প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :    মুখের উপর দিয়ে হেলতে দুলতে চলেছে কয়েকটি শামুক। কখনও নাকের আলপথ বেয়ে নামছে ঠোঁটে। কখনও আবার গাল বেয়ে উঠছে কপালে।

 

ওদের সর্পিল চলন-গমনে লাবণ্য ফুটে উঠছে আপনার মুখমন্ডলে। উবে যাচ্ছে বলিরেখা, ব্রুণের দাগ। বয়সের ছাপ মুছে গিয়ে জাগছে তারুণ্যের দীপ্তি। সুন্দর থেকে আরও সুন্দর হয়ে উঠছেন আপনি। কারণ চলছে ৪৫ মিনিটের ‘শামুক ফেসিয়াল’।

উত্তর থাইল্যান্ডের চিয়াং মে’র স্ন্ইেল স্পাতে অভিনব এই ফেসিয়ালের কদর বাড়ছে দিন দিন। উৎপত্তি যদিও একবছর আগে দু’জন ফরাসির হাত ধরে। যাদের একজন লুক চেম্পেইরক্স তো শামুক চাষের জন্য চিয়াং মেতে খুলে ফেলেছেন আস্ত একখানা খামারবাড়ি। সেখান থেকেই নিজের স্পাতে প্রয়োজনমতো শামুক সরবরাহ করেন তিনি। এমনকী শামুকের দেহাংশ থেকে নানা ধরনের প্রসাধনীও তৈরি করেন চেম্পেইরক্স।

তার দাবি, ‘ককিউলি’ নামের ওই প্রসাধনীর নিয়মিত ব্যবহারে কাটা-ছেঁড়া থেকে শুরু করে ব্রুণের দাগও হ্রাস পায়। বলিরেখাও নির্মূল হয়।

কিন্তু অভিনব শামুক-ফেসিয়াল হয় কীভাবে? প্রথমে মুখমন্ডল পরিষ্কার করে মুখে ক্রিম লাগিয়ে দেওয়া হয়। আর তারপরই ছেড়ে দেওয়া হয় বেশ কয়েকটি শামুক। ক্রিমের পরতের উপর শামুকদের চলাচলে প্রাণ ফিরে পায় নির্জীব ত্বক। সৌন্দর্যের মাত্রা বৃদ্ধি করতে কখনও কখনও আবার শামুকের লালা দিয়ে তৈরি বিশেষ মিশ্রণের প্রলেপও মাখানো হয় ত্বকে।

গবেষণায় জানা গিয়েছে, প্রাচীন গ্রিসেও রূপচর্চায় শামুকের ব্যবহার হত। গ্রিক চিকিৎসক হিপোক্রেটিস ত্বকের জ্বালা কমাতে শামুক চূর্ণ করে, দুধের সঙ্গে মিশিয়ে মাখার পরামর্শ দিতেন। পরে ফ্রান্সেও নানা ধরনের ক্রিম ও লোশনে শামুকের দেহাংশ ব্যবহার হয়েছে।

এদিকে, এই স্পাতে শামুক-ফেসিয়াল যারা ইতিমধ্যেই করিয়েছেন, তারা কিন্তু এর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। কারও দাবি, তাদের মুখশ্রী আগের থেকে নরম, মোলায়েম হয়ে উঠেছে। কেউ আবার ত্বকের যৌবন ফিরে পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তবে সকলেরই মতে, সঙ্গে সঙ্গে এই ফেসিয়ালের ফল পাওয়া যাবে না। ধীরে ধীরে দীপ্তি ফুটবে ত্বকে। যদিও সত্যিই এই প্রাণীর চলাচল ত্বকের পক্ষে নিরাপদ কি না, তা এখনও পরীক্ষা করে দেখছেন তাই স্বাস্থ্য-বিশেষজ্ঞরা।

তবে তার আগেই থাইল্যান্ডের পাশাপাশি জাপান, চীন ও লন্ডনের স্পাগুলিতেও দিন দিন বাড়ছে শামুক-ফেসিয়ালের ব্যবহার।