প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :     চলচ্চিত্র নির্মাতা নোমান রবিনের পিতা একেএম মতিউর রহমান আজ সোমবার মারা গেছেন। সকাল পোনে দশটার দিকে মাদারীপুর জেলার কালকিনি থানায় নিজ বাংলোয় ৭৫ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন (ইন্নানিল্লাহে…… রাজিউন)।

 

গত ৫ বছর ধরে  নিজ  বাসায় কিডনি ডায়ালাইসিস চলছিল। গত ৪ এপ্রিল তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং সম্পুর্ণ অচেতন অবস্থায় তাঁকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং ১২ এপ্রিল পর্যন্ত নিবিড় পর্যবেক্ষণ কক্ষে রাখার হয়, দ্বায়িত্বরত চিকিৎসকরা তার বাঁচার আশা ছেড়ে দিলে পরিবারের সিদ্ধান্তে সকল চিকিৎসা সুবিধাসহ তাঁকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

একেএম মতিউর রহমান ১৯৪৩ সালের ২৭শে ডিসেম্বর কালকিনি থানার জোনারদোন্দি গ্রামে মরহুম খুরশেদ হাওলাদারের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন পরিবারের জ্যেষ্ঠ সন্তান। ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান পুলিশ অফিসার পদে যোগদান করেন। ১৯৭১ সালে ৩ জুলাই বরিশাল জেলার অন্তর্গত কাউখালি থানায় মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ নেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের থানার অস্ত্রাগার লুট করতে সাহায্য করেন।

এই অপরাধে পরবর্তীতে পাকিস্তান মিলিটারি তাঁকে গ্রেপ্তার ও অত্যাচার করে। যদিও পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু সরকার পুনরায় তাঁকে চাকরিতে বহাল করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর মনোকষ্টে তিনি আমৃত্যু নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা বলা থেকে বিরত থাকেন।

তিনি ২০০০ সালে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী থেকে পুলিশ পরিদর্শক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি ৫ ছেলে, ৩ কন্যা সন্তান ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

পিতা প্রসঙ্গে নোমান রবিন বলেন, আমার বাবা ২০০৫ সালে আমার সৃজনশীল কাজের অগ্রযাত্রার সূচনা করেন। তার টাকা দিয়েই আমি আমার প্রথম প্রযোজনা তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা ধারাবাহিক নাটকের মহরা শুরু করি। বাবা আমাকে সবসময় বলতেন, সম্ভব হলে  ক্যামেরার মাধ্যমে মানুষের উপকার করতে, মানুষের দোয়া অর্জন করতে।
আমি আমার বাবার ইচ্ছা বহন করে যাব আমৃত্য ইনশাল্লাহ। আমার বাবাকে আমি কোনওদিন নামাজ ও রোজা ক্বাযা করতে দেখিনি। দয়া করে সবাই তার আত্মার শান্তির জন্য দোয়া করবেন। বাবাকে আজ ১৬ই এপ্রিল বাদ আসরের নামাজের পর গার্ড অফ অনারের শেষে নিজ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।