প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :                              ফরাসি ফুটবল লিগে হোঁচট খেল শিরোপার খুব কাছাকাছি থাকা প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। সেইন্ট এতিয়েনের সাথে হারের লজ্জা এড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলে ড্র করে তারা। শুক্রবার রাতের ম্যাচের শেষ ৪৯ মিনিট ১০ জনের দল নিয়ে খেলা পিএসজি দ্বিতীয় ও শেষ অর্ধের ইনজুরির সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আত্মঘাতি গোল পেয়ে হার এড়াতে পারে। স্বাগতিক হবার সুবিধা নিয়ে ম্যাচের শুরু থেকেই পিএসজিকে চেপে ধরে পয়েন্ট টেবিলের নবম দল এতিয়েনে। ফলে নিজেদের ঘর সামলাতেই ব্যস্ত হয়ে উঠে নেইমারবিহীন পিএসজি। এই সুযোগে ম্যাচের প্রথমার্ধেই গোল আদায় করে নেয় স্বাগতিকরা।

 

ম্যাচের ১৭ মিনিটে ফরাসি আন্তর্জাতিক অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার রেমি কাবেলার গোলে এগিয়ে যায় এতিয়েনে। পিএসজির সীমানায় বল পেয়ে ছয় গজ দূর থেকে গোল করেন কাবেলা। ফলে ম্যাচে ১-০ ব্যবধানে লিড নেয় এতিয়েনে। গোল হজম করেও ঘুঁড়ে দাড়ানোর চেষ্টা করেছিল পিএসজি। কিন্তু সেই সুযোগ দেয়নি এতিয়েনে। ম্যাচের পুরো সময়ই সফরকারীদের চাপে রাখে তারা। ম্যাচের ৪১ মিনিটে সেই চাপ আরও বাড়ে। প্রতিপক্ষের খেলয়াড়কে ফাউল করার দায়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়েন পিএসজির ডিফেন্ডার প্রেসনেল কিমপেম্বে। ফলে এক গোলে পিছিয়ে থেকে ১০ জনের পরিণত হয় পিএসজি।

প্রথমার্ধের এই অবস্থায় ম্যাচ শেষে নিজের হতাশার কথাই জানান পিএসজির কোচ উনাই এমরি। তিনি বলেন, ‘পুরো মৌসুমে আমরা যা খেলেছি এ ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল তার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ। তবে পরবর্তীতে আমরা যা করেছি তাতে আমি খুশী এবং যে কাজ আমরা দ্বিতীয়ার্ধে করেছি, এজন্য আমরা একটি পয়েন্ট পেতেই পারি।’

দ্বিতীয়ার্ধে দলের খেলায় কোচ খুশি হলেও ঐ অর্ধে কোন গোল পায়নি পিএসজি। উল্টো বেশ কয়েকবার আরও গোল হজম থেকে ভাগ্যের কৃপায় রক্ষা পায় তারা। এরমধ্যে ম্যাচের ৭৬ মিনিটে সহজ গোলের সুযোগ পেয়ে তা হাতছাড়া করেন পিএসজির সর্বোচ্চ গোলদাতা এডিনসন কাভানি। নির্ধারিত সময় শেষ হবার পর নিশ্চিত হারের স্বাদ নিতে যাচ্ছিল পিএসজি। কিন্তু শেষ মূর্হুতে ভাগ্যদেবী ফিরে তাকায় পিএসজির দিকে। ইনজুরির সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ডান দিক থেকে আসা বল ডি-বক্স থেকে সড়াতে যান ম্যাথু ডেবুচি। কিন্তু তার পায়ে লেগে বল চলে যায় নিজ দলের জালে। এই আত্মঘাতী গোলে শেষ মূর্হুতে ম্যাচে ১-১ সমতা আনতে পারে পিএসজি। শেষ পর্যন্ত এই সমতা রেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিয়েই মাঠ ছাড়ে তারা।

এই ড্রতে ৩২ খেলা শেষে ৮৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষেই থাকল পিএসজি। সমানসংখ্যক ম্যাচে ৪৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের নবম স্থানে এতিয়েনে। ৩১ ম্যাচে ৬৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয়স্থানে রয়েছে এএস মোনাকো। এতিয়েনের বিপক্ষে এ ম্যাচে পিএসজি জিততে পারলে এবং নিজেদের পরের ম্যাচে মোনাকো হেরে গেলে ৬ ম্যাচ হাতে রেখে টিভি সেটের সামনেই শিরোপা জয়ের উৎসবে মেতে উঠতে পারতো পিএসজি। কিন্তু সেটি আর হল না। তাই শিরোপা কাছে থাকা পিএসজির অপেক্ষার পালা আরও বাড়ল।