প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট : নিজ দেশের ক্রিকেট ধ্বংসের জন্য রাজনীতিবিদ ও দল নির্বাচকদের দায়ী করেছেন শ্রীলঙ্কান গ্রেট মুত্তিয়া মুরলিধরন। দল নির্বাচন পদ্ধতিরও সমালোচনা করেন টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী মুরালিধরন। জাতীয় দল নির্বাচকরা গত দুই বছরে বার বার দলে পরিবর্তন আনারও সমালোচনা করেন তিনি।

 

ক্রিকেট সম্পর্কে কোনো জ্ঞান না থাকা রাজনীতিবিদদের খেলাটিতে হস্তক্ষেপ করারও তীব্র সমালোচনা করেন এ স্পিন কিংবদন্তি।ভারতের ইকোনোমিক টাইমস পত্রিকাকে মুরলিধরন বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট এখন একটি জগা-খিচুরি। রাজনীতিবিদরা এখানে সরাসরি হস্তক্ষেপ করছে এবং স্বল্পজ্ঞানী কিংবা কোনো প্রকার জ্ঞান না থাকা ব্যক্তিরা দিনকে দিন প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংস করছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ক্রিকেটের পুরো বিষয়টিই আত্মবিশ্বাসের। পারফর্ম করতে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস যোগাও। শ্রীলঙ্কান জার্সি পরে খেলার সময় তাদের গর্ব বোধ করতে দিতে হবে। একদিনে আমি সেরা বোলার হইনি। সাবেক অধিনায়ক অর্জুনা রানাতুঙ্গা আমাকে ৪-৫ বছর আত্মবিশ্বাস যুগিয়েছেন। যে কারণে আমি সেরা হতে পেরেছি।’

তিনি বলেন, ‘এখনকার দিনে একজন ব্যাটসম্যান ব্যাটিং করতে নামার সময় তাকে বলা হয়, তোমাকে রান করতে হবে নতুবা সাইড বেঞ্চে বসে থাকতে হবে। বোলারদের বেলায়ও একই কথা বলা হয়। শ্রীলঙ্কা গত একবছরে তিন ফরমেট মিলিয়ে প্রায় ৬০ ক্রিকেটারকে খেলিয়েছে। এক বছরে ৬০ খেলোয়াড়!’

১৯৯৬ বিশ্বকাপ জয়ী শ্রীলঙ্কা দলের সদস্য বলেন, ‘এটা অযৌক্তিক এবং আপনাকে বলে দেয়, কোনো উপায়ে খেলাটি চালানো উচিত সে বিষয়ে কোন ধারণা নেই। বার বার এ ধরনের চাপ এবং পরিবর্তন খেলাটিকে আরো ধ্বংস করে দেবে।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্ব ক্রিকেটে অধপতন হচ্ছে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটের। তাই দলটি বর্তমানে বিশ্ব টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে ৬ষ্ঠ ও ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে অষ্টম স্থানে রয়েছে।