প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :   জন্মদিনের পার্টিতে ডেকে নিয়ে রাজধানীর বনানীতে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় রেইনট্রি হোটেলের সাত কর্মচারি সাক্ষী দিয়েছেন। ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের দ্বিতীয় আদালতে এই মামলাটির বিচার চলছে। আজ রবিবার ওই আদালতের বিচারক মো. সফিউল আজম সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা গ্রহণ করেন। একইসঙ্গে পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামি ১৭ মে তারিখ ধার্য করেন বিচারক।

 

এ বিষয়ে ওই ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি আলী আকবর জানান, চার্জশিটভুক্ত হোটেলের ৭ কর্মচারি হেলাল মিয়া, ফরহাদ হোসেন, আক্তার বানু, শহিদুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান, আলী হোসেন রাজু ও ফারজানা বিথি সাক্ষ্য দিয়েছেন। আসামিদের পক্ষে তাদের আইনজীবী সাক্ষিদের জেরা করেছেন। এখন পর্যন্ত মোট ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হলো।

আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট কাজী নজীব উল্যাহ হিরু মামলাটি পরিচালনা করছেন বলে জানা গেছে। তিনিই এদিন সাক্ষীদের জেরা করেন। তবে এ সময় মামলার বাদী ট্রাইব্যুনালে হাজির না থাকলেও মহিলা সমিতির পক্ষে আইনগত সহায়তা প্রদানকারী আইনজীবী ফাহমিদা আক্তার রিংকি হাজির ছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, সাক্ষীর সময় আদালতে হাজির ছিলেন জামিনে থাকা দুই আসামি আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদের ড্রাইভার বল্লাল হোসেন ও দেহরক্ষী রহমত আলী। অন্যদিকে কারাগারে থাকা আপন জুয়েলার্সের অন্যতম মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ, তার  বন্ধু সাদমান সাকিব ও নাঈম আশরাফ ওরফে এইচএম হালিমকে সাক্ষীর আগে এজলাসে আনা হয়।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৩ জুলাই চার্জ গঠন করে ধর্ষণ ও সহায়তার অভিযোগে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু করা হয়। এর আগে ১৯ জুন সাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু নাঈম আশরাফ ওরফে আবদুল হালিমের বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং সাফাতের বন্ধু সাদমান সাফিক, গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন ও সাফাতের দেহরক্ষী রহমত আলীর বিরুদ্ধে ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। তার আগে ৮ জুন এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের পুলিশ পরিদর্শক ইসমত আরা এমি পাঁচ আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

ধর্ষণের ঘটনার ৪০ দিন পর একই বছরের ৬ মে বনানী থানায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন ধর্ষণের শিকার হওয়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দুইজনের একজন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, সাফাতের জন্মদিনের পার্টিতে অংশ নিতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হন তারা। বনানীর দ্য রেইনট্রি হোটেলের দুটি কক্ষে আটকে রেখে তাদেরকে ধর্ষণ করা হয়। গত বছরের ২৮ মার্চ রাত ৯টা থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত আসামিরা মামলার বাদী এবং তার বান্ধবী ও বন্ধু শাহরিয়ারকে আটকে রাখে। অস্ত্র দেখিয়ে ভয়-ভীতি প্রদর্শন ও গালাগাল করে। বাদী ও তার বান্ধবীকে পৃথক কক্ষে নিয়ে যায় আসামিরা। বাদীকে সাফাত আহমেদ একাধিকবার ও তার বান্ধবীকে নাঈম আশরাফ একাধিকবার ধর্ষণ করে।