প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :       খেতে কেমন লাগবে কে জানে, পোকামাকড় খাওয়াটাই কালে ফ্যাশন হয়ে উঠবে কিনা! উত্তর-পূর্ব থাইল্যান্ডের চাষীরা ইতিমধ্যেই উচ্চিংড়া চাষের সুফল পাচ্ছেন। পশ্চিমেও সেই হুজুগ ছড়াচ্ছে স্বাস্থ্যগত ও পরিবেশগত কারণে।

 

থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চল হলো দেশের দরিদ্রতম অঞ্চল। বৃষ্টি হলে ধানচাষ, নয়ত হাত গুটিয়ে বসে থাকা, এই ছিল এখানকার মানুষদের জীবন। কিন্তু আজ এখানে গ্রামে গ্রামে পোকামাকড়ের চাষ, বিশেষ করে উচ্চিংড়ার।

খামারবাড়িতে রাখা বড় বড় কংক্রিটের চৌবাচ্চায় লক্ষ লক্ষ উচ্চিংড়া কিলবিল করছে। তাদের খাওয়ার জন্য রাখা রয়েছে মুর্গির খাবার থেকে শুরু করে কুমড়ো অথবা অন্যান্য সবজি। পরে বাজারে বা রাস্তার ধারে স্তূপ করে সাজিয়ে এই উচ্চিংড়া বিক্রি হবে, কুড়মুড়ে করে ভাজা। মানুষজন আনন্দ করে কিনে খাবে। অন্তত থাইল্যান্ডে।

থাইল্যান্ডের মানুষ প্রায় দু’শো ধরনের পোকামাকড় খেয়ে থাকেন। চাহিদা এমন যে, কাম্বোডিয়া, চীন, লাওস ও মিয়ানমার থেকে সেবনযোগ্য পোকামাকড় আমদানি করতে হয়। তার দাম আবার কখনো-সখনো মাংসের চেয়েও বেশি হয়।

আর হবে না-ই বা কেন? উচ্চিংড়ার মাংসের কথাই ধরা যাক। তাতে গরুর মাংসের চেয়ে ৬০ শতাংশ কম স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে, অপরদিকে ভিটামিন বি-টুয়েল্ভ থাকে মাংসের দ্বিগুণ। এ হলো জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংগঠন এফএও-র তথ্য।

উচ্চিংড়া চাষীরা আবার অ্যান্টিবায়টিক্স ব্যবহার করেন না, গ্রোথ হর্মোন ব্যবহার করেন না, মাছ কিংবা চিংড়ি চাষের মতো পচা মাংসের চার দেন না।

একদিকে স্বদেশের চাহিদা, অন্যদিকে পোকামাকড় খাওয়াটা আজ শিল্পোন্নত বিশ্বেও ছড়াচ্ছে। কাজেই উত্তর-পূর্ব থাইল্যান্ডের এককালের গরিব চাষীদের আজ ২০ হাজারের বেশি উচ্চিংড়ার খামার আছে, যাদের সামগ্রিক উৎপাদন হলো বছরে সাড়ে সাত হাজার টন।

উচ্চিংড়ার চাষ আবার পরিবেশের পক্ষেও কল্যাণকর। এক পাউন্ড গরুর মাংস উৎপাদন করতে লাগে ২,৯০০ গ্যালন পানি, ২৫ পাউন্ড পশুখাদ্য এবং প্রচুর পরিমাণ চারণভূমি। সে তুলনায় এক পাউন্ড উচ্চিংড়া উৎপাদন করতে লাগে মাত্র এক গ্যালন পানি, দু’পাউন্ড পশুখাদ্য ও একটি চৌবাচ্চা।

উচ্চিংড়া খেতে কেমন? যেন চিংড়ি মাছ আর কাঠবাদামের সংমিশ্রণ। এভাবেই বাঁশের পোকা, তালগাছের পোকা খেতে লাগে যেন আলুভাজা কিংবা বেকনের সুরুয়া। আবার শূককীট খেতে লাগে যেন মাখনে ভাজা ব্যাঙের ছাতা, মানে যাকে বলে মাশরুম।

মার্কিন মুলুকের এনার্জি বারগুলোতে ক্ষেত্র বিশেষে পাবেন গুড়ো উচ্চিংড়া।

এ বছরই পেনসিলভানিয়ায় প্রথম উচ্চিংড়ার খামার খোলা হচ্ছে। সানফ্রান্সিস্কোর একটি স্ন্যাকেটেরিয়ায় পোকামাকড়ের পাঁচ কোর্স মিল খেতে পারেন, এমনকি গমের পোকা দেওয়া আইসক্রিম পর্যন্ত।