প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :      নিজ ভূমি ফিরে পাওয়ার দাবিতে আবারো আন্দোলনে নেমেছে ফিলিস্তিনরা। শুক্রবার অবরুদ্ধ গাজায় ফিলিস্তিনদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে ইসরাইলি সেনার গুলিতে এক কিশোরসহ ৪ ফিলিস্তিনি নিহত হন। এসময় আহত হয়েছেন আরো সাত শতাধিক নাগরিক। ফিলিস্তিনদের উপর নির্মমভাবে গুলি চালানোর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন, জাতিসংঘে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মানসুর। ইসরাইলি বাহিনীর কর্মকাণ্ডকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে জাতিসংঘকে ‘স্বাধীন তদন্ত কমিশন’ গঠনের আহবান জানান তিনি।

 

অবরুদ্ধ গাজায় ইসরাইলিদের গুলিতে একের পর এক ফিলিস্তিনির রক্ত ঝরছে। নিজ ভূখণ্ড ফিরে পাবার দাবিতে ফিলিস্তিনদের যেকোন শান্তিপূর্ণ সমাবেশেই হামলা চালাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। সব শেষ শুক্রবার জুমার নামাজের পর ‘দ্য গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ আন্দোলনের অংশ হিসেবে ইসরাইলি বাহিনীর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ অংশ নেন, প্রায় ১০ হাজার বেসামরিক ফিলিস্তিনি। ঘরে বসে নেই ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুরাও।

গাজা সীমান্তে শত শত টায়ার জ্বালিয়ে ইসরাইলি সেনার আগ্রাসনের জবাবে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন ক্ষুব্ধ ফিলিস্তিনরা। একপর্যায়ে দফায় দফায় তাজা গুলি ছোঁড়ে ইসরাইলি সেনারা। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ১৫ বছরের এক কিশোরসহ চার ফিলিস্তিনি। এসময় কমপক্ষে ৭ শতাধিক ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

দীর্ঘ দিন ধরেই আমাদের নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়ার জন্য আন্দোলন করে যাচ্ছি। আমরা সেখানে ফিরে যেতে চাই। কিন্তু, ইসরাইলি বর্বর বাহিনী, আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে। তারপরও আমাদের অধিকার কখনোই ছেড়ে দিব না।

এদিকে নিরস্ত্র ফিলিস্তিনদের উপর নির্মমভাবে গুলি চালানোর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ফিলিস্তিনির রাষ্ট্রদূত। শুক্রবার নিউইয়র্কয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসরাইলি বাহিনীর এ আগ্রাসনকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে আখ্যা দেন।

জাতিসংঘে নিযুক্ত ফিলিস্তিনির রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মানসুর বলেন, ইসরাইলি সেনারা তাদের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এর জন্য তাদেরকে জবাব দিতে হবে। তারা যে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে তার জন্য আমি নিন্দা জানায়। এ হত্যার বিচারের জন্য জাতিসংঘকে একটি ‘স্বাধীন তদন্ত কমিশন’ গঠনের আহবান জানাচ্ছি।

ফিলিস্তিনেদের অব্যাহত আন্দোলন আগামী ১৫ মে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। গেল ৩০ মার্চ থেকে চলমান আন্দোলনে ইসরাইলি সেনার গুলিতে এ পর্যন্ত ৩৯ জন নিহত ও চার হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে।