প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :     একের পর এক ব্যর্থতার পর বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সামনে এখন সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ। আগামী ৪-১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকায় বসবে এই আসর। অ্যান্ড্রু ওর্ড দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ায় কোচ ছাড়াই হয়তো এই চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতি নিতে হবে লাল সবুজের দলকে। এবারের টুর্নামেন্টে ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। গ্রুপে বাংলাদেশ দলের প্রতিপক্ষ নেপাল, ভুটান ও পাকিস্তান। আজ রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে টুর্নামেন্টের ড্র অনুষ্ঠিত হয়।

 

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ‘আঞ্চলিক বিশ্বকাপ’ হিসেবে খ্যাত এই টুর্নামেন্টে ‘বি’ গ্রুপে খেলবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ। গতবারের মতো এবারও আফগানিস্তান অংশ নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছিল। কিন্তু অনান্য দেশগুলোর আপত্তির কারণে সেটা হয়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান সাফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন। ‘এবারও আফগানিস্তান খেলতে চেয়ে অনুরোধ করেছিল। আমারও কোনো আপত্তি ছিল না। কিন্তু নিজেদের মধ্যে বৈঠকের সময় প্রতিনিধিদের কথাগুলো ছিল এরকম-সাফ সাফই থাকবে। সাফের (দক্ষিণ এশিয়া) বাইরের কোনো দল এখানে থাকবে না। এ কারণেই আফগানিস্তানকে রাখা যায়নি।’

টুর্নামেন্টের ম্যাচ সূচি এখনও জানায়নি আয়োজকরা। তবে রাতে খেলা থাকলে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের বর্তমান ফ্লাড লাইটে সেটা সম্ভব নয়। সালাউদ্দিন জানালেন বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ‘বিষয়টা নিয়ে আমরা এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছি। তারাও বিষয়টা নিয়ে বসেছে। আশা করি, সামনের সপ্তাহের মধ্যে এ সমস্যার সমাধানের একটা সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে।’

গত তিনটি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে যাওয়ার লজ্জায় পড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে। ২০০৩ সালে নিজেদের মাঠে প্রথম এবং এখন পর্যন্ত সর্বশেষ সাফের শিরোপা জিতেছিল দল। এবারও নিজেদের মাঠে খেলা বলে আশাবাদী বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি এবং সাবেক ফুটবলার সালাউদ্দিন জানালেন সহজ গ্রুপ বলতে কিছু নেই। ‘চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে আপনাকে শক্তিশালী এবং সহজ সব প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই খেলতে হবে। আমার প্রত্যাশা তো দল ফাইনালে খেলবে। এই প্রজন্মের খেলোয়াড়রা নতুন এবং তাদের নিয়ে আমি আশাবাদী।’

খেলোয়াড়দের পারফর্মেন্সের প্রতি ইঙ্গিত করে বাফুফে প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘তবে, একটা কথা মনে রাখতে হবে, বাফুফে শুধু খেলোয়াড়দের জন্য দরকারি সবকিছুর ব্যবস্থা করে দিতে পারে। খেলে দিতে পারে না। কাতার, থাইল্যান্ডে প্রস্তুতির সুযোগ করে দিয়েছি। লাওসে প্রীতি ম্যাচ খেলার সুযোগ করে দিয়েছি। সামর্থ্য অনুযায়ী আমরা দিচ্ছি কিন্তু বাকি কাজটা খেলোয়াড়দের করতে হবে।’

চুক্তির মেয়াদ ফুরানোর আগেই দল ছেড়েছেন কোচ অ্যান্ড্রু অর্ড। বর্তমান জাতীয় দলের কোচের পদটা তাই ফাঁকা। সংবাদ সম্মেলনে ন্যাশনাল টিমস কমিটির চেয়ারম্যান কাজী নাবিল আহমেদ জানালেন দ্রুতই কোচ নিয়োগ দেবেন তারা। ‘দল পূর্ণ প্রস্তুতির মধ্যে আছে। বেশ কয়েকজন কোচের আমাদের সঙ্গে কথা চলছে। আশা করি আগামী ৭-১০ দিনের মধ্যে কোচের বিষয়টি সুরাহা হয়ে যাবে।’