প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :     আমার বাবার কোনো ছবি নেই। আগেকার আমলের ধর্মভীরু মানুষ ছিলেন। ছবি প্রসঙ্গে আগে অনেক ধরণের নেতিবাচক ধারণা ছিল মানুষের মাঝে । আমার বাবা সে রকম কোনো ধারণা পোষণ করেছিলেন কিনা জানিনা। তবে তিনি মারা যাওয়ার পর সরকারী দাপ্তরিক কাজ সংশ্লিষ্ঠ দু একটি ছবি থাকলেও তা নষ্ট হয়ে গেছে। এরকম একটি নষ্ট হয়ে যাওয়া ছবি থেকেই তাঁর পেন্সিল স্কেচ একটি ছবি করা হয়েছে যা শুধু কুড়িগ্রাম জেলা শহরের প্রবেশ দ্বারে, জেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ ”খলিলগঞ্জ স্কুল ও কলেজের” অধ্যক্ষের কক্ষে ঝুলানো আছে।

 

১৯৭৯ সালের ২০শে এপ্রিল শুক্রবার পড়ন্ত বিকালে আমার বাবা মারা গেলেন। আমি তখন ক্লাস সেভেন এ পড়ি। ৭৩ বছর বয়সে তিনি মারা যান। তিনি মারা যাওয়ার আগেই আমাকে কুড়িগ্রাম ছেড়ে আমার বড় ভাইর সঙ্গ নিতে হয়েছিল। আমার সব বড় ভাই তখন জয়পুরহাটে একটি ব্যাংকের ম্যানেজার। আমি তখন জয়পুরহাট রামদেও বাজলা সরকারী উচ্চবিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্র। বাবার মৃত্যু মুহূর্তে আমরা সব ভাইবোন সৌভাগ্যক্রমে উপস্থিত থাকতে পেরেছি।

আমার বাবার জীবনটা বর্নাঢ্য। কৃতীমান পুরুষ ছিলেন তিনি। শুধু আমার বাবা বলে নয়, সবাই একবাক্যে স্বীকার করেন, শিক্ষা, সমাজসেবামূলক কাজে সমগ্র কুড়িগ্রাম জেলায় যদি শ্রেষ্ঠ কোনো দাতা থাকেন, তাহলে আমার বাবা সেই তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করবেন। কুড়িগ্রাম শহরের প্রবেশ দ্বারে ঢাকা -রংপুর সড়ক সংলগ্ন প্রায় ১২ বিঘা জমি তাঁর দান পূর্বক প্রতিষ্ঠিত ” খলিলগঞ্জ স্কুল ও কলেজ” এখন শুধু এই জেলার মধ্যেই নয়, সমগ্র রংপুর বিভাগে সবচেয়ে সুন্দর লোকেশন ও নয়নাভিরাম সুরম্য অট্টালিকা পরিবেষ্টিত, প্রযুক্তিতে আধুনিক একটি শিক্ষালয়।

আমার বাবার দেয়া জমির এই বর্তমান মূল্য প্রায় ২৫ কোটি টাকার মত। এগুলো মানুষ বলাবলি করলেও আমার বাবা মৃত্যুর আগে বলে গেছেন, এই প্রতিষ্ঠানে আমার পরিবার থেকে যেন কেউ চাকুরী না করে। ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক, কোনো সদকায়ে জারিয়া থেকে কোনো বেনিফিট/ সুবিধা নেয়া যাবে না। যদি কেউ নেয়, পাপ হবে না তবে সদকায়ে জারিয়া আদায় হবে না। আল্লাহর রহমতে অদ্যাবধি, আমরা আমাদের বাবার কথা রাখতে পেরেছি। প্রায় ১০০ জনের অধিক শিক্ষক, কর্মচারীদের মধ্যে ” খলিলগঞ্জ স্কুল ও কলেজ” এ আমাদের চৌদ্দ গোষ্ঠীর কেউ চাকুরী করেন না।

( চলবে)

লেখক পরিচিতিঃ লুৎফর রহমান, রাজনীতিবিদ, কলামিষ্ট।