প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :     দু’হাজারের বছরের বেশি সময় ধরে হ্যান্ডশেক চালু রয়েছে। প্রাচীন গ্রিক এই বোতলটির ছবিতে তার এক প্রমাণ।

 

তবে গ্রিকরা তখন হ্যান্ডশেকের সঙ্গে রোগের সম্পর্কের বিষয়টি ধরতে পারেনি। তারা মনে করতো রোগবালাই ‘হিউমারের’ সঙ্গে সম্পর্কিত এবং ঈশ্বর প্রদত্ত শাস্তি।

ধারণা করা হয় হ্যান্ডশেকের শুরুটা হয়েছিল দু’জন মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্ক স্থাপনের উপায় হিসেবে।

প্রাচীনকালে ডান হাত হ্যান্ডশেকের ভঙ্গিতে এগিয়ে দিয়ে বোঝানো যেত মানুষটি কোনো অস্ত্র প্রদর্শন করছে না।

তাছাড়া হ্যান্ডশেক মানুষের মস্তিষ্কে ‘অক্সিটোকিন’ হরমোন নিঃসরণ করে যা দু’জন মানুষের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে গড়তে সহায়ক। তবে গবেষকরা বলছেন, এভাবে জীবাণুও ছড়ায়।

সংস্কৃতিভেদে হ্যান্ডশেকের অর্থও ভিন্ন হয়। পশ্চিমা সমাজে দৃঢ় করমর্দনের মাধ্যমে ব্যক্তির ইতিবাচক এবং সুদৃঢ় মনোভাব ফুটিয়ে তোলা হয়।

তবে পূর্বের সংস্কৃতিতে নরম করমর্দনের প্রচলন বেশি। সেখানে দৃঢ় করমর্দনকে আধিপত্য স্থাপনের চেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে সর্দি বা জ্বরের ভাইরাস, পাঁচড়ার জীবাণু এবং স্ট্যাফিলোকোকাসের মতো ব্যাকটেরিয়া একজনের দেহ থেকে অন্যের দেহে পৌঁছায়।

আপনি নিজেই ভাবুন, সর্দি হলে কী করেন? হাত দিয়ে নাক পরিষ্কার করেন, তাই না? এভাবেই নাক দিয়ে হাতে যায় ভাইরাস, সেখান থেকে হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে অন্যের দেহে। এরপরও কি হ্যান্ডশেক করতে মন চাইছে আপনার?

হ্যান্ডশেকসহ বিভিন্ন উপায়ে আসা রোগজীবাণু থেকে বাঁচার অন্যতম উপায় হচ্ছে নিয়মিত গরম পানি এবং সাবান ব্যবহার করে হাত ধোয়া। তবে অনেক মানুষই এব্যাপারে সচেতন নয়।

এক জরিপ বলছে, গণশৌচাগার ব্যবহারের পর মাত্র দুই-তৃতীয়াংশ ব্যক্তি পানি দিয়ে হাত পরিষ্কার করেন।

বিল গেটস এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিরা করমর্দন করেন না। সম্ভবত রোগজীবাণু থেকে দূরে থাকতে এই চেষ্টা তাদের।

তবে একান্ত যদি হ্যান্ডশেক থেকে রেহাই পাওয়ার উপায় না থাকে, তাহলে সঙ্গে রাখতে পারেন ‘হ্যান্ড-সেনিটাইজার।’ তাহলে প্রতিবার করমর্দনের পর এটি ব্যবহার করে হাত জীবাণুমুক্ত করতে পারবেন।

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত স্থানগুলোতে হ্যান্ডশেক নিষিদ্ধের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশেষ করে হাসপাতালগুলো হতে পারে করমর্দন মুক্ত স্থান।

আর হ্যান্ডশেকের সঙ্গে রোগ-বালাইয়ের সম্পর্ক নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতাও ক্রমশ বাড়ছে। ফলে ‘অ্যান্টি-হ্যান্ডশেক’ মুভমেন্টের প্রতি সমর্থন বাড়ছে। কিন্তু হ্যান্ডশেকের বিকল্প কি হতে পারে?