প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :     জেটি ফাঁকা পড়ে থাকায় সাধারণ পণ্যের জেটিতে ভেড়ানো হচ্ছে কনটেইনার জাহাজ। চট্টগ্রাম বন্দরে খোলা পণ্য নামানোর জেটি আছে ছয়টি, কিন্তু সে পরিমাণ জাহাজ বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ না থাকায় বেশ কয়েকটি জেটি ফাঁকা পড়ে আছে। সেই ফাঁকা জেটিতে কনটেইনার জাহাজ ভিড়িয়ে কনটেইনার জাহাজের জট কমাতে চাইছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

 

খোলা পণ্য জাহাজ দ্রুত জেটিতে ভেড়াতে পারায় খুবই খুশি আমদানিকারকরা; একই সঙ্গে কনটেইনার জাহাজের জট কমাতে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ায় উচ্ছ্বসিত বন্দর ব্যবহারকারীরা।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ডেপুটি ট্রাফিক ম্যানেজার (অপারেশন) এনামুল করিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বেশ কিছু উদ্যোগের কার্যকর বাস্তবায়নের ফলে খোলা জাহাজের জট কমে গেছে। জট কমায় এখন বহির্নোঙরে জেটিতে ঢোকার অপেক্ষমাণ খোলা পণ্যবাহী বা বাল্ক জাহাজ নেই। এতে করে বন্দরে ছয়টি জেটির মধ্যে বেশ কয়টি খালি পড়ে আছে।’

তিনি বলেন, ফাঁকা জেটিতে সাধারণত জেটিতে ঢোকে না এমন চিনির জাহাজকেও জেটিতে ভিড়িয়ে পণ্য নামানোর সুযোগ দিয়েছিলাম। এখন বন্দর চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশে খোলা পণ্য নামানোর জেটিতে কনটেইনার জাহাজ ভেড়ানো হচ্ছে। বন্দরের মোট ১৬টি জেটির মধ্যে ৪ থেকে ৫টি খোলা জাহাজ এবং ১১ থেকে ১২টি কনটেইনার জাহাজ ভেড়ানো হচ্ছে। এতে কনটেইনার জাহাজের জট কমে আসবে। এই সুযোগে আমরা বন্দরের খোলা পণ্যের জেটি খননকাজও করে ফেলছি।

বন্দর সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরে টার্মিনাল ও জেটি মিলিয়ে মোট ১৬টি জেটি রয়েছে। এর মধ্যে ৬টি জেটিতে সাধারণ বা খোলা পণ্যবাহী জাহাজ এবং বাকি ১০টিতে কনটেইনার জাহাজ ভেড়ানো হয়। সাধারণ পণ্যের মধ্যে সিমেন্ট ক্লিংকার, গম, চাল, স্ক্র্যাপ ও সিআর কয়েল, পাথর, কয়লা, গাড়ি ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের সামগ্রী বহনকারী জাহাজ রয়েছে। পরিস্থিতি ও চাহিদা বিবেচনায় বন্দর কর্তৃপক্ষ জেটি বরাদ্দে নিয়ম শিথিল করে। তবে প্রায় সব সময়ই খাদ্য বা ভোগ্যপণ্যবাহী জাহাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এখন খাদ্যপণ্য বিশেষ করে চাল, গম ইত্যাদি পণ্যের আমদানির চাপ এতটা নেই। আর আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কারণে স্ক্র্যাপ পণ্যের আমদানিও কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে বন্দরে জাহাজ আসার ক্ষেত্রে।

বন্দরে সাধারণ পণ্যের জাহাজ এখন বহির্নোঙরে অপেক্ষা ছাড়াই জেটিতে ভিড়তে পারছে; কয়েক বছরের মধ্যে এমন চিত্র দেখেননি বন্দর ব্যবহারকারীরা।

জানতে চাইলে জে এ সি শিপিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শিমুল মজুমদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘খোলা পণ্যের জাহাজ জেটিতে ভেড়ার ক্ষেত্রে কয়েক মাস আগেও এমন চিত্র কল্পনা করা যায়নি। এখন জাহাজ আসার চাপ কমেছে, তাই অনায়াসে যে কেউ জেটিতে জাহাজ ভিড়িয়ে দ্রুত পণ্য নামাতে পারছে। এতে বড় জাহাজ বহির্নোঙরে দিনের পর দিন অপেক্ষার কারণে বিপুল আর্থিক ক্ষতি থেকে বেঁচে গেছেন।’

চট্টগ্রাম বন্দরের ট্রাফিক বিভাগের হিসাবে, খোলা পণ্য নামানোর জেটি ফাঁকা থাকায় বন্দরের ১৬টি জেটির মধ্যে ২৭ থেকে ২৯ মার্চ তিনটি খোলা পণ্যের জাহাজ ভিড়েছে, বাকি ১৩টি জাহাজ ভিড়েছে কনটেইনার জাহাজ। ৩০ থেকে ৩১ মার্চ ৫টি খোলা পণ্যের জাহাজ, ১১টি কনটেইনার জাহাজ, সর্বশেষ ৬ ও ৭ এপ্রিল খোলা পণ্যের জাহাজ ভিড়েছে চারটি আর কনটেইনার জাহাজ ভিড়েছে ১১টি এবং একটি জেটি খননকাজের জন্য জাহাজ ভেড়ানো বন্ধ রয়েছে।

কনটেইনার জাহাজ জেটিতে বেশি বরাদ্দ দেওয়ায় খুশি কনটেইনার জাহাজ পরিচালনাকারীরা। জানতে চাইলে প্যাসিফিক ইন্টারন্যাশনাল লাইনের (পিআইএল) মহাব্যবস্থাপক আবদুল্লাহ জহীর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এটা অবশ্যই ভালো ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এখনো তিন থেকে চার দিন কনটেইনার জাহাজের অপেক্ষমাণ সময় রয়েছে, এই উদ্যোগের ফলে সেটি আরো কমে আসবে।’ তিনি বলেন, রমজান শুরু ও বাজেটকে ঘিরে আবারও আমদানির চাপ বাড়বে তখন বন্দরকে সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করতে হবে।