প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :       “পাগড়ি সামাল জট্টা, পাগড়ি সামাল৷” এ যে সে পাগড়ি নয়৷ এই পাগড়ি সামলানো যার তার কাজ নয়৷ ওজন প্রায় ৮০ কেজি৷ লম্বায় এই পাগড়ি অলিম্পিকে ব্যবহৃত ১৩টি সুইমিংপুলের সমান৷

 

মাথায় এমনই প্রকাণ্ড পাগড়িধারী ভারতের পাতিয়ালার বাসিন্দা বছর ষাটেকের অবতার সিং মৌনি৷ তাবড় তাবড় শিখকে পাগড়ির দৌড়ে হার মানিয়েছেন তিনি৷ মেজর নিহাগ সিংকে হারিয়ে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি৷

প্রথমে ১৫১ মিটার কাপড়ের পাগড়ি মাথায় বাঁধতেন মৌনি সিং৷ ধীরে ধীরে তা বেড়ে দাঁড়াল ৬৪৫ মিটারে৷ তার পাগড়িতে যে শুধু কাপড়ই রয়েছে তাই নয়৷ তরোয়াল থেকে শুরু করে বিভিন্ন্ গহনাও৷

কীভাবে বাঁধেন তিনি সেই পাগড়ি? কতক্ষণই বা সময় লাগে?

এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, প্রথমে চুল আঁচড়ে সমান করে নেন, পাগড়ি মাথায় বসে৷ তারপর একের পর এক কাপড় জড়ান মাথায়৷ পাগড়ি তৈরি হলে তারপর তাতে শক্ত করে গুঁজে নেন তরোয়াল৷ থাকে বিভিন্ন্ ধরণের অলঙ্কারও৷ এরপরই সুসজ্জিত ভারী পাগড়িটিকে আষ্টেপিষ্টে বেঁধে নেন অন্য একটি কাপড় দিয়ে৷

প্রত্যেকদিন এই পাগড়ি বেঁধে তিনি বাইক চালিয়ে যান গুরুদ্বারে৷ প্রকাণ্ড এই পাগড়ি দেখে থেমে যান পথচলতি মানুষ৷ অনেক দৌড়ে আসেন তার বাইকের পিছন পিছন৷ একটা ছবি যদি তুলতে দেন৷ গুরুদ্বারেও এই একই ছবি৷ ভগবান দর্শণ করতে এসে পুন্যার্থীরা এসে ভিড় করেন ‘পাগড়ি বাবা’র কাছে৷

তিনি বলেন, কখনই এই দৈত্য সমান পাগড়ি তার কাছে বোঝা মনে হয় না৷ বরং তিনি মনে করেন মাথায় তার রয়েছে একটি পদ্মফুল৷

সত্যি এই পাগড়ি দেখলে মনে হবে ১৯ রঙা পদ্মফুল৷ শুধু যে ‘পাগড়ি বাবা’ পাগড়ি পড়েই সাজেন তাই নয়৷ তার হাতেও থাকে বেশ মোটা মোটা বালা৷

হঠাৎ তিনি এইরকম অদ্ভূত পাগড়ি পড়ার কথা ভাবলেন কেন?

এই প্রশ্নের উত্তরে ষাট বছরের এই বৃদ্ধের রসিক জবাব, পাগড়ি তো শিখদের সব থেকে অহংকারের জিনিস৷ আমি আমার অহংকারটা একটু বাড়ানোর জন্যই পাগড়ির ওজন বাড়িয়েছি৷