প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :      রোবটকে স্বাধীন সত্ত্বা হিসেবে মানুষের মতো অধিকার দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে দ্বীধাবিভক্ত অনেকেই। রোবটের প্রসার এবং প্রভাব দিন দিন বাড়ছে। ফলে রোবট যে আর কিছুদিন পরেই মানুষের মতো কাজ করতে ও স্বাধীনভাবে চিন্তাভাবনা করতে সক্ষম হবে, এটি এখন আর কল্পকাহিনী নয়- বাস্তবতা। এ অবস্থায় প্রশ্ন এসেছে রোবট কি মানুষের মতো অধিকার দেওয়া হবে?

 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নীতিনির্ধারকরা সম্প্রতি উন্নতমানের স্বয়ংক্রিয় রোবটের অধিকার দেওয়ার চিন্তাভাবনা শুরু করেছে। তবে এ বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, রোবটকে কোনোক্রমেই অধিকার দেওয়া যাবে না।

সম্প্রতি রোবটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, আইন, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও নীতিশাস্ত্রের ১৫০ জন বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞ রোবটের অধিকার নিয়ে নিয়ে তাদের সতর্কতা জানিয়েছেন।

এজন্য গবেষকরা একটি খোলা চিঠি লিখেছেন ইউরোপীয়ান কমিশন বরাবর। তারা বলছেন, রোবটের অধিকারের বিষয়টি যতটা না বাস্তবসম্মত তার চেয়ে বেশি কল্পবিজ্ঞান প্রসূত।

সম্প্রতি রোবটের অধিকার দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে ভোটাভুটি করার কথা ভাবছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

রোবট যদি কোনো কাজে ভুল করে এবং তাতে জীবনহানী ঘটে তাহলে এ দায়িত্ব কার? এ বিষয়টি নিয়ে আগে চিন্তার কিছু না থাকলেও এখন নতুন করে চিন্তা করতে হচ্ছে। আর রোবটের আইনগত ভিত্তির বিষয়টি মানুষের মতো যে নয়, তা বলাই বাহুল্য। কারণ রোবট মানুষ নয়। আবার গবেষকরা এমনভাবে রোবট বানাচ্ছেন, যে তা অচিরেই মানুষের মতো করে চিন্তাভাবনা করতে পারবে। তাই বিষয়টি নিয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের লিগাল অ্যাফেয়ার্স কমিটি বেশ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করছে।

এক্ষেত্রে রোবটকে ‘ইলেক্ট্রনিক পারসন’ বা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে কি না, তাই হবে আলোচনার বিষয়বস্তু। ভোটাভুটির পর যদি রোবটকে ‘ইলেক্ট্রনিক পারসন’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি জয়লাভ করে তাহলে রোবট সংক্রান্ত আইনগুলো নতুন করে তৈরি করতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।