প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :     পাঁচ বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে খুলল সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) শ্রমবাজারের দুয়ার। বাংলাদেশ থেকে ১৯ ক্যাটাগরিতে কর্মী নিয়োগের বিষয়ে গতকাল বুধবার একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছে দুই দেশ। দুবাইয়ে আমিরাতের মিনিস্ট্রি অব হিউম্যান রিসোর্সেস অ্যান্ড এমিরেটাইজেশনের দপ্তরে এই চুক্তি সই হয়। আর সঙ্গে সঙ্গেই তা কার্যকর হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজারটি খোলার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছিলাম। আমি এবং মন্ত্রণালয়ের সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় এটা সম্ভব হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সচিব ও আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি সইয়ের পরপরই বাজারটি খুলে গেছে। এখন আমরা দেশটিতে পুনরায় সব ধরনের কর্মী পাঠাতে পারব।’

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছিল। কয়েক দফায় বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। চূড়ান্ত আলোচনা শেষে উভয় দেশের আগ্রহ ও সম্মতির ভিত্তিতে সমঝোতা স্মারক সই হয়। বাংলাদেশের পক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নমিতা হালদার এনডিসি এবং আমিরাতের পক্ষে দেশটির মিনিস্ট্রি অব হিউম্যান রিসোর্সেস অ্যান্ড এমিরেটাইজেশনের আন্ডার সেক্রেটারি সাইফ আহমেদ আল সুআইদি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

প্র্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই আমিরাতে বাংলাদেশের শ্রমবাজার খুলে গেছে। এখন থেকে আমিরাতে সব ধরনের কর্মী যেতে পারবে। যত দ্রুত সম্ভব আমরা দেশটিতে কর্মী পাঠানো শুরু করব।’

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সমঝোতা স্মারকটিতে বাংলাদেশ থেকে ১৯ ক্যাটাগরির কর্মী নিয়োগের বিধান, পদ্ধতি, রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি ও উভয় দেশের সরকারের দায়িত্ব-কর্তব্য, কর্মীদের অধিকার, সুযোগ-সুবিধা ও দায়িত্ব-কর্তব্য, নিয়োগ চুক্তির বিধান এবং পৃথক একটি বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার উল্লেখ রয়েছে। কর্মীদের স্বার্থরক্ষায় আমিরাতে ২০১৭ সালে কার্যকর হওয়া আইনের আলোকে চুক্তিতে শ্রমিক, মালিক ও উভয় দেশের সরকারের দায়িত্ব বর্ণিত হয়েছে। নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও দায়িত্বশীল শ্রম অভিবাসনের লক্ষ্য অর্জনের বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখেই চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করা হয়েছে। চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য তাতে উভয় দেশের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি জয়েন্ট কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। কমিটিকে সুনির্দিষ্ট কিছু দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার। এর মধ্যে অন্যতম ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। কিন্তু ২০১২ সালের ১২ আগস্ট নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে বাংলাদেশি কর্মীদের ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দেয় দেশটি। এরপর থেকে পাঁচ বছর কেটে গেলেও দেশটিতে নতুন করে শ্রমিক নেওয়া বন্ধ ছিল।