প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :     টুইটারে কোনও লেখা পোস্ট করেছেন৷ পরক্ষণেই কী মনে হয় সেই লেখার উত্তর কী আসল? কিংবা কোনও পছন্দের তারকা কী পোস্ট করছেন সেটাই কি সারাক্ষণ মাথায় ঘোরে? খানিক সময় টুইটার ছেড়ে অন্য কাজ করলে কি মনটা ছটফট করে? তা হলে সাবধান।

 

মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচেছন, এমন ‘সিমটম’ মোটেও সুস্থ-স্বাভাবিকতার লক্ষণ নয়। অতিরিক্ত টুইটার বা এমন ধরনের সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটের প্রতি প্রীতি হতে পারে মানসিক রোগের প্রথম ধাপ।

দিন-রাত টুইটার খুলে বসে থাকতেন মিসেস এক্স। বয়স ৩১। এখন তিনি জার্মানির একটি মানসিক হাসপাতালে ভর্তি।

চিকিৎসকরা জানাচেছন, মহিলা অতিরিক্ত আত্মহত্যা প্রবণ হয়ে উঠেছেন। যে কোনও মুহূর্তে অঘটন ঘটাতে পারেন। তার এই মানসিক সমস্যা বাড়াতে অনুঘটকের কাজ করেছে টুইটার। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা একে বলছেন ‘টুইটার সাইকোসিস’।

মহিলাকে ‘স্টাডি’ করে চিকিৎসকরা পেপার তৈরি করেছেন। দেখা গিয়েছে, মহিলা টুইটারে অ্যাকাউণ্ট খোলার পর সেলিব্রিটিদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করতেন।

বিখ্যাত ব্যক্তিত্বের ‘টুইট’ দেখে তিনি ভাবতে শুরু করেন, তাকে উদ্দেশ্য করেই কথা বলা হয়েছে। ফলে তার প্রত্যাশা তৈরি হয়। সেলিব্রিটিরা যে কোনও টুইট করলেই, মহিলা ভাবতে শুরু করেন তার সঙ্গে কোনও না কোনও যোগ রয়েছে। এইভাবে চূড়ান্ত প্রত্যাশা তৈরি হয়।

সারা দিন তিনি টুইট করতে থাকেন। আবার মনমতো টুইট না দেখলে তার মনে হতাশা তৈরি হতে শুরু করে। এইভাবে জটিল মানসিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এবং একটা সময় আসে যখন ওই মহিলা টুইটার থেকে একেবারেই মুখ ফিরিয়ে নেন।

একটা ঘটনা থেকেই সচেতন হয়েছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা। এই কেস নিয়ে চিকিৎসকদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনাও হয়।

একাধিক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এ ব্যাপারে সোশাল নেটওয়ার্কিং সাইটের অতিরিক্ত ব্যবহারকে দায়ী করেছেন। এই অতিরিক্ত প্রত্যাশা যে কোনও যুব প্রজন্মকেই প্রভাবিত করতে পারে। একটা সনয় প্রত্যাশার পারদ এতটাই চড়ে যায় যে মানসিকভাবে সেটা সামলানো মুশকিল হয়।