প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :    যদি প্রশ্ন করা হয়, কোন তিনটি জিনিস ছাড়া মেয়েরা বাঁচতেই পারে না? তাহলে নিঃসন্দেহে তালিকাটি হবে-
এক. মজার মজার খাবার, দুই. ওয়ার্ডরোব উপচে পড়া পোশাক এবং তিন. প্রশংসায় ভাসানো কথা। কি কি কথায় গলে যাবে প্রেমিকার মন জেন নিন?

 

১. তোমাকে অসম্ভব সুন্দর দেখাচ্ছে : মেয়েদেরকে প্রশংসাসূচক কথার বন্যায় ভাসিয়ে দিতে কোনো কার্পণ্য করবেন না। তার চেহারা নিয়ে, পোশাক নিয়ে, চাল-চলন নিয়ে, ফিগার নিয়ে, এমনকি পেশাগত জীবনে কাজের দক্ষতা নিয়েও নিঃসংকোচে প্রশংসা করুন। বহু নারী নিজের মুখেই স্বীকার করেছেন, ‘তোমাকে এই কাপড়ে দারুণ লাগছে বা পৃথিবীর সবচে সুন্দরী মেয়েটি তুমি অথবা তুমি এখনও অনেক আবেদনময়ী- এ জাতীয় কথা শুনলেই জাদুর মতো মন ভালো হয়ে যায়’।

মনোচিকিৎসকরা বলেন, এসব কথায় মেয়েদের নিজের কাছে নিজেরই একটি অপরূপ প্রতিবিম্ব ভেসে ওঠে। মন ভাল হয়ে যায়, আরো ভাল হওয়ার ইচ্ছা কাজ করে এবং ব্যক্তিত্ববোধ আরো চাঙ্গা হয়।

২. তুমিই আমার জীবনে প্রথম নারী : এই একটি কথাই প্রেমিকার কাছে আপনাকে সৎ ও গ্রহণযোগ্য করে তুলবে। সব মেয়েই এমন একটি ছেলে চায় যার একাধিক নারীপ্রীতি নেই। তা ছাড়া সম্পর্ক দীর্ঘায়িত করতে বা ঘরসংসার পাততে চাইলে এ কথার কোনো বিকল্প নেই। এ কথায় মেয়েটি তার জীবনে আপনাকে নিরাপদ বলে মনে করবে।

বহু পুরুষ নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বলেছেন, ‘এ কথাটি যতবারই বলেছি ততবারই তার চেহারায় সুখী একটা ভাব ফুটে উঠেছে’।

মনোচিকিৎসকদের মতে, একটা মেয়ে তার প্রেমিক বা হাজবেন্ডের জীবনে প্রথম- এমন কথা তার মনে এক আশ্চর্য সুখানুভূতি সৃষ্টি করে। তবে শুধুই খুশি করার জন্যে সহজ-সরলভাবে এ কথাটি বলা ঠিক হবে না। যেকোনো ছেলের হৃদয় থেকেই তা বলা উচিত। কারণ পরে আপনার কথা মিথ্যে বলে ধরা পড়লে সে কোন দিনই আর আপনাকে বিশ্বাস করবে না।

৩. তোমাকে ছাড়া আমার রাত কাটে না : এ বাক্য স্বামী-স্ত্রীর সেক্স লাইফের জন্যে প্রযোজ্য। স্ত্রীকে আদর করে আরেকটু খোলামেলাভাবেই এ প্রশংসা করতে পারেন স্বামীরা।

মোদ্দকথা হলো, সেক্স লাইফে তাকে ছাড়া আপনি কিছুই ভাবতে পারেন না এবং তার যাদুতেই আপনি মোহিত- এমন মন্তব্যে আপনার স্ত্রী আরো বেশি নিজেকে উজাড় করে দেবেন। আপনাদের মাঝের অবাঞ্ছিত বাধাগুলো দূর হয়ে যাবে।

যৌনতা নিয়ে গবেষকরা বলেন, ‘স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সেক্স বিষয়ে নানা জটিলতা দেখা যায়। এর মধ্যে মানসিক সমস্যা বড় অংশ জুড়ে রয়েছে। বিশেষ করে মেয়েদের লজ্জা এবং আচরণগত সীমাবদ্ধতার কারণে এ সম্পর্কে পূর্ণতা আসে না। এক্ষেত্রে দুজনেরই সমান দায়িত্ব রয়েছে। তাই স্বামীর এমন একটা কথাই স্ত্রীর মনের অস্বচ্ছ দেয়াল গুঁড়িয়ে দিতে পারে নিমিষেই।

৪. তুমি একজন আদর্শ মা হবে : বিয়ের পর মেয়েদের জীবনের পরিপূর্ণতা আনে মাতৃত্ব। এ জন্য হবু বাবারও যথেষ্ট পরিপক্ক মানসিকতাসম্পন্ন হতে হবে। এ কথাটি একদিকে যেমন একটি মেয়েকে মা হওয়ার স্বপ্ন দেখায়, তেমনি আপনার মাঝেও স্ত্রী একজন সচেতন পিতার ছায়া দেখতে পান।

অনেক মেয়েই বলেন, আমার স্বামীর এমন কথাতেই আমার ভিতরে মা হওয়ার ইচ্ছা প্রবলভাবে জেগে ওঠে।

মনোবিজ্ঞানীরাও এ কথা সমর্থন করেন। তারা বলেন, মেয়েরা মা হওয়ার আগে স্বামীকেও আগত সন্তানের আদর্শ পিতা হিসেবে দেখতে চায়। সন্তান নেওয়ার ইচ্ছা ছেলেটির মধ্যেও তো থাকতে হবে। এ নতুন অতিথির নিশ্চিত ভবিষ্যতের আলো বাবা-মা দুজনেই জ্বালবেন।

৫. তুমি কি বাকি জীবন আমার সাথে থাকবে? : একটু বেশি স্পর্শকাতর আর ভীতু নারীদের কাছে এ বাক্য আশ্বস্তের বাণী শোনায়। আপনাকে নিয়ে নিজের ভবিষ্যত এবং খুঁটিনাটি নানা বিষয়ে নেতিবাচক ভাবনা নিয়ে যে নারীরা অস্থির থাকেন, আপনার ওই একটি বাক্যই তার সমস্ত সিদ্ধান্তহীনতা দূর করে দিতে পারে। সেইসঙ্গে তাকে আরো বলুন জীবনের বাকি সময়টা তার সাথে কিভাবে কাটাতে চান। মুহূর্তেই তার মুখ থেকে উবে যাবে কালমেঘ, উঠবে ঝলমল করে।

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া একটি মেয়ের জন্যে সবচেয়ে কঠিন। আজীবনের একটি সম্পর্কের সিদ্ধান্ত নেওয়া সোজা কথা নয়। আবার এ জীবন শুরু করতে এটিই বহু আকাঙ্খিত প্রস্তাব।

৬. তুমি এ সম্পর্কে কি ভাবছো? : তার মতামত চান। ছোট-বড় সব সিদ্ধান্ত গ্রহণে মত চাওয়াতে আপনার কাছে তার গুরুত্ব ফুটে উঠবে। তবে শুধু চাইলেই হবে না, তার মতামত বিবেচনাও করতে হবে আপনাকে। তা ছাড়া সেও আশা করে যে আপনাদের কাজে দুজনের মতামত উঠে আসুক।

অভিজ্ঞজনদের মতামত হলো, একটি মেয়ের জন্যে খুব জরুরি একটি বিষয় সঙ্গীর কাছে তার মতামতের গ্রহণযোগ্যতা। তার গুরুত্ব এবং চাহিদা আপনার কাছে যে রয়েছে তা সে উপলব্ধি করবে।

৭. তুমিই আমার প্রিয়তম বন্ধু : শুধুমাত্র অপরূপ চেহারা বা আকর্ষণীয় ফিগারের কারণেই তার প্রতি দুর্বল নন, নিজের একান্ত আপন বন্ধু হিসেবেও আপনি সঙ্গিনীকে পেতে চান। আপনার এ বোধ প্রকাশ করতে পারলে তার কাছে আপনি আরো বেশি আপন হয়ে উঠবেন। প্রেমঘটিত যৌন সম্পর্ককে ছাড়িয়ে আপনার এ মন্তব্য দুজনকে আরো কাছে নিয়ে আসবে।

বিয়ে এবং সম্পর্ক বিষয়ক কাউন্সিলররা বলেন, অর্ধাঙ্গিনী বা প্রেমিকা পরিচয়ের বাইরেও একটি মেয়ে আপনার সাথে বন্ধু বা পরিবারের অন্য সদস্যদের মতো বহুদিনের পরিচিতের মতো হতে চায়। তাকে এ অনুভূতি দিন। আপনার প্রেমিকার মনের অন্যান্য সূক্ষ্ম সমস্যা চলে যাবে।

৮. আমি ভাগ্যবান যে তোমাকে পেয়েছি : এ কথা দিয়ে আপনি বোঝালেন যে, আপনাদের দুজনের এ সম্পর্ক জন্ম-জন্মান্তরের বন্ধন। তাকে না পেলে আপনি হয়তো এখনো একা থাকতেন। এতে মেয়েটিও অনুভব করবে যে, তার জীবনে আপনিই সেই ব্যক্তি যার জন্যে সে এতো সময় অপেক্ষা করেছে। অবাক হবেন না যদি এ কথা বলার পর প্রিয়ার গাল লজ্জায় লাল হয়ে ওঠে।

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, এ কথায় এক অদ্ভুত শিহরণ জাগে মেয়েদের মনে। তারা অনুভব করে যে, ছেলেটি তাকে শুধু পেতেই চায়নি, বরং মনের মানুষকে পাওয়ায় সে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছে।

৯. তুমি বোঝ যে আমার মনে কি আছে : এর মাধ্যমে আপনি মেয়েটাকে নিজের মনের গহীনে বসিয়ে দিলেন। আপনার জন্যে কিছু একটা রান্না করেছে বা একটা শার্ট কিনে এনেছে সে। ঠিক এমনটা আপনিও চাচ্ছিলেন। কাজেই আপনার মনের সবই সে জানে। এ অনুভূতি আপনাকেও তার মনের গভীরে স্থান দেবে।

মনোবিজ্ঞানীরাও এ বিষয়ে একমত। এ কথায় মেয়েরা আপনার আরো অনেক কাছে আসার এবং কাছে পাওয়ার চেষ্টা করে। দুজনের সম্পর্ক ঝালিয়ে নিতে এ কথাটি অব্যর্থভাবে কার্যকর।

১০. আমি তোমাকে ভালবাসি : বহুল কথিত তিনটি শব্দের একটি বাক্য। এ তিন শব্দের যাদুতে কাবু হয় না এমন মেয়ে এ দুনিয়ায় নেই। তবে সঠিক সময়ে, সঠিক পরিবেশে এবং সঠিকভাবে তা বলা চাই। সম্পর্কের যেকোনো পর্যায়ে এ কথা বলা যায়। তবে খুব বেশি বেশি বলাটা ভাল দেখায় না। তবে যতবার আপনি বলবেন, এক অদ্ভুত পুলকে ভরে যাবে প্রেমিকার মন।

ছেলেদের পক্ষ থেকে এ কথাটি শুনতে রীতিমত অপেক্ষা করে একটি মেয়ে, বললেন এক্সপার্টরা। আপনি যতবার বলবেন ততবারই মেয়েটি অনুভব করবে যে আপনি তাকে ভালবাসেন, ভালবাসবেন এবং আরো বেশি ভালবাসতে চান।