকে ১০ লাখ টাকা দামে সংযোজন হবে। এর বাইরে রোগীদেরকে শুধু পেসমেকার ব্যবহারের সময় টিএল এর পরিবর্তে এসএল এর জন্য অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা দিতে হবে।