প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :  মন ভালো না থাকলে কোনো কিছুই ভাল থাকে না, কোনো কাজই ভালো ভাবে করা যায় না। আর মন ভালো রাখতে সবার আগে প্রয়োজনের মনের স্বাস্থ্য বা মানসিক স্বাস্থ্যকে সুস্থ রাখা।

এজন্য নিয়মিত মানসিক স্বাস্থ্যের নিকে নজর রাখা জরুরি। বহুভাবেই মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব পড়তে পারে একজন মানুষের। বিশেষ করে ইদানীং প্রযুক্তির আসক্তি বা প্রযুক্তির অপব্যবহারে দিনে দিনে বেড়ে যাচ্ছে নানামুখি মানসিক বন্ধ্যাত্ব। সময় মতো তা সনাক্ত করতে না পারলে সমস্যাগুলো এক সময় রোগে রূপ নিতে পারে। জীবনকে করে তুলতে পারে বিপন্ন।

আজ মঙ্গলবার মানসিক স্বাস্থ্যের অনলাইন পোর্টাল ‘মনের খবর’এর তিন বছর পূর্তি ও এর প্রিন্ট ভার্সন প্রকাশ উপলক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে উঠে আসে এমন সব মতামত।

অনুষ্ঠানে নাট্যজন মামুনুর রশীদ বলেন, মানুষ ক্রমেই যান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছে। মানুষে মানুষে সরাসরি কথপোকথন কমে গেছে; মোবাইল, অ্যাপস, ফেইসবুক,টেলিভিশন, কম্পিউটারে আসক্তি বাড়ছে। নতুন প্রজন্ম গড়ে উঠছে একক গণ্ডির ভেতর; যেখানে তাঁরা অন্য কাউকে প্রশ্রয় দিচ্ছে না, পরিবারের সদস্যরা একজন আরেক জনের সঙ্গে কথা বিনিময়-আড্ডা-গল্প করছে না, এক ঘরের মধ্যেই যে যার মতো অনলাইনে ব্যস্ত থাকছে।

ফলে এক পর্যায়ে গিয়ে তাঁরা মানসিক এক বন্ধ্যাত্বের কবলে পড়ে দিশেহারা হয়ে যায়। তখন আর তাদেরকে ফেরানো কঠিন হয়ে পড়ে। এমনকি অনেকে ওই অবস্থা থেকে ফিরতে না পেরে নানা অপরাধে যুক্ত হয়ে যায়— অন্ধকারে ঢুকে পড়ে মুক্তির ভুল পথে পা বাড়ায়। এক্ষেত্রে গণমাধ্যম সচেতনতা মূলক বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আমজাদ হোসেন বলেন, মানুষ জানে না কোনটি মানসিক রোগ আর কোনটি রোগ নয়। কোন সমস্যা কাউন্সিলিংয়ে সেরে যাবে কোনটির জন্য ওষুধ বা বিভিন্ন থেরাপির প্রয়োজন হবে। এসব বিষয়ে মানুষকে সজাগ করতে গণমাধ্যমকর্মীদের এগিয়ে আসতে হবে।

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ বিভাগের বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. ঝুনু সামসুন্নাহার বলেন, দেশেই এখন মনোরোগ বা মানসিক স্বাস্থ্যের নানা ব্যবস্থাপনা রয়েছে। জনবলও আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। মানুষের মধ্যেও অনেক সচেতনতার মাত্রা বাড়তে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে নানারকম সীমাবদ্ধতা কাটাতে পারলেও আরও ভালো হবে।

বাংলাদেশ সাইকিয়াট্রিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিত্সা নিয়ে এখনো মানুষের মধ্যে ভুল ধারনা রয়ে গেছে। এটাকে যেতো দ্রুত দূর করা যাবে ততোই মঙ্গলবয়ে আনবে।

মনেরখবর সম্পাদক অধ্যাপক ডা. সালাহউদ্দিন কাউসার বিপ্লব বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য এখন বড় একটি বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। কিন্তু এটাকে এখনো খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না। নিজের সমস্যা টের পেয়েও অনেকে ঘরে বসে থাকেন— কেবল কোথায়, কার কাছে যাবে না সেটা ঠিক মতো জানতে বা বুঝতে না পেরে। অনেকে আবার নিজের উপসর্গগুলোকেও সমস্যা হিসাবে বুঝতে পারে না। এসব বিষয় জানানো ও মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর চেস্টা হিসাবেই চালু করা হয়েছে মনের খবর।